মৃত্যুর আগে স্বামী দীর্ঘ দিন ধরে গোপনে এক মহিলার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে ছিলেন। লুকিয়ে তাঁকে প্রচুর অর্থও দিয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর সেই সত্য উন্মোচিত হতেই হতবাক হয়ে গেলেন বধূ। স্বামীর টাকা ফেরত পেতে তাঁর প্রেমিকার বিরুদ্ধে মামলাও করলেন। অদ্ভুত সেই ঘটনাটি ঘটেছে চিনে। সেই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসার পর ইতিমধ্যেই হইচই পড়েছে সমাজমাধ্যমে।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বধূর নাম শেন। শাংহাইয়ের বাসিন্দা তিনি। ১৯৯৯ সালের জুলাইয়ে জিন নামে এক যুবককে বিয়ে করেন শেন। দুই সন্তানও ছিল দম্পতির। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দাম্পত্যজীবন কাটানোর পর ২০২২ সালের মে মাসে জিন মারা যান। একা হয়ে পড়েন শেন। একা হাতেই সন্তানদের মানুষ করছিলেন।
আরও পড়ুন:
তবে সম্প্রতি জিনের জিনিসপত্র ঘাঁটার সময় শেন জানতে পারেন যে, প্রয়াত স্বামী ২০১৫ সাল থেকে তাও নামে এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। সাত বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন তাঁরা। আর ওই সময়ের মধ্যে জিন গোপনে তাও-কে ১ কোটি ৯০ লক্ষ ইউয়ান (ভারতীয় মুদ্রায় ২৫ কোটি টাকারও বেশি) দিয়েছিলেন।
বিষয়টি জানতে পেরেই মন ভাঙে শেনের। অর্থ ফেরত পেতে তাওয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। মামলার রায় ঘোষণার সময় নিম্ন আদালত জানায়, জিনের থেকে প্রাপ্ত সম্পত্তি শেনকে ফেরত দিতে হবে তাওকে। তবে পুরো টাকা নয়। ৫০ লক্ষ ইউয়ান তিনি নিজের কাছে রাখতে পারেন। তবে বাকি ১ কোটি ৪০ লক্ষ ইউয়ান তাঁকে ফেরত দিতে হবে শেনকে। নিম্ন আদালতের রায়ের পর উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাও। কিন্তু সাংহাই ফার্স্ট ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট তাঁর আবেদন বাতিল করে নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রেখেছে বলে খবর।
আরও পড়ুন:
আদালতের পর্যবেক্ষণ, জিন এবং তাও বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে থাকায় এবং অর্থ দেওয়ায় শেনের আর্থিক অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। তাই সেই অর্থ শেনেরই প্রাপ্য। ঘটনাটির কথা প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে চিন জুড়ে। সমাজমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে।