আকাশছোঁয়া পর্বত, বয়ে চলা নদী, মেঘ-কুয়াশার হাত ধরাধরি। কনকনে ঠান্ডায় প্রকৃতির সেই রূপেই বিভোর হলেন বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকর। ঘুরে দেখলেন সিকিম।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সিকিমের খ্যাতি বিশ্বজনীন। উত্তর, পূর্ব কিংবা পশ্চিম— সিকিমের প্রতিটি প্রান্তই সুন্দর। তুষারশুভ্র পর্বত শিখর, পাহাড়ের উঁচুতে অবস্থিত হ্রদ, মন ভোলানো উপত্যকার টানে প্রতি বছর এখানে আসেন দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা। সেই তালিকায় এবার নাম লেখালেন ভূমি পেডনেকর। ‘বাধাই দো’-র অভিনেত্রী শুধু ঘুরলেন না, সেই ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্টও করলেন। প্রতিটি ছবিতে ভূমির অভিব্যক্তি বলে দিচ্ছিল প্রকৃতির সংস্পর্শে তিনি ঠিক কতটা খুশি, কতটা উপভোগ করছেন।
সিকিমের রাস্তায় ভূমি পেডনেকর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
ভূমি লিখেছেন সিকিমের স্মরণীয় অভিজ্ঞতার কথা। জানিয়েছেন পাহাড়ের মাথায় হিমবাহগলা জলে পুষ্ট ছাঙ্গু হ্রদের সৌন্দর্য কেমন মন মাতাল করা। ছাঙ্গু ঘুরে তিনি গিয়েছিলেন ভারত-চিন সীমান্তে অবস্থিত নাথুলায়। ১৪ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এই স্থান থেকে খুব কাছেই চিন। দেখা যায় চিনের অংশবিশেষ। এখানে ভারতীয় সৈনিকদের সঙ্গে দেখা করেন, কথা বলেন তিনি। তার পরে ঘুরে দেখেন বাবা মন্দির। শহিদ হরভজন সিংহের নামাঙ্কিত এই মন্দিরটি সৈনিকদের কাছে অত্যন্ত আবেগের স্থান।
ছাঙ্গুর পাশে ভূমি। ছবি:সংগৃহীত।
ভূমি যে জায়গাগুলি ঘুরেছেন সেগুলি পূর্ব সিকিমের অংশ। ভূমির মতো সেখানে যেতে চাইলে, কী ভাবে সাজাবেন সফর? কী কী দর্শনীয় স্থান রয়েছে সেখানে?
গ্যাংটক
পূর্ব সিকিম নানা ভাবে ঘোরা যায়। তবে সুবিধা হয় সফরটি গ্যাংটক থেকে শুরু করলে। সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক। জনবহুল একটি সুন্দর শহর। গ্যাংটক থেকে ছাঙ্গু, নাথুলা, বাবা মন্দির, কুপূপ হ্রদ এক দিনে ঘুরে গ্যাংটকে ফেরা যায়। ছাঙ্গু, নাথুলা যাওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা আগে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অনুমতি নিতে হয়।
ছাঙ্গু
সিকিমের ছাঙ্গু হ্রদ। —নিজস্ব চিত্র।
ভূমির সফর শুরু হয়েছিল ছাঙ্গু হ্রদ দিয়ে। পাহাড় ঘেরা, হিমবাহ গলা জলে পুষ্ট হ্রদটি ১২,৩১৩ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। শীতে হ্রদের চারপাশ ঢেকে যায় বরফে। বছরভরই এখানে ঠান্ডা থাকে। তবে জানুয়ারিতে অনেক সময়ে হ্রদও বরফে জমে যায়। ছাঙ্গুর আশপাশে চমরী গাইতে চেপে ছবিও তোলেন অনেকে। ছবিতে রয়েছে রোপওয়ে।
নাথুলা
নাথুলার এক ঝলক। —নিজস্ব চিত্র।
ছাঙ্গুর চেয়েও বেশি উচ্চতায় থাকা নাথুলা যেতে হলে যে কোনও নাগরিকেরই অনুমতির প্রয়োজন হয়। অধিক উচ্চতার জন্য এখানে প্রায় সারা বছরই কনকনে ঠান্ডা থাকে। ভূমি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেছেন, একসময়ে রেশমপথেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নাথুলা। কয়েক শতাব্দী আগে রেশমপথে ভারতের সঙ্গে তিব্বতের বাণিজ্যিক আদান-প্রদান চলত এই পথেই।
বাবা হরভজন সিংহ মেমোরিয়াল
বাবা মন্দিরে বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকর। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
বাবা হরভজন সিংহ মেমোরিয়াল এবং মন্দির ঘুরে ভূমি সেই দিনের সফর শেষ করেন। হরভজন সিংহকে নিয়ে কিছু বিশ্বাস রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। ২৩তম পঞ্জাব রেজিমেন্টের সৈনিক ছিলেন তিনি। ১৯৬৮ সালে নাথুলার দুর্গম স্থানে তিনি প্রাণ হারান। ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং স্থানীয়দের গভীর বিশ্বাস হরভজন মৃত্যুর পরেও সীমান্তে নিয়োজিত ভারতীয় সৈনিকদের রক্ষা করে চলেছেন। বিপদে পড়লে তিনি দেখাও দেন।
হরভজন সিংহের মূর্তি। ছবি:সংগৃহীত।
পাহাড়ি উপত্যকায় মেমোরিয়ালের পাশাপাশি হরভজনের নামে মন্দিরও আছে। যেটি বাবা মন্দির বলে পরিচিত। সেখানে হরভজনের ছবি এবং তাঁর ব্যবহৃত জিনিসপত্র সযত্নে রাখা রয়েছে।
ভূমি এখানেই তাঁর সফর শেষ করেছিলেন। তবে চাইলে এই সফর আরও লম্বা করা যায়। গ্যাংটক থেকে একদম সকালে যাত্রা শুরু করলে বাবা মন্দির ঘুরে চলে যেতে পারেন নাথাং ভ্যালি হয়ে জ়ুলুখ। এটি হল পুরনো রেশম পথ। এখানকার সর্পিলাকার পাহাড়ি রাস্তার সৌন্দর্যের টানেই দূরদূরান্ত থেকে আসেন পর্যটকেরা। রাত্রিবাস করা যায় নাথাং কিংবা জ়ুলুখে। রেশম পথে আরও কিছু ছোট ছোট সুন্দর গ্রাম রয়েছে যেগুলি পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নির্জনতার সন্ধান চাইলে পদমচেন, আগমলোকের মতো জায়গাগুলিও ঘুরে দেখতে পারেন।