E-Paper

বিধায়কের লেটারহেডে প্রতিনিধি হিসাবে শংসাপত্র, উঠছে প্রশ্ন

সরকার বদলের পরে ভেঙে গিয়েছে বিধাননগর পুর বোর্ড। প্রশাসক বসিয়ে কাজ চলছে সেখানে।

প্রবাল গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ০৬:৫০
এই শংসাপত্র ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

এই শংসাপত্র ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত।

রাজ্যে পালাবদলের পরে অনেকেই প্রকাশ্যে নিজেকে শাসকদল ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করতে শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে বিধাননগরের বিধায়ক তথা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় দুই প্রতিনিধির নামে শংসাপত্র তৈরি করেছেন। আর এই বিষয়টি নিয়েই শুরু হয়েছে চাপানউতোর।

প্রসঙ্গত, সরকার বদলের পরে ভেঙে গিয়েছে বিধাননগর পুর বোর্ড। প্রশাসক বসিয়ে কাজ চলছে সেখানে। এই অবস্থায় বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের সল্টলেক ও লেক টাউন এলাকার জন্য যথাক্রমে আশিস শেওরায়ান ও অতীন রায় নামে দু’জনকে তাঁর প্রতিনিধি হিসাবে চিহ্নিত করে শংসাপত্র তৈরি করেছেন শারদ্বত। তাঁর লেটারহেডে আশিসের নাম সুপারিশ করা শংসাপত্রে লেখা আছে, তিনি বিধায়কের তরফে পুলিশ, পুরসভা, থানার সর্বোচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলবেন। যাতে পুরসভা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কাজকর্ম ঠিক ভাবে পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে, শংসাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজেপির কর্মী পরিচয়ে অনেকে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এমন লোকেরা যাতে বিধায়ক-ঘনিষ্ঠ দাবি করে কোনও সুবিধা না নিতে পারেন, সেই কারণেও বিধায়ক দু’জনকে নিজের প্রতিনিধি হিসাবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন।

যদিও সরকারি লেটারহেডে এ ভাবে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সরকারি কাজের দায়িত্ব দেওয়া যায় কিনা, সেই প্রশ্ন উঠছে। বিধায়কের এই পদক্ষেপ পুরো ঠিক নয় বলে মনে করছেন আইনজীবীদের অনেকেই। আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘‘সরকারি কাজে অনেক ধরনের গোপনীয়তা থাকে। তা রক্ষা করার দায় জনপ্রতিনিধির। তাই এই ধরনের কাজে এক জনকে সরকারি ভাবে নিয়োগ করা প্রয়োজন। না হলে দ্রুত কাজ করার সদিচ্ছাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।’’

শারদ্বতের অবশ্য ব্যাখ্যা, আশিস বা অতীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী হবেন না। তাঁরা শুধু সরকারি মহল থেকে নির্দিষ্ট সমস্যাটি বিধায়ককে জানাবেন এবং বিধায়কের সিদ্ধান্ত সরকারি মহলে পৌঁছে দেবেন।

কে এই আশিস শেওরায়ান? অতীন রায়েরই বা পরিচয় কী? বিধাননগরের রাজনৈতিক মহলের খবর, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট পর্যন্ত দু’জনেই ছিলেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তের অতি ঘনিষ্ঠ। সব্যসাচী তৃণমূল ও বিজেপি— দু’দলে থাকাকালীন আশিস ও অতীন ছিলেন তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দুই সঙ্গী। আশিস আদতে ব্যবসায়ী। অতীন বাঙুর এলাকার নেতা মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্যের ছায়াসঙ্গী। মৃগাঙ্কও ২০২১ সালের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছিলেন। তবে২০২১-এ বিধাননগর থেকে বিজেপির হয়ে বিধানসভা ভোটে হারার পরে সব্যসাচী তৃণমূলে ফিরে গেলেও আশিস, অতীন, মৃগাঙ্কেরা বিজেপিতেই থেকে যান।

সম্প্রতি অন্য অনেক জায়গার মতো বিধাননগরেও আদি ও নব্য বিজেপির মধ্যে রেষারেষি শুরু হয়েছে। গোটা বিষয়টি সম্পর্কে শারদ্বতের দাবি, ‘‘আশিস ও অতীন আমার হয়ে প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় সাধন করছেন। কারণ, দেখা যাচ্ছে, অনেকেই প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে নিজেদের বিধায়কের লোক বলে পরিচয় দিচ্ছেন। এটি আশিস ও অতীনের নিয়োগপত্র নয়। ওঁরা আমাকে শুধু সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। আমি সমাধানসূত্র বার করছি। এখানে বিতর্কের জায়গা নেই।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bidhannagar

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy