কাতারে আমেরিকা-ইরান বৈঠক নিয়ে বিভ্রান্তি তুঙ্গে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের দ্বিতীয় দফার বৈঠক হতে চলেছে। কিন্তু এমন কোনও বৈঠকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয় ইরান। সোমবার হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনার কাতারে যাচ্ছেন। ঘটনাচক্রে, প্রায় একই সময়ে কাতারে প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছে ইরানও। যদিও তেহরানের দাবি, ওই বৈঠকের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের কাতারে যাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই সে দেশের সংবাদসংস্থা ‘ফার্স নিউজ়’-কে বলেছেন, “মার্কিন প্রতিনিধিদের কাতারে যাওয়ার সঙ্গে আমাদের প্রতিনিধিদলের সেখানে যাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই।” আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তি সমঝোতা বা মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার রূপায়ণের বিষয়টি খতিয়ে দেখতেই তেহরানের প্রতিনিধিদল কাতারে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বাঘেইয়ের সংযোজন, “আমরা চূড়ান্ত চুক্তির জন্য (আমেরিকার সঙ্গে) এখনও কোনও বোঝাপড়া শুরু করিনি। কারণ সমঝোতাপত্রের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে অনুচ্ছেদ ১, ৪, ৫, ১০ এবং ১১-র বাস্তবায়ন শুরু হলে এই বিষয়ে বোঝাপড়া শুরু করা হবে।”
আরও পড়ুন:
সোমবার বিকেলে (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) সমাজমাধ্যমে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের কথা ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘‘একটা বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছিল ইরান। সেই বৈঠক মঙ্গলবার (৩০ জুন) দোহায় অনুষ্ঠিত হবে।’’ বৈঠকের জন্য অনুরোধ করার বিষয়টি উড়িয়ে দেয় ইরান। এর পাশাপাশি ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানান, এই সপ্তাহে কাতারে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কোনও পরিকল্পনা নেই তাঁদের।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিল পেন্টাগন। পরে সেই যুদ্ধে যোগ দেয় ইজ়রায়েলও। পাল্টা হামলার পথে হাঁটে ইরান। পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরানের সেনাবাহিনী। অশান্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম এশিয়া। একই সঙ্গে হরমুজ় প্রণালীও অবরুব্ধ হয়ে যায়। মাসখানেকের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলার পর আমেরিকা এবং ইরান, দু’পক্ষই সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়। কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে আলোচনায় বসে দুই দেশ।
গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতি সমঝোতা সংক্রান্ত ‘মউ’ সই হওয়ার পরে উত্তেজনার কিছুটা প্রশমন হয়। তবে গত চার দিনে বার বার অশান্ত হয়ে ওঠে পশ্চিম এশিয়া। গত বৃহস্পতিবার হরমুজ়ের কাছে ওমান উপকূলে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজ আক্রান্ত হয়। আমেরিকার দাবি, ইরান ওই জাহাজে হামলা চালিয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে ইরান পাল্টা এই হামলার দায় চাপায় মার্কিন বাহিনীর উপর। আমেরিকা তার জবাবে ইরানের বেশ কিছু ঘাঁটি লক্ষ্য করে বোমা ফেলেছিল। পাল্টা পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিকে নিশানা করেছিল তেহরানও। কুয়েত এবং বাহরিনে তারা বোমাবর্ষণ করেছিল। শনিবার পর্যন্ত গোলাগুলি চলে। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপের ‘খেলায়’ নেমেছে। চলছে বাগ্যুদ্ধও। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশই পরখ করে নিতে চাইছে বিপক্ষের ‘ক্ষমতা’। ছোটখাটো হামলার ঘটনা ঘটলে আমেরিকা বা ইরান, কেউই অদূর ভবিষ্যতে পুরোদমে যুদ্ধে নামতে চাইবে না। তবে নরমে-গরমে উত্তেজনা রেখে যেতে চাইছে দুই দেশই। অনেকের মতে, একে অপরের বিরুদ্ধে চাপ কৌশলের চেষ্টার অংশ। আপাতত দুই দেশ আবার সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করা হয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে প্রথম দফার শান্তি আলোচনা বসেছিল সুইৎজ়ারল্যান্ডের বারগেনস্টকে। ট্রাম্পের দাবি মোতাবেক, দ্বিতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল কাতারের দোহায়। কিন্তু এমন বৈঠকের কথা স্বীকারই করল না ইরান। প্রতিনিধিদলের কাতার সফরের কথা জানিয়েও বলা হল যে, তারা বৈঠকে যোগ দিতে সে দেশে যাচ্ছে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
‘আমাদের হাতে ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের অবস্থাও হত গাজ়ার মতো’! দাবি পেজ়শকিয়ানের, নিশানায় আমেরিকা
-
‘ভুল, খুব ভুল করছে’! ইরানকে ফের কী নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প? শান্তিবৈঠক বন্ধ করার হুমকিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের
-
হিজ়বুল্লা-নিধনে ইজ়রায়েল হামলা চালিয়ে গেলেও ‘স্পিকটিনট’! ৩০০০০ কোটি ডলারে ইরানের মুখ বন্ধ করল আমেরিকা?
-
‘পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই’! যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রকাশে দেরি নিয়ে প্রশ্নে মজাচ্ছলেই খোঁচা ভান্সের
-
হিজ়বুল্লার সঙ্গে ‘যুদ্ধবিরতি’ জানিয়েও ফের ইজ়রায়েলি হানা লেবাননে! শান্তিচুক্তিতে নারাজ নেতানিয়াহুর কৌশল কী?