একটি মামলার রায়ে ক্ষমতা বাড়ল, আবার অন্য মামলার রায়ে ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই দিনে ভিন্ন ভিন্ন মামলায় রায়ে ট্রাম্পের স্বস্তি-অস্বস্তি দুই ছবি দেখা গেল মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে।
যৌন নির্যাতন এবং মানহানির দু’টি মামলায় জোড়া ধাক্কা খেয়েছেন ট্রাম্প। অন্য দিকে, ভিন্ন এক মামলায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, আমেরিকার ফেডারেল সংস্থাগুলির প্রধানের পদে আসীন কর্তাকে অপসারণ করতে পারবেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট। তবে আদালত কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রেখেছে।
সোমবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি মামলার রায়ে ট্রাম্পের ক্ষমতা বেড়েছে। নীতিগত মতবিরোধের জেরে ডেমোক্র্যাটের সদস্য রেবেকা কেলি স্লটারকে ফেডারেল ট্রেড কমিশনের কমিশনারের পদ থেকে অপসারণ করেন ট্রাম্প। তাঁর এই সিদ্ধান্ত আদালত পর্যন্ত গড়ায়। প্রশ্ন ওঠে, এ ভাবে ফেডারেল সংস্থার প্রধানের পদ থেকে অপসারণ করা যায় কি?
মার্কিন আইন অনুযায়ী, অযোগ্যতা বা অসদাচারণের মতো কারণ ছাড়া ফেডারেল সংস্থার কোনও কমিশনার বা প্রধানকে পদ থেকে অপসারণ করা যায় না। সেই আইনের কারণে রেবেকাকে বরখাস্ত করা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই সংক্রান্ত মামলায় ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সুপ্রিম কোর্টের রায় ট্রাম্পের পক্ষে যায়। আদালত জানায়, কমিশনারকে অপসারণের ক্ষেত্রে যে আইনি সুরক্ষা আছে, তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে। মার্কিন সংবিধানের সঙ্গে এই সীমাবদ্ধতা কখনওই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ছ’জন বিচারপতি মনে করেন, রাজনৈতিক কারণে ফেডারেল সংস্থার প্রধানকে যে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে, তা অযৌক্তিক। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে, যার বলে তিনি অপসারণ করতে পারেন। যদিও তিন বিচারপতি এতে সহমত হতে পারেননি। তাঁদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের স্বাধীন সরকারি কমিশন প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
রায়ে ব্যতিক্রমের কথাও উল্লেখ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজ়ার্ভের ক্ষেত্রে এই রায় কখনওই প্রযোজ্য হবে না।
অন্য দিকে, একই দিনে এক পত্রিকার কলম লেখক ই জিন ক্যারলের দায়ের করা জোড়া মামলায় ধাক্কা খেয়েছেন ট্রাম্প। ক্যারল ২০১৯ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ২০২২ সালে আবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন এবং মানহানির অভিযোগ তুলে মামলা করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় মামলাটি আগে বিচারের জন্য উঠেছিল। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পকে ৫০ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়। অন্য এক আদালতে ওঠে ক্যারলের ২০১৯ সালের দায়ের করা মামলাটি। সেই মামলাতেও ধাক্কা খান ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে রায় দেয় জুরি। সেই মামলায় ৮৩ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয় ট্রাম্পকে। সুদ-সহ সব মিলিয়ে ক্যারলকে এক কোটি ৩৩ লক্ষ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে তাঁকে।
আরও পড়ুন:
ক্যারলের আইনজীবী রবার্ট কাপলান জানান, নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাম্প তাঁর মক্কেলকে যৌন নিপীড়ন এবং মানহানি করেছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের একাধিক আবেদন বার বার খারিজ হয়ে গিয়েছে। রবার্টের কথায়, ‘‘নিজের কৃতকর্মের ফল এড়াতে ট্রাম্পের সব চেষ্টার অবসান ঘটল।’’
২০২২ সালের মামলায় ক্যারল অভিযোগ করেছিলেন, ’৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউ ইয়র্কের একটি দোকানে তাঁকে যৌন নির্যাতন করেন ট্রাম্প। পরে তিনি অভিযোগ করলে ট্রাম্প দাবি করেন, নিজের বইয়ের বিক্রি বৃদ্ধির জন্য এমন কথা বলছেন ক্যারল। মামলায় ট্রাম্পের সেই দাবির কথা তুলে মানহানির অভিযোগ করেন তিনি।
ট্রাম্প বার বার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এমনকি নিম্ন আদালতের বিচারকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দেওয়ানি মামলা ছিল জেলা বিচারক লুইস কাপলানের অধীনে। ট্রাম্পের দাবি, বিচারক লুইস বহু ভুল করেছেন। তিনি জুরির সামনে এমন সব সাক্ষীর উপস্থিত হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন, যা তাঁর বিরুদ্ধে যায়। পাশাপাশি ২০০৫ সালের একটি অডিয়ো রেকর্ডের বিষয়ও উঠে আসে। দাবি, ওই বিতর্কিত রেকর্ডে ট্রাম্পকে মহিলাদের গায়ে হাত দেওয়া এবং চুমু খাওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। যদিও সেই অডিয়োর সত্যতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তুলেছিলেন ট্রাম্প।