মায়ের মাথায় ১২ লক্ষ টাকার ঋণ ছিল। গুমরে গুমরে মরছিল জন্মদাত্রী। তা দেখে ঘুম আসত না ১৭ বছর বয়সি পুত্রেরও। অবশেষে উদয়াস্ত খেটে মায়ের মাথা থেকে ঋণের বোঝা নামাল সে। টাকা মায়ের হাতে তুলে দিতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে ব্রিটেনে। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সি ওই কিশোরের নাম আমান ফুগ্গল। ব্রিটেনের বাসিন্দা ওই কিশোর এমন কিছু করে তার মাকে অবাক করে দিয়েছে, যা তিনি কখনও কল্পনাও করেননি। তাঁর মাথায় থাকা ১২ লক্ষ টাকার ঋণ শোধ করার টাকা জোগাড় করেছে কিশোর পুত্র। ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, কিশোর আমান তার মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে। মায়ের চোখ বন্ধ। আমানকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমি শুধু বলতে চাই আমি তোমাকে খুব ভালবাসি এবং আমি তোমার জন্য সব কিছু করতে পারি। আমি জানি তুমি আমার জন্য কতটা করেছ। তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বিশেষ নারী। আমি যা কিছু করি তা তোমার এবং নিজের জন্য।’’ আমানের কথা শুনে তার মায়ের চোখে জল চলে আসে। চোখ বন্ধ করেই তিনি বলেন, ‘‘আমিও তোমাকে খুব ভালবাসি। কিন্তু আমি জানি না আমি কেন কাঁদছি।’’ এর পর আমান তার মাকে চোখ খুলতে বলেন। মহিলা চোখ খুলতেই তাঁর দিকে এক তাড়া নোট এগিয়ে দেয় কিশোর পুত্র। চমকে যান আমানের মা। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘আমান, এটা কী?’’ এর পর আমানকে শান্ত ভাবে বলতে শোনা যায়, ‘‘এটা দশ হাজার পাউন্ড (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১২ লক্ষ টাকারও বেশি)। এই সব টাকা তোমার ঋণশোধের জন্য। এখন থেকে প্রতি মাসে আমি তোমার সমস্ত খরচ মেটাতে সক্ষম। আমি সব ঠিক করে দেব। দয়া করে টাকাটা নিয়ে নাও।’’ ছেলে কী করেছে তা বুঝতে পেরে আমানের মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। হাউ হাউ করে কাঁদতে শুরু করেন। এর পর দু’জনে দু’জনকে আলিঙ্গন করেন। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন:
ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘আমান.জেকেডি’ নামের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, ‘‘খুব সুন্দর ভিডিয়ো। কিশোরের জন্য আমরা গর্ব অনুভব করছি। আশা করি আমিও এক দিন এমনটা করে মা-বাবাকে খুশি করতে পারব।’’ অন্য এক জন লিখেছেন, ‘‘জানি না তুমি এত কম বয়সে কী ভাবে এত টাকা রোজগার করেছ। কিন্তু তোমার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। তোমার মা-ও ভাগ্যবান যে তোমার মতো সন্তান পেয়েছে।’’ তৃতীয় এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘মন ভাল করা ভিডিয়ো। চোখে জল এসে গেল।’’