ঘড়ি ও রেডিয়োর পর এ বার টিভি। স্মার্টফোনের দাপটে ধীরে ধীরে অবলুপ্তির পথে যাচ্ছে আরও একটি ডিভাইস? এই জল্পনাকে কেন্দ্র করে টেক দুনিয়ায় পড়ে গিয়েছে শোরগোল। বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, আগামী ১০ বছরের মধ্যেই পৃথিবীর বুক থেকে মুছে যাবে টিভি। সেই জায়গার স্মার্টফোনেই যাবতীয় কাজ সারবেন ব্যবহারকারীরা।
গত বছর (২০২৫ সাল) বাজারে আসা টিভির সংখ্যা ছিল ৭৫ কোটি। সেটাই ২০২৬ সালে কমে ৭৪ কোটি ১০ লক্ষে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের দাবি, এই সংখ্যা ক্রমশ নীচের দিকে নামছে। কারণ, আগের মতো আর টিভি দেখতে চাইছে না আমজনতা।
বিশেষজ্ঞদের কথায়, টিভি ব্যবহারের বেশ কিছু অসুবিধা রয়েছে। যেমন এটা নিয়ে এ দিক-সে দিক ঘোরা যায় না। ডিভাইসটা এতটাও ছোট নয় যে যখন ইচ্ছা ব্যবহার করা যাবে। সেই কারণেই টিভির প্রতি দিন দিন কমছে আকর্ষণ। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে স্মার্টফোনের চাহিদা। সেখানে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি।
দ্বিতীয়ত, টিভির উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল না ব্যবহারকারীর। এতে শুধুমাত্র রিমোট হাতে পেয়ে থাকেন তিনি। স্মার্টফোনে বিকল্প অনেক বেশি। গ্রাহক ইচ্ছা করলেই ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের মতো সমাজমাধ্যমে ঘোরাফেরা করতে পারেন। ইউটিউবে ভিডিয়ো দেখার রয়েছে সুযোগ। আবার হোয়াট্সঅ্যাপে কারও সঙ্গে চ্যাটও করতে পারছেন গ্রাহক।
টিভির ক্ষেত্রে কোনও অনুষ্ঠান সম্প্রচারের সময়েই দেখতে হয় ব্যবহারকারীকে। সেখানেও অনেকটা এগিয়ে স্মার্টফোন। মুঠোবন্দি ডিভাইসে নিজের পছন্দের অনুষ্ঠান ডাউনলোড করে রাখার সুবিধা রয়েছে। পরে অবসর সময় সেটা দেখে নিতে পারছেন তিনি।
যদিও বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, ধনকুবের শিল্পপতি থেকে বহু তারকার টিভি অবলুপ্ত হওয়ার ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে। কারণ, আমজনতার হাতে যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ চলে যাক, সেটা চাইছেন না তাঁরা। তার পরেও ডিভাইসটি আদৌ বেঁচে থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।