বিশ্ব জুড়ে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনা সারা পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। হইচই ফেলে। ভাইরালও হয়। তেমনই একটি ঘটনা ঘটে গিয়েছিল আমেরিকার আরকানসাসে। খুব কম বয়সে বাবা-মা হয়েছে আরকানসাসের স্কুলপড়ুয়া দুই কিশোর-কিশোরী। ১৫ বছর বয়সি ওই কিশোরীর নাম বেলা এবং কিশোরের নাম হান্টার। হান্টারের বয়স ১৩। সে প্রেমিকার থেকে বছর দুয়েকের ছোট। বিষয়টি নেটমাধ্যমে ব্যাপক শোরগোল এবং বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হান্টারের যখন মাত্র ১২ বছর বয়স এবং বেলার ১৪, তখন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে বেলা। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরে উভয় পরিবারই হতবাক হয়ে যায়। বেলার বাবা-মা শেষ পর্যন্ত মেয়ের সমর্থনে এগিয়ে এলেও হান্টারের পরিবার নাকি গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া শুরু করে। তবে বেলা জানায়, সে মা হতে প্রস্তুত। নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিল সে। এর পর গত বছরের মার্চে মা হয় বেলা।
বেলার মা ফ্যালনের দাবি, কন্যার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়া তাঁর কাছে দুঃস্বপ্নের মতো মনে হয়েছিল। তিনি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং বুঝতে পারছিলেন না যে, মেয়ে এত অল্প বয়সে কী ভাবে মা হতে পারে! প্রথমে কন্যার উপর রেগে গেলেও পরে তাকে সমর্থনই করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যম ‘টিএলসি’র জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘আনএক্সপেক্টেড’-এর একটি প্রচারমূলক ক্লিপ ভাইরাল হওয়ার পর বেলা এবং হান্টারের কাহিনি প্রকাশ্যে এসেছে। অনুষ্ঠানটি খুব অল্প বয়সে বাবা-মা হওয়া মানুষদের নিয়ে তৈরি। তবে বেলা এবং হান্টারের ঘটনা ও সেই সংক্রান্ত ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে বিষয়টি। নেটমাধ্যম জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নেটাগরিকদের অনেকে ঘটনার সত্যতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন তুলেছেন, তেমনই আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, ‘‘এত ছোট বয়সে কারও পক্ষে বাবা-মা হওয়া কি আদৌ সম্ভব?’’ অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘দু’জনেরই কৈশোর জীবন নষ্ট হয়ে গেল। এ সব নিয়ে বাবা-মায়েদের আরও সাবধানি হওয়া উচিত।’’
আরও পড়ুন:
মা হওয়ার পর বেলা সমাজমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। সন্তানের সঙ্গে কী ভাবে জীবন কাটছে, তা নিয়ে মাঝেমধ্যেই ছবি এবং ভিডিয়ো পোস্ট করে সে। যদিও বেলা স্বীকার করেছে, কম বয়সে ভুল পদক্ষেপ করা তার উচিত হয়নি। অন্য কোনও মেয়ে যাতে কম বয়সে এ রকম ভুল না করে বসে, তা নিয়েও বার বার বার্তা দেয় সে। হান্টার এখন অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া। বেলা জানিয়েছে, সে এবং হান্টার উভয়েই সন্তানের দায়িত্ব ভাগ করে নেয়। তবে হান্টারের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা চায় না বলেও জানিয়েছে কিশোরী।