জীবনে ওঠা-পড়া ছিল, আছে, থাকবে। তবে আনন্দ উপভোগ করতে হয় তার মধ্যেই। ২৫ বছরের বিবাহবার্ষিকীতে বলিউড দম্পতি অক্ষয় কুমার এবং টুইঙ্কল খন্না পাখির মতো উড়লেন আকাশে। প্যারাগ্লাইডিংয়ের স্বপ্নপূরণ করলেন দু’জনেই। আকাশে ওড়ার রোমাঞ্চ, খুশি ছড়িয়ে পড়েছে যুগলের মুখে। জীবনের এই যৌথ উদ্যাপনের মুহূর্তগুলি ভিডিয়ো করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন অভিনেতা অক্ষয় কুমার। কোন জায়গা থেকে প্যারাগ্লাইডিং উপভোগ করেছেন যুগল, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি।
তবে চাইলে অক্ষয়-টুইঙ্কলের মতো প্যারাগ্লাইডিং উপভোগ করতে পারেন আপনিও। জীবনের বিশেষ দিনগুলিতে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে রোমাঞ্চ উপভোগ করতে চাইলে কোথায় যাবেন?
বীর বিলিং, হিমাচল প্রদেশ: হিমাচল প্রদেশের বীর বিলিংকে বলা হয় ‘প্যারাগ্লাইডিং রাজধানী’। এই জায়গাটি প্যারাগ্লাইডিংয়ের জন্য ভীষণ জনপ্রিয়। আকাশে ওড়া এবং নামার আদর্শ পরিবেশ রয়েছে এখানে। বীর বিলিংয়ের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে ধৌলধার পর্বতমালা। আকাশ থেকে তুষারাবৃত পর্বতশৃঙ্গ এবং কাংড়া উপত্যকার নৈসর্গিক রূপ আজীবন মনে রয়ে যাবে। জুলাই, অগস্টের সময়টুকু বাদ দিলে, আকাশ পরিষ্কার থাকলে সারা বছরই প্যারাগ্লাইডিং করা যায়।
কামশেত, মহারাষ্ট্র: মহারাষ্ট্রের কামশেত প্যারাগ্লাইডিংয়ের স্বর্গরাজ্য। পূর্বঘাট পর্বতমালার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় এখান থেকে। পাহাড় এখানে বিশেষ উঁচু নয়। অবতরণেরও যথেষ্ট জায়গা আছে। জায়গাটি মুম্বই এবং পুণের কাছে হওয়ায় পর্যটক মহলে জনপ্রিয়। এখানে রয়েছে প্যারাগ্লাইডিং প্রশিক্ষণের স্কুলও। আগ্রহ থাকলে এখানে বিভিন্ন রকম কোর্স করতে পারেন। অক্টোবর থেকে মে মাস, প্যারাগ্লাইডিংয়ের জন্য আদর্শ।
প্যারাগ্লাইডিংয়ের স্বপ্নপূরণ করতে কোথায় যাবেন? ছবি:সংগৃহীত।
সোলাং ভ্যালি, হিমাচল প্রদেশে: হিমালচল প্রদেশের বিভিন্ন প্রান্তেই প্যারাগ্লাইডিং হয়। সোলাং ভ্যালিতেও অ্যাডভে্ঞ্চার স্পোর্টস উপভোগের সুযোগ রয়েছে। এখানে প্যারাগ্লাইডিং করলে থেকে পির-পাঞ্জাল শৃঙ্গ অনেকটা কাছ থেকে দেখার সুযোগ মেলে। বর্ষা বাদ দিয়ে যে কোনও সময়ই আকাশ পরিষ্কার থাকলে প্যারাগ্লাইডিং করা যায়।
ডেলো, পশ্চিমবঙ্গ: পশ্চিমবঙ্গের কালিম্পং জেলার ডেলো পাহাড় থেকে প্যারাগ্লাইডিং করানো হয়। সামনেই রয়েছে ডেলো পার্ক। বেশ কিছুটা চড়াই পার করলে পৌঁছোনো যায় পাহাড়ের মাঝে সমতল জায়গায়। পাহাড়ের সেই অংশটি কিছুটা মাঠের মত প্রশস্ত। সেখান থেকেই প্যারাগ্লাইডিং করানো হয়। মিনিট দশেক আকাশে ওড়ার সুযোগ থাকে। আকাশ ঝকঝকে থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হয় এখান থেকে।
নৈনিতাল, উত্তরাখণ্ড: কুমায়ুন হিমালয় দর্শনের জন্য পর্যটকেরা যান নৈনিতালে। তাল মানে হ্রদ। নৈনিতালে রয়েছে তেমনই এক হ্রদ। প্যারাগ্লাইডিং হয় নৈনিতাল এবং সেখান থেকে খানিক দূরে ভীমতালেও। ২০০০ ফুট উচ্চতায় প্যারাগ্লাইডিংয়ের সুযোগ মেলে। এখান থেকে দেবদারু, পাইন গাছে ঢাকা পাহাড়ি উপত্যকা, হ্রদ দৃশ্যমান হয়। উচ্চতা এবং কত ক্ষণ আকাশে ওড়ানো হবে, তার উপর নির্ভর করে খরচের অঙ্ক।