খালি পায়ে বালির উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন বৃদ্ধা। সমুদ্রের ঢেউয়ে আলতো আলতো ভাবে পা ভেজাচ্ছেন। ক্ষণিকের মুহূর্তও যেন এক সহস্র বছর ধরে উপভোগ করতে চাইছেন বৃদ্ধা। হাতে লাঠি নিয়ে আহ্লাদি স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বৃদ্ধ। সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে ‘প্রেমের দিব্যি’তে ভেসে যাচ্ছেন দুই অশীতিপর।
জীবনে কখনও সমুদ্রস্নানে যাওয়া হয়নি। ঢেউ আছড়ে পড়ার শব্দও শোনা হয়নি কখনও। কিশোরী বয়স থেকে মানসভ্রমণেই সমুদ্র দেখার স্বপ্নপূরণ করেছিলেন। ভালবাসার মানুষের চোখ দিয়েও সমুদ্র দেখার সুযোগ হয়নি। কারণ তিনিও তো মানসভ্রমণেই সমুদ্রদর্শন সেরেছেন। হাতে হাত রেখে সংসারের দায়দায়িত্ব পালন করতে করতে সমুদ্র দেখা হয়ে ওঠেনি কারও।
আরও পড়ুন:
দাদু-দিদার এই স্বপ্নের কথা জানতে পেরে তাঁদের সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে নিয়ে গেলেন নাতনি। জীবনে প্রথম বার সমুদ্র দেখে লজ্জায় রাঙা হয়ে গেল বৃদ্ধার মুখ। স্বামীর হাত চেপে ধরে, আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে উচ্ছ্বাসে-আহ্লাদে নিজেকে ভাসিয়ে দিলেন তিনি। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় এমনই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
‘শর্টগার্লথিংস’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে ইনস্টাগ্রামের পাতায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, এক বৃদ্ধ দম্পতি সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়েছেন। মুম্বইয়ে থাকেন তাঁদের নাতনি। নাতনির সঙ্গে দেখা করতেই মুম্বইয়ে গিয়েছিলেন দম্পতি। দাদু-দিদা জীবনে কখনও সমুদ্র দেখেননি। তাই তাঁদের মনের ইচ্ছা পূরণ করতে মুম্বইয়ের সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে নিয়ে যান তরুণী।
পাছে সমুদ্রের জলে পা ডোবাতে গিয়ে শাড়ি ভিজে যায়, তাই অনেকটাই উঁচু করে শাড়ি ধরে ছিলেন বৃদ্ধা। তাঁর ভালবাসার সঙ্গী দাঁড়িয়ে রয়েছেন পাশেই। চলাফেরার জন্য এখন লাঠিই ভরসা বৃদ্ধের। জীবনে প্রথম সমুদ্র দেখার আনন্দ আর সামলে রাখতে পারলেন না বৃদ্ধা। আহ্লাদে, লজ্জায়, উত্তেজনায় নাতনির সামনেই স্বামীর হাত শক্ত করে ধরে ফেললেন। বিস্তীর্ণ জলরাশিকে সাক্ষী রেখে তাঁর ঠোঁটে তখন লাজুক হাসি, তাঁর চোখে তখন সর্বসুখের ইশারা।