পথ দুর্ঘটনায় আহত তরুণকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে নিয়ে আসা হয়েছিল হাসপাতালে। আহত তরুণের শরীর থেকে রক্ত প়ড়েছিল অ্যাম্বুল্যান্সে। সেই রক্তের দাগ আহত তরুণের স্ত্রীকে দিয়েই মোছালেন অ্যাম্বুল্যান্সের চালক। সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের কাটনী জেলায়। ২৪ এপ্রিলের ঘটনা। কাটনী হাসপাতালে আহত তরুণকে নিয়ে আসার পর তাঁর স্ত্রীকে দিয়ে জোর করে অ্যাম্বুল্যান্সটি পরিষ্কার করানোর অভিযোগ উঠেছে। সেই সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, হাসপাতালের পার্কিংয়ে দাঁড় করানো অ্যাম্বুল্যান্সের বাইরের অংশটি পরিষ্কার করছেন তরুণী। মাথায় ঘোমটা। হাতে মগ ও কাপড়ের টুকরো। জল ঢেলে তিনি গাড়ির বাইরের অংশটি সাফ করছেন। সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাটনী জেলার কারেলা গ্রামের কাছে পথ দুর্ঘটনায় ৩২ বছর বয়সি রাহুল বর্মণ গুরুতর আহত হন। ১০৮ ডায়াল পরিষেবা থেকে নেওয়া অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা করার পর রাহুলকে জবলপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এই সময়েই মোহিত খটিক নামের অ্যাম্বুল্যান্সের এক কর্মী, রাহুলের স্ত্রী প্রমিলা বর্মণকে অ্যাম্বুল্যান্সটি পরিষ্কার করতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতের স্ত্রীকে দিয়ে অ্যাম্বুল্যান্স সাফ করানোর ভিডিয়োটি ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি তদন্তও শুরু হয়। প্রমিলা আরও অভিযোগ, অ্যাম্বুল্যান্সের কর্মীরা তাঁর গুরুতর আহত স্বামীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য টাকাও দাবি করেছিলেন। উল্লেখ্য, ১০৮ ডায়ালের অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবাটি একটি বিনামূল্যের পরিষেবা।
আরও পড়ুন:
ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পর কাটনী জেলা হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তাঁরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। গত বুধবার কাটনী জেলার প্রধান চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (সিএমএইচও) আর ঠাকুর জানিয়েছেন, ১০৮ অ্যাম্বুল্যান্সের চালক ও ইনচার্জের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুল্যান্সের চালক দেবা সাহু এবং মোহিত খটিককে অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ভিডিয়োটি ‘প্রিয়ঙ্কাটুভারতী’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে রিপোস্ট করার পর নেটাগরিকদের ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে।