Advertisement
E-Paper

জায়গা বললেই ১ মিনিটে ভ্রমণসূচি বানিয়ে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেই বুদ্ধিতে কতটা নির্ভর করবেন?

বেড়ানোর জায়গা ঠিক করেছেন আপনি, কিন্তু কোথায়, কখন, কী ভাবে ঘুরবেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বুদ্ধিতেই সে সব ঠিক করছেন।তা হলে কিন্তু সাবধান। নিজের বুদ্ধি প্রয়োগ না করলেই সমস্যা হতে পারে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩৫
Mistakes AI Makes When Planning Your Trip And How to Fix It

ভ্রমণসূচি ঠিক করার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপরে কতটা ভরসা করবেন? ছবি: সংগৃহীত।

বেড়াতে যেতে চান থাইল্যান্ড কিংবা আন্দামান। পুরুলিয়া বা শান্তিনিকেন। ক’দিনের জন্য যেতে চাইছেন তা জানিয়ে, কী ভাবে ঘোরা যায় তা জানতে চেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রশ্ন করে জায়গাটির নাম বললেই হল। অভিজ্ঞ লোকেরা ভেবে চিন্তে যে কাজটি এক ঘণ্টায় করবেন, সেই কাজটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা করবে মাত্র এক মিনিটেই। কখনও আবার জানিয়েও দেবে, কোন স্থান কবে বন্ধ, কখন যাওয়া যায়।

এমন সুন্দর একটা ভ্রমণসূচি পেয়ে খুব বেশি না ভেবেই বেরিয়ে পড়লেন? এতে কিন্তু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

বেড়ানোর জায়গা নিয়ে তথ্য: যে কোনও বেড়ানোর জায়গা নিয়ে তথ্য চাইলে কৃত্রিমবুদ্ধিমত্তা প্রথমেই জনপ্রিয় স্থানগুলি বলে দেয়। মরসুম অনুযায়ী বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের খোলা-বন্ধের সময় বদলায়, কোনওটি আবার সংস্কার কাজের জন্য বন্ধও থাকতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্য ভাণ্ডারে সাম্প্রতিক তথ্য না থাকলে, পর্যটক কিন্তু বিভ্রান্ত হতে পারেন। তা ছাড়া, যে ভাবে আর পাঁচ জন ঘোরেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই ভাবেই ভ্রমণসূচি সাজায়। তাতে নিজের মতো ঘোরার সুযোগ কমে যায়।

এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও বেশি প্রশ্ন করে জানতে হবে, কেমন করে একটু অন্য ভাবে ঘোরা যায়। বা বলা যেতে পারে বিশেষ জায়গাগুলি ঘুরতে চাই, হাতে যেন ঘুরে দেখার জন্য যথেষ্ট সময় থাকে।

সময়: ৭ দিনের লাদাখ ট্রিপের কথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে জিজ্ঞাসা করলে, সে এমন ভাবে ঝটিকা সফরের তালিকা বানিয়ে দেবে যাতে এতটুকু সময় নষ্ট না হয়। এই সময়সূচি মেনে বাস্তবে ঘোরাফেরা করা কঠিন হতে পারে। অনেক সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবাস্তব ভ্রমণ পরিকল্পনা করে ফেলে। দূরত্ব সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান না থাকলে, তার ভিত্তিতে ভ্রমণসূচি সাজালে বেড়াতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভ্রমণসূচি সাজিয়ে দেওয়ার পরে স্থানগুলির নাম ধরে সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজুন। সেগুলি সম্পর্কে জেনে নিন। রাস্তার দূরত্ব কত, কতটা সময় লাগবে, কতটা ধকল নিজেরা নিতে পারবেন, সেই মতো ভ্রমণ পরিকল্পনা খানিক বদলে নিতে পারেন।

সংস্কৃতি: বেড়ানো মানে শুধু নির্দিষ্ট স্থান ঘোরা নয়, ভ্রমণের সঙ্গে জুড়ে যায় নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষজন, সংস্কৃতি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বেড়ানোর জায়গা নির্বাচন করতে গিয়ে অনেকে সময় স্থানীয় সংস্কৃতিকে উপেক্ষা করে ফেলে। তা ছাড়া, তথ্য দিলেও কোন মন্দিরের কী নিয়ম, পোশাক বিধি রয়েছে কি না, সেগুলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উল্লেখ করে না। ফলে সেখানে গিয়ে সমস্যায় হতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার থেকে বেড়ানোর স্থান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার পরে, সেই স্থানগুলি সম্পর্কে বেড়ানোর বইতে খোঁজ করুন। ইন্টারনেটেও দেখতে পারেন। মন্দির, জলপ্রপাত বা নির্দিষ্ট স্থানটি সম্পর্কে আরও বেশি তথ্য সংগ্রহ করে নিন। জেনে নিন সেখানকার সময়সূচিও। তার পরে পরিকল্পনা করুন।

যন্ত্রের মতো: বিশ্রাম, বিরতি বা নির্দিষ্ট স্থান ভাল ভাবে ঘোরার জন্য যথেষ্ট সময় না রেখেই অনেক ক্ষেত্রে পরের গন্তব্যের সূচি তৈরি করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ফলে এমন ভ্রমণসূচি যান্ত্রিক হয়ে পড়ে। কী ভাবে ঘুরতে চান, কোনও জায়গায় কতক্ষণ থাকবেন, তা নিয়ে পরিকল্পনা জরুরি।

অনুভব: জায়গাটির দর্শনীয় স্থান, খাবার জায়গা সম্পর্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথ্য দিতে পারে। কিন্তু ভ্রমণস্থলটি কী ভাবে পর্যটকের কাছে অনুভবযোগ্য হবে সেই দিকটি সঠিক ভাবে নির্দেশ করতে পারে না কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

সেই কারণে বাস্তবিকই যিনি জায়গাটি ঘুরে এসেছেন তাঁর অভিজ্ঞতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বেড়ানোর জন্য খসড়া ভ্রমণসূচি তৈরি করানো যেতেই পারে, তবে আলাদাভাবে দর্শনীয় স্থানগুলি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা দরকার। প্রয়োজনে সেই জায়গার উপর তথ্য সমৃদ্ধ ভিডিয়ো বা ভ্লগ থাকলে সেগুলিতেও চোখ বুলিয়ে নেওয়া যেতে পারে। অভিজ্ঞ মানুষের পরামর্শও এ ক্ষেত্রে খুব জরুরি।

impact of artificial intelligence AI Travel Planning
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy