Advertisement
E-Paper

পাখির চোখে পাহাড়ি জলপ্রপাতের রূপ দেখতে তৈরি হবে রোপওয়ে, ছবির মতো সেই জায়গা কোথায়?

পর্যটনের প্রসারে রোপওয়ে তৈরির ভাবনা শৈল শহরে। সুউচ্চ জলপ্রপাতের আকর্ষণ আছেই, শৈলশহর ছবির মতো সুন্দর। হাতে দিন ৪-৫ সময় থাকলেই ঘুরে নেওয়া যায়। কোথায় সেই জায়গা, কী ভাবে সাজাবেন ভ্রমণসূচি?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ১১:০৭
রোপওয়ে করে এই পাহাড়-জলপ্রপাত দেখার সুযোগ মিলতে চলেছে আগামিদিনে।

রোপওয়ে করে এই পাহাড়-জলপ্রপাত দেখার সুযোগ মিলতে চলেছে আগামিদিনে। ছবি: সংগৃহীত।

ঘন অরণ্যে ঘেরা পাহাড়। তারই বুক চিরে নেমে আসছে দুধসাদা জলপ্রপাত। সুউচ্চ সেই জলপ্রপাতের তলদেশে দাঁড়ালে, উৎসমুখ ঠাহর করা যায় না, সেটি এতটাই উঁচু।

জল যেখানে এসে পড়ছে, সেখান থেকে জলপ্রপাত দেখা আর পাখির চোখে তা প্রত্যক্ষ করার তফাৎ অনেকটাই। পর্যটকদের অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণেই এ বার উদ্যোগী মিজ়োরাম সরকার। সেরছিপ জেলার থেনজ়াওল শহরে ভানতাং-এই রাজ্যের সর্বোচ্চ জলপ্রপাত। পাহাড়ের মাথা থেকে তার সৌন্দর্য উপভোগের জন্য এবার এখানে তৈরি হতে চলেছে রোপওয়ে। স্পেশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স টু স্টেটস ফর ক্যাপিটাল ইনভেসমেন্ট (এসএএসসিআই)-এর আওতায় ৩৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকায় এই প্রকল্প তৈরি হবে অদূর ভবিষ্যতে। প্রাথমিক ভাবে অর্থ অনুমোদনের কথাও জানা গিয়েছে।

ভানতাং-এর জল  ৭৫০ মিটার উঁচু থেকে নেমে আসে। বর্ষায় জলের তোড় থাকে দেখার মতো।

ভানতাং-এর জল ৭৫০ মিটার উঁচু থেকে নেমে আসে। বর্ষায় জলের তোড় থাকে দেখার মতো। ছবি:সংগৃহীত।

মিজ়োরামের সেরছিপের এই জলপ্রপাতের সৌন্দর্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসেন পর্যটেকরা। এই এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এবং পর্যটনের প্রসারেই রোপওয়ে তৈরির সিদ্ধান্ত বলে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়েছে।

মিজ়োরামে পর্যটনের সম্ভাবনা যথেষ্ট। পর্যটকদের প্রবল ভিড় না থাকলেও, অনেকেই এই রাজ্যে বেড়াতেও যান। ভবিষ্যতে যদি ভানতাং জলপ্রপাতের সৌন্দর্য চাক্ষুষ করতে চান, কী ভাবে যাবেন সেখানে, কী ভাবেই বা সাজাবেন সফরসূচি।

রাজধানী আইজ়ল থেকে ৯২ কিলোমিটার দূরের ভানতাং এই দেশের ১৩তম উচ্চ জলপ্রপাত। তবে যেতে হলে শুধু ভানতাং নয়, ঘুরে নিন আশপাশও। হাতে ৪-৫টি দিন সময় থাকলে বেরিয়ে পড়তে পারেন বিমানেই। উড়ানেই যাত্রা সবচেয়ে সহজ। কলকাতা থেকে আইজ়ল যাওয়ার সরাসরি বিমান আছে। সময় লাগে মাত্র ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট। তবে মিজ়োরাম ঘুরতে হলে পর্যটকদের ইনারলাইন পাসের প্রয়োজন হবে, যা অনলাইনে আবেদন করে পাওয়া সম্ভব।

কী ভাবে ঘুরতে পারেন?

আইজ়ল

সলোমন মন্দির এখানকার অন্যতম দর্শনীয় স্থান

সলোমন মন্দির এখানকার অন্যতম দর্শনীয় স্থান ছবি:সংগৃহীত

আইজ়ল বিমানবন্দর থেকে শহরের দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার। হোটেলে পৌঁছে বিশ্রাম নিয়ে নিন। সলোমন মন্দির এখানকার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে চাওলহনুমে অবস্থিত। এখান থেকে পাহাড়ি উপত্যকা খুব সুন্দর ভাবে দেখা যায়। নামে মন্দির হলেও এটি মন্দির নয়। এর স্থাপত্যশৈলী একেবারেই ভিন্ন। আশপাশের বাজার, ভিউ পয়েন্ট ঘুরে দেখতে পারেন।

রেইক

রেইকের রূপ দর্শন স্বর্গীয় অনুভূতির মতোই মনে হতে পারে।

রেইকের রূপ দর্শন স্বর্গীয় অনুভূতির মতোই মনে হতে পারে। ছবি:সংগৃহীত।

আইজ়ল থেকে ৩৩ কিলোমিটার দূরে রেইকও রাখতে পারেন ভ্রমণসূচিতে। সৌন্দর্যে টেক্কা দিতে পারে এ দেশের যে কোনও পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্রকে। হেঁটে পাহাড়ের মাথায় পৌঁছোনো যায়। চড়াইয়ে ওঠার পথটি অরণ্যে ঘেরা। পথে রয়েছে ঝর্নাও। পাহাড়ের মাথায় পৌঁছে গেলে ভুলে যাবে ক্লান্তি। ৫ কিলোমিটার পথ উঠেছে খাড়া ভাবে। ঘণ্টা ৪-৫ কের মধ্যেই সেখান থেকে ঘুরে আসা যায়। রেইকের দ্রষ্টব্য তালিকায় রয়েছে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী মিজ়োগ্রাম। কাছ থেকে দেখতে পারেন গ্রামজীবন, এখানকার বাড়িঘর। দিনভর ঘুরে আইজ়ল ফিরতে পারেন রাতের মধ্যে অথবা রেইকেও থেকে যেতে পারেন।

থেনজ়ল

ঘুরে নিতে পারেন মুইফাং পাহাড়ও।

ঘুরে নিতে পারেন মুইফাং পাহাড়ও। ছবি:সংগৃহীত।

আইজ়ল বা রেইক থেকে চলুন থেনজ়ল। আইজ়ল সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ৯০-৯৫ কিলোমিটার। রেইক থেকে দূরত্ব ১২০ কিলোমিটার। থেনজ়লেই এক রাত থেকে থেকে ঘুরে নিন আশপাশ। থেনজ়লের দক্ষিণে ৫ কিলোমিটার গেলে থেকে ভানতাং। পাহাড়ি উপত্যকার মাঝের অপূর্ব সুন্দর এই জলপ্রপাতটি দেখার জন্য বেশি কিছুটা সময় হাতে রাখা ভাল। জায়গাটি নির্জন। ভানভা নদী থেকে জলপ্রপাতের সৃষ্টি বলে জানা যায়। ভানতাং ঘুরে চলুন তুইরিহিয়াউ জলপ্রপাত। দূরত্ব বেশি নয়। থেনজ়ল পৌঁছে এই দু’টি জলপ্রপাত দেখে নিন।

দ্বিতীয় দিনে সকাল বেলা বেরিয়ে ঘুরে নিতে পারেন ডিয়ার পার্ক, স্থানীয় তাঁতিদের গ্রাম। মিজ়োরাম বয়নশিল্প জানা এবং বোঝার সুযোগ মিলবে এখানে। এ দিন আইজ়ল ফেরার পথে ঘুরে নিন মুইফাং পাহাড়। জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রটি থেকে উপত্যকার অনেকখানি দৃশ্যমান। আইজ়লে রাতটা কাটিয়ে পরের দিন ফেরার জন্য বিমান ধরুন।

মিজ়োরামের পোশাক কী ভাবে তৈরি হয় গ্রামে গিয়ে দেখে আসতেও পারেন।

মিজ়োরামের পোশাক কী ভাবে তৈরি হয় গ্রামে গিয়ে দেখে আসতেও পারেন। ছবি:ইনস্টাগ্রাম।

কী ভাবে যাবেন

সরাসরি আইজল যাওয়ার ট্রেন নেই। কলকাতা বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে প্রথমে শিলচর নামতে হবে। গাড়িতে শিলচর থেকে আইজল যেতে প্রায় ৬-৮ ঘণ্টা সময় লাগে। সবচেয়ে সুবিধাজনক বিমানে যাওয়া।

কোখায় থাকবেন

মিজ়োরামে থাকার জন্য ট্যুরিস্ট লজ, হোটেল আছে।

Mizoram’s New Ropeway Vantawng Falls Mizoram Travel Tips Vantawng Falls Ropeway project
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy