বেসরকারি চাকরি মানেই চিন্তা। পান থেকে চুন খসল কি খসল না, সংস্থা ধরিয়ে দেবে ছাঁটাইয়ের চিঠি। এমনই আশঙ্কায় ভোগেন কমবেশি সব বেসরকারি চাকুরেই। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে, যা এই ভাবনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। সেই ঘটনার কথা জানতে পেরে হইচই পড়ে গিয়েছে সমাজমাধ্যমে।
আরও পড়ুন:
ঘটনাটি লিঙ্কডইনে পল্লবী মল্লিক নামের এক তরুণী ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, কিছু দিন আগে এক ট্রেনযাত্রায় এক যুবকের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। জীবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা চলতে থাকে তাঁদের। পল্লবী লিখেছেন, মা-বাবার সঙ্গে দেখা করার জন্য নিজের শহরে ফিরছিলেন ওই যুবক। ওই যুবক তাঁকে বাড়ি কেনার কথা জানান। সে জন্য মাসিক কিস্তিতে মোটা অঙ্কের ঋণ শোধ করতে হচ্ছে তাঁকে। পাশাপাশি, মা-বাবাকে নিয়ে চার ধাম যাত্রার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ওই যুবককে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী বলে মনে হচ্ছিল পল্লবীর। ওই যুবক তাঁকে জানান, জীবন অনেকটা গুছিয়ে নিতে পেরেছেন তিনি।
হঠাৎই ছন্দপতন ঘটায় ওই যুবকের ফোনে আসা একটি নোটিফিকেশন। ওই যুবক ফ্যাকাশে মুখে পল্লবীকে জানান, তাঁর চাকরিটা বোধহয় আর নেই। জানা গিয়েছে, কর্মীছাঁটাইয়ের একটি ইমেইল আসে ওই যুবকের কাছে। মুহূর্তে যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তাঁর সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা, ভবিষ্যতের ভাবনা। যে মা-বাবার সঙ্গে দেখা করার জন্য আনন্দিত ছিলেন ওই যুবক, তাঁদের মুখোমুখি হতে হবে ভেবেই অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেন তিনি। তাঁদের কী ভাবে খবরটা দেবেন, তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না তিনি বলে জানিয়েছেন পল্লবী। যদিও ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
ঠিক কী কারণে যুবকের কাছে কর্মীছাঁটাই সংক্রান্ত ইমেলটি আসে, সে বিষয়ে কিছুই লেখা হয়নি ওই পোস্টে। পোস্টটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বহু মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন। অচেনা সেই যুবকের উদ্দেশে সমবেদনা জানিয়েছেন প্রায় সকলেই। সংস্থাগুলির এমন কাজকর্মের বিষয়েও সরব হয়েছেন বহু নেটাগরিক। এক জন লিখেছেন, “জীবন সত্যিই কোনও সতর্কবার্তা ছাড়াই বদলে যেতে পারে।”