ভিডিয়ো কলে সংক্ষিপ্ত পরিচয় পর্ব। কনেকে সামনাসামনি না দেখেই পরিবারের সম্মতি বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এক তরুণ। মাত্র তিন দিনের মধ্যেই ঘটকালি সংস্থার উদ্যোগে বিয়ে সেরে ফেলেছিলেন ৩২ বছরের তরুণ। বিয়ে উপলক্ষে খরচ হয়েছিল ভারতীয় মুদ্রায় ৩৭ লক্ষ টাকা। পাঁচ মিনিটের পরিচয়ে বিয়ে সেরে ফেলার পর পস্তাচ্ছেন তরুণ। বিয়ের পর কনের সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে যা জানার পর বিয়ের মাত্র ন’দিনের মধ্যে পাত্র বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন আদালতে। মামলা করেছেন সেই ঘটকালি সংস্থার বিরুদ্ধেও।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশের বাসিন্দা চেন (নাম পরিবর্তিত) ৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি ঘটকালি সংস্থায় নাম লেখান। তিন জন প্রত্যাখ্যান করার পর ভিন্ প্রদেশের এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় সংস্থাটি। এপ্রিল মাসে শানসি প্রদেশের ৩০ বছর বয়সি এক মহিলার সঙ্গে পরিচয় হয় চেনের। তরুণীর প্রোফাইলে উল্লেখ করা ছিল যে তাঁর কোনও ঋণ, অপরাধমূলক রেকর্ড বা গুরুতর অসুস্থতা নেই। পাত্রের পরিবার কনের সঙ্গে সরাসরি দেখা না করেই বিয়ের কথাবার্তা এগিয়ে যেতে রাজি হয়। চেন ও তাঁর বাড়ির সদস্যেরা মোট ২,৬৫,০০০ ইউয়ান (৩৭ লক্ষ টাকা ) খরচ করেন। এর মধ্যে ছিল ১,০০,০০০ ইউয়ান (১৪ লক্ষ টাকা ) কনেপণ এবং ১,৬০,০০০ ইউয়ান (২২ লক্ষ টাকারও বেশি ) ঘটকালির ফি। পাকা কথার পর চেনের শহরে বিয়ে করতে আসেন তরুণী।
আরও পড়ুন:
বিয়ের পর কনে তাঁর শারীরিক সুস্থতার রিপোর্ট ও ব্যাঙ্কের ক্রেডিট স্কোরের নথি আনতে রাজি হননি। বাধ্য হয়ে চেন একটি ব্যাঙ্কে নববধূর ক্রেডিট স্কোর যাচাই করতে যান। সেখানে ফাঁস হয়ে যায় গোপন তথ্য। চেন জানতে পারেন তাঁর স্ত্রীর নামে ১ লক্ষ ইউয়ানের (১৩ লক্ষ টাকারও বেশি) ঋণ রয়েছে। স্ত্রী দাবি করেন যে এই ঋণ তাঁর এক প্রাক্তন প্রেমিকের। এর পর তরুণী চেনকে লিভার এনজ়াইমের সমস্যার কথা জানান এবং জানান যে তাঁর ওজন কমানো দরকার।
বিয়ের নামে প্রতারণা করা হয়েছে দেখে চেন বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন। তাঁর স্ত্রী প্রথমে বিবাহবিচ্ছেদে রাজি হলেও পরে বেঁকে বসেন। তিনিও চেনের বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন। তিনি দাবি করেন যে চেনের ব্যবহারের জন্য বিষণ্ণতায় ভুগতে শুরু করেছেন। ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৫০,০০০ ইউয়ান ( ৭ লক্ষ টাকা ) দাবি করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, চেন তাঁকে মেকআপ করতে, বাড়ির কাজ করতে এবং একটি চাকরি খোঁজার জন্য জোরাজুরি করতেন।