হাত বাড়ালেই কাঞ্চনজঙ্ঘা

বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘাকে যাঁরা খুব কাছ থেকে দেখতে চান, রাজকীয় কাঞ্চনজঙ্ঘার চোখধাঁধানো সৌন্দর্যকে যাঁরা উপভোগ করতে চান একদম কাছে গিয়ে, তাঁদের অবশ্যই আসতে হবে এই পথে। যেতে হবে ইয়কসাম থেকে জোংরি হয়ে গোয়েচালা। অবশ্যই পায়ে হাঁটা পথে হবে এই রোমাঞ্চকর সফর।

গাড়ি রাস্তার শেষ ইয়কসামে। ইয়কসামেই করতে হবে রাত্রিবাস। হাতে সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন সিকিমের প্রথম চোগিয়াল রাজার অভিষেকস্থল, কাথ্‌থোগ লেক, দুবদি মনাস্ট্রি ইত্যাদি দর্শনীয় জায়গাগুলি। সকাল সকাল পুলিশ চেকপোস্টে ট্রেকিং-এর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র (ভোটার কার্ড, পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগে) পেলে, ট্রেকিংয়ের প্রথম দিনেই ইয়কসাম (৫৮৪০ ফুট) থেকে পৌঁছে যান সাচেন (উচ্চতা ৭১৮০ ফুট)। দূরত্ব ৮ কিলোমিটার, সময় লাগবে ৪-৫ ঘণ্টা। রাত্রিযাপন হবে তাঁবুতে। দ্বিতীয় দিনে সাচেন থেকে পৌঁছে যান ৭ কিলোমিটার দূরবর্তী সোকা-তে (উচ্চতা ৯৭৯০ ফুট)। সময় লাগবে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। তাঁবুতেই থাকা, তবে ট্রেকার্স হাটও আছে। এখানে চোখে পড়বে পান্ডিম, তিনচিনখাং, জোপুনো ইত্যাদি তুষারশৃঙ্গ। আছে ছোট্ট একটি গুম্ফাও, তেমনই ছোট এক জলাশয়ের পাশে। তৃতীয় দিনে ৬-৭ ঘণ্টায় ৯ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পৌঁছে যান জোংরি। উচ্চতা ১৩১২০ ফুট। রাত্রিযাপনের জন্য তাঁবু কিংবা ট্রেকার্স হাট, দুইই আছে।

চতুর্থ দিন ভোরে অন্ধকার থাকতেই বেরিয়ে পড়ুন। জোংরি টপ (উচ্চতা ১৩৭৭৮ ফুট) থেকে সূর্যোদয়ের অসাধারণ দৃশ্য দেখতে হবে না? এক কিলোমিটার বেশ চড়াই রাস্তা পেরোতে সময় লাগবে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা। রবিরশ্মির প্রথম ছটায় রক্তিম হয়ে উঠবে কাঞ্চনজঙ্ঘা, কাবরু, রাথং, কুম্ভকর্ণ, জোপুনো, পান্ডিম সমেত এক বিস্তৃত তুষারশৃঙ্গশ্রেণি। ৩৬০ ডিগ্রি অবারিত দৃশ্যপটে অন্য দিকে দেখা যাবে সিঙ্গালিলা রেঞ্জও। জোংরি টপ থেকে জোংরি-তে ফিরে এসে বেরিয়ে পড়ুন থানসিং-এর পথে। পথে পড়বে কোক্‌চুরং, প্রেক-চু নদী ও অসামান্য নৈসর্গিক দৃশ্যাবলী। জোংরি থেকে থানসিং-এর (উচ্চতা ১২৯৪৬ ফুট) দূরত্ব দশ কিলোমিটার। যেতে সময় লাগবে ৬ ঘণ্টার মতো। থানসিং থেকে (বিশেষ করে থানসিং টপ থেকে) কাঞ্চনজঙ্ঘা ও পান্ডিমের (এখানে পান্ডিম যেন ঢিল ছোড়া দূরত্বে) দৃশ্য সত্যি অনবদ্য।

জোংরি টপ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা।

পঞ্চম দিনের হাঁটাটাই শুধু যা একটু বেশি। থানসিং থেকে ভোররাতে বেরিয়ে লামুনে, সমিতি লেক হয়ে পৌঁছতে হবে গোয়েচালা ভিউপয়েন্টে (উচ্চতা ১৫১০০ ফুট)। মোট দূরত্ব ১১ কিলোমিটার, যেতে সময় লাগবে ৬-৭ ঘণ্টা। কাঞ্চনজঙ্ঘা তার সমস্ত ঐশ্বর্য, সৌন্দর্য নিয়ে এখানে যেন একদম হাতের নাগালে। বিস্ময়কর, রোমাঞ্চকর এই দৃশ্য উপভোগ করুন পূর্ণমাত্রায়। তার পর একই পথে ফিরে আসুন থান্‌সিং। ষষ্ঠ দিন থান্‌সিং থেকে ৬-৭ ঘণ্টার হাঁটাপথে সোকায় পৌঁছে (দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার) রাত্রিবাস করুন সেখানেই। সপ্তম দিনে প্রায় ৬ ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ফিরে আসুন ইয়কসাম।

যাত্রাপথ

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ইয়কসামের দূরত্ব ১৫০ কিলোমিটার। পুরো গাড়ি রিজার্ভ করলে খরচ পড়বে ৪৫০০-৫৫০০ টাকা। এর পরের ব্যবস্থাপনা হল ট্রেকিংয়ের। সাত দিনের থাকা-খাওয়া (টেন্ট কিংবা ট্রেকার্স হাট), গাইড, মালপত্র বওয়ার জন্য পোর্টার ও ইয়াক— এই সব নিয়েই খরচ নির্ধারিত হয়। দলে সদস্যসংখ্যা ১০ বা তার বেশি হলে মাথাপিছু খরচ (সাত দিনের জন্য) পড়বে ১৫০০-২০০০ টাকা। আর সদস্য সংখ্যা দশের কম হলে মাথাপিছু খরচ হবে ২০০০-৩০০০ টাকা। রোমাঞ্চকর এই ট্রেকিংয়ের ব্যবস্থাপনার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন:

(ক) প্রহ্লাদ প্রধান: ৮৩৪৮৮১৩৮৪৫

(খ) জ্ঞানু রাই: ৭৪৩১৮১২০৯২

(গ) রাজা ছেত্রী: ৯৭৩৪৮৯০৫০৬

রাত্রিবাস                

ট্রেকিং চলাকালীন রাত্রিবাস হবে টেন্ট কিংবা ট্রেকার্সহাটে। ইয়কসামে রাত্রিবাস হবে হোটেল কিংবা হোমস্টে-তে।

(ক) ‘ওয়াং হোমস্টে’: দ্বিশয্যাঘরের প্রতি দিনের মাথাপিছু ভাড়া থাকাখাওয়া নিয়ে ৮০০ টাকা। যোগাযোগ: ৭৫৪৮০০৪৬৭৮

(খ) ‘হোটেল প্রধান’: দ্বিশয্যাঘরের ভাড়া ৫০০-৯০০ টাকা, চারশয্যা ঘরের ভাড়া ১১০০ টাকা, যোগাযোগ: ৯০৮৩০৯৫৯১১

জরুরি তথ্য

ইয়কসাম পুলিশ চেকপোস্টে অনুমতির জন্য ভোটার কিংবা আধার কার্ডের ফটোকপি (আসলটিও সঙ্গে রাখতে হবে) কপি জমা দিতে হবে। পাসপোর্ট সাইজ ছবি সঙ্গে রাখা ভাল (এমনিতে লাগে না, কিন্তু হঠাৎ চাইলে দরকার পড়বে)। কাঞ্চনজঙ্ঘা ন্যাশনাল পার্কের মধ্য দিয়ে গেছে পুরো হাঁটাপথ। পার্কের প্রবেশমূল্য মাথাপিছু ৩৫০ টাকা। জিওলিন জাতীয় জল-বিশুদ্ধকারক ওষুধ, পর্যাপ্ত শুকনো খাবার সঙ্গে রাখবেন ট্রেকিংয়ে।

পেলিং থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা।

পেলিং

পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি নাম। উচ্চতা ৬৮০০ ফুট। আপার, মিডল কিংবা লোয়ার পেলিং— যে কোনও জায়গা থেকেই দেখতে পাবেন সপার্ষদ কাঞ্চনজঙ্ঘাকে। তবে হোটেল, রেস্তরাঁ, দোকানপাট ইত্যাদির আধিক্যে এখন কিছুটা যেন ঘিঞ্জি হয়ে পড়েছে এ জায়গা।

গাড়ি ভাড়া করে দেখে নিন আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলি। ঐতিহ্যশালী পেমিয়াংশি গুম্ফা, সিকিমের দ্বিতীয় প্রাচীন রাজধানী রাবডান্‌ৎসে-র ধ্বংসাবশেষ, কাঞ্চনজঙ্ঘা ফল্‌স, ছাঙ্গে ও রিম্বি ঝর্না, খেচিপেরি লেক ইত্যাদি দেখা হয়ে যাবে একযাত্রাতেই। ইচ্ছে করলে গাড়িতে ঘুরে নিতে পারেন  তিন কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত সাঙ্গাচোলিং গুম্ফা। পেলিং এর দ্বিতীয় প্রাচীন গুম্ফা এটি। সম্প্রতি গুম্ফার পাশেই নির্মিত হয়েছে দেশের প্ৰথম কাঁচের তৈরি স্কাইওয়াক। পর্যটকরা এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির স্বাদ পাচ্ছেন এখানে এসে।১৩৭ ফুট উচ্চতার চেনরেজিগ মূর্তিটিও দেখবার মতো।

রাবডান্‌ৎসে-র ধ্বংসাবশেষ।

যাত্রাপথ

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে পেলিং-এর দূরত্ব ১৪০ কিলোমিটার। পুরো গাড়ি রিজার্ভ করলে ভাড়া পড়বে ৪০০০-৪৫০০ টাকা। কম খরচে আসতে চাইলে শিলিগুড়ি থেকে জোরথাং আসুন শেয়ার জিপে (ভাড়া মাথাপিছু ২০০ টাকা)। সেখান থেকে গাড়িভাড়া করে পৌঁছে যান পেলিং, ভাড়া পড়বে ১৮০০-২০০০ টাকা। জোরথাং থেকে গেজিং, গেজিং থেকে পেলিং, এই ভাবে শেয়ারজিপেও আসা যায়। এ ছাড়া, শিলিগুড়ি এসএনটি বাসস্ট্যান্ড থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় বাস ছাড়ে পেলিং-এর। ভাড়া মাথাপিছু ১৮০ টাকা। ফিরতি বাস পেলিং থেকে ছাড়ে সকাল ৭টায়। পেলিং-এ সাইটসিয়িং-এর গাড়িভাড়া পড়বে ২৫০০-৩০০০ টাকা।

রাত্রিবাস

প্রচুর হোটেল রয়েছে পেলিং-এ। যোগাযোগ করা যেতে পারে:

(ক) ‘নামসালিং রেসিডেন্সি’: দ্বিশয্যাঘরের ভাড়া ১৫০০ টাকা, ডিলাক্স দ্বিশয্যাঘরের ভাড়া ১৮০০ টাকা, ডিলাক্স ত্রিশয্যাঘরের ভাড়া ২১০০ টাকা, ফোন: ৯৭৩৩০৭৭৩৫৮, ৯৬০৯৮৫৩৮১৮

(খ) ‘হোটেল পাইন ভ্যালি’: দ্বিশয্যাঘরের ভাড়া ১৫০০-২২০০ টাকা, ত্রিশয্যাঘরের ভাড়া ২৮০০ টাকা, ফোন: ৯৯০৩৩২৫০৪৯, ৭০৬৩৫৯২৭০৭   

                                                                      

সিংশোর ব্রিজ।

বার্মিওক

৪০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত বার্মিওক পশ্চিম সিকিমের এক সুন্দর গ্রাম। ডেনটামগামী রাস্তার ধারেই অবস্থান এই গ্রামের। কাঞ্চনজঙ্ঘা ও অন্যান্য তুষারশৃঙ্গের চমৎকার দৃশ্য দেখা যায় বার্মিওক থেকে। গাড়িভাড়া করে সাইটসিয়িং-এ দেখে নিতে পারেন সিংশোর ব্রিজ, ডেনটাম চিজ ফ্যাক্টরি, সিরিজঙ্ঘা ঝর্না পবিত্র গুহা, মাংখিম মন্দির, হি-খোলা ওয়াটার পার্ক ইত্যাদি। প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতা থেকে নেমে আসা সিরিজঙ্ঘা ঝর্নাটি দেখতে গেলে গাড়িরাস্তা থেকে কিছুটা পথ হেঁটে যেতে হবে। পাহাড় ও ঘন জঙ্গলের মধ্যে লুকনো ঝর্নাটি দেখার মতো। পবিত্র গুহারও অবস্থান এখানে। কথিত আছে, গুরু সিরিজঙ্ঘা নাকি তাঁর সমস্ত অলৌকিক শক্তি এই গুহার একটি পাথরের মধ্যেই স্থাপন করেন।

যাত্রাপথ

পেলিং থেকে বার্মিওকের দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার, গ্যাংটক থেকে দূরত্ব ১৪০ কিলোমিটার, আর হি-পাতালের দূরত্ব ১১ কিলোমিটার। এনজেপি স্টেশন থেকে পুরো গাড়ি রিজার্ভ করে যদি আসতে চান ১৪০ কিলোমিটার দূরবর্তী বার্মিওকে, তবে খরচ পড়বে ৩৭০০-৪০০০ টাকা। তবে কম খরচে আসতে চাইলে, শিলিগুড়ি থেকে জোরথাং, আবার জোরথাং থেকে ডেন্‌টামগামী শেয়ারজিপ ধরেও পৌঁছতে পারেন এখানে।

রাত্রিবাস

‘হোটেল কাঞ্চনভিউ’: দ্বিশয্যাঘরের ভাড়া ১২০০-১৫০০ টাকা, ত্রিশয্যাঘরের ভাড়া ১৫০০ টাকা, স্যুইট ২০০০ টাকা। ফোন: ৯০৫১১৬৬৫৬৩, ৯৮৩০২৭১০৬৪

সিরিজঙ্ঘা ঝর্না।

উত্তরে

সবুজে মোড়া ছবির মতো গ্রাম এই উত্তরে। উচ্চতা ৭৬১০ ফুট। এখান থেকে তুষারশৃঙ্গ দেখা যায় না ঠিকই, কিন্তু এখান থেকে দু’দিনের হাঁটাপথে ফোকটেদাঁড়া পৌঁছনো যায়, যেখান থেকে শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘাই নয়, দেখা যায় মাউন্ট এভারেস্টও। সেই পথ আরও এগিয়ে সিঙ্গালিলা টপ হয়ে পৌঁছে যায় ফালুট ও সান্দাক্‌ফু-তে। তবে ট্রেকিং যাঁরা করবেন না, তাঁরা সাইটসিয়িং-এ দেখে নিতে পারেন লামিনী পোখরি, কাগ্‌ইয়ুদ মনাস্ট্রি, ট্রাউট মাছ প্রজননকেন্দ্র, মেইনবাস ফল্‌স ইত্যাদি। নজরকাড়া মেইনবাস ফল্‌স দেখতে গেলে অবশ্য গাড়ি থেকে নেমে ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে বেশ কিছুটা পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয়।

যাত্রাপথ

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরবর্তী উত্তরে যেতে গাড়িভাড়া (রিজার্ভ গাড়ি) পড়বে ৪৬০০-৫৫০০ টাকা। তবে শেয়ার জিপে শিলিগুড়ি থেকে জোরথাং এসে, জোরথাং থেকে উত্তরের শেয়ার জিপ (ভাড়া মাথাপিছু ৪০০ টাকা, তবে দুপুরের পর চলে না) ধরলে খরচ অনেকটাই কম হয়ে যায়।

রাত্রিবাস

(ক) ‘গ্রিন ভ্যালি রিসর্ট’:দ্বিশয্যাঘরের ভাড়া ১৬০০ টাকা, ত্রিশয্যাঘরের ভাড়া ১৮০০ টাকা, ডিলাক্স স্যুইট ৩০০০ টাকা, ডর্মিটরিতে প্রতি শয্যা ২০০ টাকা।

যোগাযোগ: শের বাহাদুর সুব্বা ৯৭৩৩০৮৪৯৯২, (০৩৫৯৫) ২৫৫২৫৮

(খ) ‘ওয়াং শেরপা হোমস্টে’: দ্বিশয্যা ও চারশয্যাবিশিষ্ট ঘরে প্রতি দিনের মাথাপিছু ভাড়া (থাকাখাওয়া নিয়ে) ৮০০ টাকা।

যোগাযোগ: ৭৫৪৮০০৪৬৭৮, ৮০১৬৫৮৯৭০২

রিনচেনপং মনাস্ট্রি।

রিনচেনপং

পর্যটকদের কাছে পশ্চিম সিকিমের এই পর্যটনকেন্দ্রটি বর্তমানে যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মূল কারণ একটাই। সপার্ষদ কাঞ্চনজঙ্ঘার এক চোখজুড়নো ছবি চোখে পড়ে এখান থেকে। উচ্চতা ৫৫৭৬ ফুট। আশপাশেও আছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। গাড়িভাড়া করে দেখে নিতে পারেন সেগুলিও। রিনচেনপং মনাস্ট্রি, পয়জন লেক, ব্রিটিশ আমলের ডাকবাংলো, প্রাচীন লেপচা হাউজ (হেরিটেজ হাউজ), রবীন্দ্র স্মৃতিবন, ফার্মহাউস ইত্যাদি দ্রষ্টব্যগুলি দেখে নিন সময় নিয়ে। ইচ্ছে করলে চড়াইপথে পায়ে হেঁটে পৌঁছে যেতে পারেন ৬৩০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত রিশম মনাস্ট্রি-তে। মনাস্ট্রি চত্বর থেকেও তুষারশৃঙ্গরাজির এক চমৎকার ছবি দেখতে পাবেন। রিনচেনপং মনাস্ট্রির ‘অতিবুদ্ধ’ মূর্তিটি দেখতে ভুলবেন না। সত্যিই অভিনব এই মূর্তি।

যাত্রাপথ

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে রিনচেনপং-এর দূরত্ব ১২৫ কিলোমিটার। পুরো গাড়ি রিজার্ভ করলে খরচ পড়বে ৩৫০০-৩৭০০ টাকা। তবে শেয়ার জিপে শিলিগুড়ি থেকে জোরথাং এসে, সেখান থেকে ডেন্‌টাম বা উত্তরের শেয়ার জিপেও আসতে পারেন। অনেকটাই কম খরচ হবে এ ক্ষেত্রে।

প্রাচীন লেপচা হাউজ।

রাত্রিবাস

(ক) ‘হোটেল ল্যান্ডস্কেপ’: দ্বিশয্যাঘরের ভাড়া ১৪০০ টাকা, ডিলাক্স দ্বিশয্যাঘরের ভাড়া ১৫০০-১৮০০ টাকা, যোগাযোগ: ৯৮৭৪৪৪৬১৭২

(খ) ‘হোটেল রয়্যাল দেওয়াচেন’: দ্বিশয্যাঘরের ভাড়া ১৫০০-২৮০০ টাকা, যোগাযোগ: ৭৯৮০৬১১৪২৫

জরুরি তথ্য

সিকিমের যে কোনও জায়গায় ঘোরার জন্য গাড়ি, হোটেল, হোমস্টে কিংবা প্যাকেজ বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন: নারায়ণ প্রধান ৮৪৩৬৬৪৯০০১, ৮৩৪৮৮১৩৮৪৫

সিকিম সফর সংক্রান্ত যে কোনও তথ্যের ব্যাপারে যোগাযোগ করতে পারেন: এমকে প্রধান (জয়েন্ট ডিরেক্টর, সিকিম ট্যুরিজম, গ্যাংটক), ফোন: ৮১১৬১০৭০৭১, ৯৮৩২০৬৫৬১৭

ছবি: লেখক

(লেখক পরিচিতি: ভ্রমণ সংক্রান্ত লেখালেখি বছর কুড়ি। পেশা ভিন্ন হলেও ভ্রমণের টানে গোটা ভারত ঘুরে বেড়ান বছরভর। পছন্দের দিক থেকে পাল্লা ভারী পাহাড়ের। ভ্রমণ ছাড়াও প্যাশন রয়েছে অভিনয়ে। অভিনয় করছেন বড় পর্দা, ছোট পর্দা, মঞ্চ, বেতারসব মাধ্যমেই।)