Advertisement
E-Paper

কিনলেন স্যুটকেস, হয়ে গেল স্কুটার! বোতাম টিপলেই কাঁধে সওয়ারি নিয়ে ছুটবে জিনিস বোঝাই যন্ত্র

যাত্রীদের সুপ্ত ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করতে বাজারে এখন রমরমা স্কুটার-স্যুটকেসের। জিনিসটি খানিকটা সুকুমার রায়ের ‘হ য ব র ল’-এর মতো, ‘ছিল রুমাল হয়ে গেল বেড়াল’-গোছের। কী এর বৈশিষ্ট্য?

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৭
এমন একটি স্কুটার থাকলে  সফর হবে সহজ।

এমন একটি স্কুটার থাকলে সফর হবে সহজ। ছবি: সংগৃহীত।

একে ঢাউস স্যুটকেস, আবার তাকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার ধকল! সফরের সময় ভারী লটবহর নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্যত্র যাওয়া কি কম ঝক্কির!

কিন্তু ছবিটা যদি পাল্টে যায়। এই ধরুন আপনি স্যুটকেসকে নয়, স্যুটকেসই আপনাকে বয়ে নিয়ে গেল! ছোটদের পায়ে ব্যথা করলে যেমন ঢাউস স্যুটেকেসে উপর বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, তেমন ভাবেই আপনি স্যুটকেসে সওয়ারি হয়ে পৌঁছে গেলেন বিমানবন্দরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, তবে কেমন হবে?

যাত্রীদের এই সুপ্ত ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করতে বাজারে এখন রমরমা স্কুটার-স্যুটকেসের। জিনিসটি খানিকটা সুকুমার রায়ের ‘হ য ব র ল’-এর মতো, ‘ছিল রুমাল হয়ে গেল বেড়াল’। দেখতে কেতাদুরস্ত ট্রলি। যেই বোতাম টিপলেন, সঙ্গে সঙ্গে ভোলবদল। স্যুটকেসই হয়ে গেল স্কুটার। তার পর সেই স্কুটার নিমেষে আপনাকে নিয়ে চলতে শুরু করল।

Advertisement
স্যুটকেস স্কুটার চাপতে হবে এই ভাবেই।

স্যুটকেস স্কুটার চাপতে হবে এই ভাবেই। ছবি: সংগৃহীত।

এ সব কিন্তু কোনও গল্পকথা নয়। বরং সমাজমাধ্যমে চোখ রাখলে স্যুটকেসে সওয়ারি হয়ে সফরের গাদাখানেক ভিডিয়ো, রিল চোখে পড়বে। এ এক মজার ব্যাপার বটে, কাজেরও। বড় বড় বিমানবন্দরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হেঁটে পৌঁছোতে যেখানে অন্তত ৩০-৪০ মিনিট লেগে যায়, সেখানে যদি স্কুটার স্যুটকেসই মিনিট দশেকে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়, হাঁটার ধকল যেমন কমবে, তেমনই বাঁচবে সময়। বিশেষত যাঁরা ঘন ঘন বিমান সফর করেন, তাঁদের কাছে এই স্যুটকেস হতে পারে জাদুকাঠির মতোই।

স্যুটকেসে থাকা বোতাম টিপলেই যে এর আকার-আকৃতি বদলে যায় তা নয়, বরং ধাতব একটি অংশ সম্প্রসারিত হয়ে যায়। ফলে স্যুটকেসে বসে দিব্যি তার হাতলটা স্কুটারের হাতলের মতো ধরা যায়। তার পর শুধু বোতামে চাপ দেওয়ার অপেক্ষা। উন্নত মানের ব্যাটারি আর মজবুত চাকা থাকায় স্যুটকেস-স্কুটার এগোয় মসৃণ ভাবে।

শুধু শ্রম বাঁচাতে নয়, এমন স্যুটকেস আপনাকে নিয়ে যেতে পারে শৈশবেও। স্যুটকেসে চেপে ঘুরে-বেড়ানোর এ আনন্দ বড় নির্ভেজাল।

কী কী বৈশিষ্ট্য বৈদ্যুতিক স্যুটকেস স্কুটারের

বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির নানা রকম স্যুটকেস আছে। এই ধরনের স্যুটকেস শুধু যাত্রী পরিবহণেই দড় নয়, বরং তা ‘স্মার্ট’-ও। মোবাইল ফোনে চার্জ দেওয়ারও বন্দোবস্ত থাকে কোনও কোনও স্যুটেকেস। জিনিসপত্র যাতে স্বছন্দে গুছিয়ে রাখা যায়, তেমন সমস্ত সুবিধাই থাকে এতে।

মেয়েকে নিয়ে স্কুটার স্যুটকেসে চেপেছেন অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টি।

মেয়েকে নিয়ে স্কুটার স্যুটকেসে চেপেছেন অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টি। ছবি:ইনস্টাগ্রাম।

শক্তিশালী ব্যাটারি: এক এক ধরনের স্যুটকেসের এক এক রকম ব্যাটারি ব্যবহার হয়। মূলত লিথিয়াম ব্যাটারি থাকে, যা নিয়ে বিমান চড়া যায়। থাকে ইউএসবি চার্জিং পোর্ট। ৪-৫ ঘণ্টা চার্জ দিলে ৮-১০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে এই ধরনের স্যুটকেস। ঘণ্টায় গতি হতে পারে ১৩ কিলোমিটার বা তারও বেশি।

চাকা এবং বোতাম: ব্যবহারের সুবিধার জন্য ভাল মানের চাকা এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার হয় এতে। স্কুটার যাত্রা মসৃণ করার জন্য থাকে শক্তিশালী মোটর। তা ছাড়া, জনবহুল বিমানবন্দরে স্কুটার স্যুটকেস দ্রুত থামানোর জন্যও থাকে উন্নতমানের বোতাম, যেটিতে চাপ দিলে মুহূর্তে স্যুটকেস ঝাঁকুনি ছাড়াই থেমে যাবে।

অভিনেত্রী, ট্রাভেল ভ্লগার শেহনাজ় ট্রেজারিও স্কুটারের সওয়ারি।

অভিনেত্রী, ট্রাভেল ভ্লগার শেহনাজ় ট্রেজারিও স্কুটারের সওয়ারি। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।

টিএসএ লক: কোনও কোনও কোম্পানির স্যুটেকেসে ব্যবহার হয় টিএসএ লক। বিমাবন্দরে নিরাপত্তারক্ষীরা নিরাপত্তার প্রয়োজনে তাঁদের কাছে থাকা বিশেষ চাবি দিয়ে এই তালা খুলতে পারেন। এ জন্য তালা ভাঙার দরকার পড়ে না।

হাতল: হাতলেই থাকে ব্রেক এবং বিশেষ বোতাম, যা সহজে চলন্ত স্যুটকেস থামাতে পারে, আবার পিছনে নিয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া এই ধরনের স্যুটকেস আকারে বেশি বড় নয়, বরং তা বিমান সফরের উপযোগী। খুব সহজেই তা কেবিন লাগেজ হিসাবে কেবিনের মধ্যে পুরে ফেলা যায়। মোটামুটি ১১০ কেজি পর্যন্ত ওজনের সওয়ারি বহনে সক্ষম এই ধরনের স্যুটকেস স্কুটার।

কোথায় ব্যবহার করা যায়

ভারতের মতো দেশে বিমানবন্দরই এমন স্কুটার স্যুটকেস ব্যবহারের উপযুক্ত জায়গা। মসৃণ জায়গা বা রাস্তাই এমন স্কুটার ব্যবহারের উপযোগী। অমসৃণ জায়গায় চালাতে গেলে বিপদ ঘটতে পারে।

কারা ব্যবহার করছেন

অভিনেত্রী, ট্রাভেল ভ্লগার থেকে শুরু করে অনেকেই এটি ব্যবহার করা শুরু করেছেন। শিল্পা শেট্টি তাঁর মেয়ের সঙ্গে এমন স্যুটকেস স্কুটারের সওয়ারি হয়েছিলেন বিমানবন্দরে। অভিনেত্রী এবং ভ্লগার শেহনাজ় ট্রেজারিকেও দেখা গিয়েছে এমন স্কুটারে। ইদানীং বিমানযাত্রীদের অনেকেই তা ব্যবহার করছেন।

দাম কত

স্বপ্নের স্যুটকেস স্কুটারের দাম কিন্তু নাগালের একেবারে বাইরে নয়। ৫৪-৫৫ হাজার থেকে লাখ দেড়েকের মধ্যেই তা পাওয়া যায়। গুণমান এবং ফিচার অনুযায়ী এর দাম হয়। অনলাইনেও এমন মজার স্যুটকেস সহজেই কেনা যাচ্ছে।

Suitcase Scooters Air TRavel
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy