জীবন নষ্ট করে দিয়েছেন। মানসিক নির্যাতন করেছেন দিনের পর দিন। স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যেদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে ইনস্টাগ্রামে ভিডিয়ো পোস্ট করার পরেই আত্মঘাতী হলেন হরিয়ানার ফরিদাবাদের এক তরুণ ব্যবসায়ী। পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী ওই তরুণ রবিবার তাঁর দোকানেই আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর। মৃত্যুর আগে তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিয়োবার্তা রেখে যান। সেই ভিডিয়োয় তিনি তাঁর স্ত্রী ও স্ত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে মানসিক হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন। ঘটনা সংক্রান্ত একাধিক ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। ঘটনাটি বিয়ে, মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক চাপ এবং পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যার ক্রমবর্ধমান ঘটনা নিয়ে অনলাইনে তীব্র বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
পুলিশ জানিয়েছে, দোকানে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী ওই তরুণের নাম রাহুল। মাত্র কয়েক মাস আগেই নতুন পোশাকের দোকান খুলেছিলেন তিনি। সেখানেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। চরম পদক্ষেপ করার আগে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিয়ো আপলোড করেন রাহুল। সেই ভিডিয়োয় তিনি তাঁর স্ত্রী জ্যোতি, শাশুড়ি বীণা, শ্বশুর বিট্টু এবং শ্যালিকা নীতুর নাম উল্লেখ করেন। ভিডিয়োয় রাহুল অভিযোগ করেন, শ্বশুরবাড়ির তরফে তাঁকে ক্রমাগত মানসিক হেনস্থা এবং মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘর ঝাড়ু দেওয়া এবং বাসন মাজার মতো গৃহস্থালির কাজ করা সত্ত্বেও তাঁকে শারীরিক নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে এবং চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ভিডিয়োয় রাহুলের অনুরোধ, অভিযুক্তদের যেন আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হয় এবং মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তি যেন তাঁর মা, বোন এবং ভাইদের দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
মৃতের পরিবারের বক্তব্যের সূত্র ধরে সমাজমাধ্যম এক্স-এ করা একটি পোস্ট অনুযায়ী, প্রায় দু’বছর আগে ভালবেসে জ্যোতিকে বিয়ে করেছিলেন রাহুল। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিয়ের পর থেকেই সম্পর্কের টানাপড়েন বাড়তে থাকে এবং রাহুলকে তাঁর বাবা-মায়ের থেকে আলাদা থাকার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। অমিত নামে রাহুলের এক আত্মীয়ের অভিযোগ, রাহুলকে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে অবাধে দেখা করতেও দেওয়া হত না এবং তিনি দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। পরিবারের আরও দাবি, তাঁর স্ত্রীর দায়ের করা একটি মামলা তাঁর মানসিক কষ্টের বোঝা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
এর পর রবিবার সকালে দোকানে যাওয়ার আগে রাহুল তাঁর মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। তার কিছু ক্ষণ পরেই পুলিশ খবর পায় যে তিনি দোকানের ভেতরেই আত্মহত্যা করেছেন। পরে তাঁর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন:
রাহুলের শেষ ইনস্টাগ্রাম ভিডিয়োর ক্লিপগুলো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে ‘হেট ডিটেক্টর’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন নেটাগরিকেরা। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘‘বিয়ে মানেই সর্বনাশ। এটি এখন প্রতিটি ঘরেরই গল্প। এক জন নারীই ঘরকে স্বর্গ বা নরকে পরিণত করতে পারেন। দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত।’’ অন্য এক জন লিখেছেন, ‘‘মানুষ হয় অন্যকে হত্যা করছে, নয়তো নিজেরাই নিজেদের জীবন শেষ করে দিচ্ছে।’’