নারদ মামলায় ফের জোর ধাক্কা খেল পশ্চিমবঙ্গ সরকার তথা তৃণমূল। সিবিআই তদন্ত বন্ধ করার আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এখনও তো প্রাথমিক রিপোর্টই জমা দেয়নি সিবিআই, তা হলে তদন্ত বন্ধ করানোর জন্য এত তাড়াহুড়ো কীসের? রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলের কৌঁসুলিদের প্রশ্ন করলেন প্রধান বিচারপতি জেএস খেহর। কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গের সরকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট রায় দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল রাজ্য সরকার। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশের প্রধান বিচারপতি। একটি রাজ্যের সরকার কী ভাবে এমন মন্তব্য করতে পারে? প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রাজ্য সরকারের কৌঁসুলিকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

কলকাতা হাইকোর্ট দিনকয়েক আগেই নারদ কাণ্ডের সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। রায়ের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়ের বিরোধিতা করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, সুবিচার হয়নি বলেই তিনি মনে করছেন। রাজ্য সরকার এবং তৃণমূল এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবে বলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন। কথা মতো সোমবারই সুপ্রিম কোর্টের দরজায় হাজির হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল। আজ, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট সেই মামলার শুনানি গ্রহণ করে। দু’ঘণ্টার সওয়াল-জবাবে রাজ্য সরকারকে ঘোর অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়। রাজ্য সরকারের আবেদনে জানানো হয়েছিল, কলকাতা হাইকোর্ট পক্ষপাতিত্ব করছে। এর প্রেক্ষিতে দেশের প্রধান বিচারপতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৌঁসুলিকে প্রশ্ন করেন, একটা রাজ্য সরকার কী ভাবে হাইকোর্টকে পক্ষপাতদুষ্ট বলতে পারে? প্রধান বিচারপতির তোপের মুখে পড়ে রাজ্য সরকারের কৌঁসুলি জানান, তিনি মন্তব্যটি প্রত্যাহার করতে চান। প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, শুধু প্রত্যাহার করলে হবে না, হাইকোর্ট সম্পর্কে এমন মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চাইতে হবে। রাজ্য সরকারের কৌঁসুলি সে নির্দেশ মেনে নেন।

আরও পড়ুন: ম্যাথুর দাবিতে তোপে কে ডি সিংহ

সিবিআই তদন্তে স্থগিতাদেশ দিতেও সুপ্রিম কোর্ট রাজি হয়নি। সিবিআই এখনও প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্টই জমা দেয়নি। ফলে কারও বিরুদ্ধে এফআইআর বা আইনি পদক্ষেপও এখনও হয়নি। তা সত্ত্বেও সিবিআই তদন্ত রুখতে এত তৎপরতা কীসের? প্রশ্ন করেন প্রধান বিচারপতি জেএস খেহর। মামলাকারীদের তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার জন্য এখনও অনেক সময় পড়ে রয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া এগনোর পর যদি মনে হয় যে সিবিআই উদ্দেশ্য প্রণোদিত পদক্ষেপ করছে, তা হলে সুপ্রিম কোর্টে আসা যেতে পারে। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের যে নির্দেশ দিয়েছে, সেই নির্দেশ কোনও ত্রুটি নেই, ফলে নির্দেশ বহাল থাকছে। জানিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

রাজ্য সরকারের আবেদন সুপ্রিম কোর্ট খারিজ তো করলই, হাইকোর্টে সম্পর্কে বেফাঁস মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চাইতে বলল। —ফাইল চিত্র।

কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআইকে বলেছিল, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নারদ কাণ্ডের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট সেই সময়সীমা এ দিন বাড়িয়ে দিয়েছে। মামলাকারীদের প্রশ্ন ছিল, এত দ্রুত প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ কেন? সুপ্রিম কোর্ট মামলাকারীদের এই সওয়ালের যৌক্তিকতা মেনে নেয় এবং জানিয়ে দেয়, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এক মাসের মধ্যে জমা দিলেই হবে। যদি আরও সময় প্রয়োজন হয়, তা হলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে সময় চাইতে পারে সিবিআই। এতে অবশ্য সিবিআই-এর সুবিধাই হল, মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তড়িঘড়ি রিপোর্ট তৈরি করা তদন্তকারীদের পক্ষে কঠিন হত। এক মাস সময় পাওয়ায় সিবিআই-এর কাজ আরও সহজ হল বলেই অনেকে মনে করছেন