কয়েক মাস পরেই প্রিয় বান্ধবীর বিয়ে। কনের পোশাকের সঙ্গে রং মিলিয়ে নিজের জন্য পোশাক বাছাই করে ফেলেছেন তরুণী। কিন্তু বান্ধবীর বিয়ের আগে ‘কঠিন পণ’ নিয়ে ফেললেন তিনি। নিজের ওজন এক লাফে অনেকটাই কমিয়ে ফেলতে চেয়েছিলেন তরুণী। তাই খাওয়াদাওয়া প্রায় ছেড়ে দেন। এমনকি, কড়া ডায়েটের পাশাপাশি কঠিন নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করতেও শুরু করেন। কিন্তু সেই ‘কঠিন পণ’ই তাঁকে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন করে তোলে। রোগা হতে গিয়ে রোগ বাঁধিয়ে ফেলেন তরুণী। পরিস্থিতির এত অবনতি হয়ে যায় যে, হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। প্রায় তিন মাস ধরে চিকিৎসা চলার পর সুস্থ হন তিনি।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ২৬ বছর বয়সি তরুণীর নাম শিয়াওয়ু। চিনের জ়েজিয়াং প্রদেশের হাংজ়ৌ এলাকার বাসিন্দা তিনি। সেখানকার এক সংস্থায় কর্মরত শিয়াওয়ু। কয়েক মাস পরেই প্রিয় বান্ধবীর বিয়ে তাঁর। বিয়ের তারিখ জানার সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত পরিকল্পনা করতে শুরু করে দিয়েছিলেন তরুণী।
প্রিয় বান্ধবীর বিয়ের পোশাকের সঙ্গে রং মিলিয়ে নিজের জন্য কোন পোশাক কিনবেন, তা-ও ঠিক করে ফেলেন শিয়াওয়ু। কিন্তু প্রিয় বান্ধবীর বিয়ের আগে যে তাঁকে রোগা হতে হবে! ৬৫ কেজি ওজন ছিল তাঁর। রোগা হওয়ার পণ নিয়ে খাওয়াদাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। দিনে অধিকাংশ সময় খেতেন না। না হলে অল্প পরিমাণ শাকসব্জি এবং চিকেন ব্রেস্ট খেতেন।
কঠিন নিয়মে শরীরচর্চা করতেও শুরু করে দিয়েছিলেন তরুণী। প্রতি দিন নিয়ম মেনে ১০ কিলোমিটার পথ হাঁটাহাঁটি, দৌড়োদৌড়ি করে অতিক্রম করতেন শিয়াওয়ু। মাস দুয়েকের মধ্যে ১৫ কেজি ওজন কমেও যায় তাঁর। লক্ষ্যে পৌঁছোতে পারলেও শরীর ভেঙে গিয়েছিল। শরীরে কোনও বল ছিল না। মাঝেমধ্যেই মাথা ঘুরে যেত। অধিকাংশ সময় নিস্তেজ হয়ে থাকতেন তিনি।
স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হলে নিকটবর্তী এক হাসপাতালে যান শিয়াওয়ু। সেখানকার চিকিৎসকেরা তরুণীর স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে জানতে পারেন যে, তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কার্বোহাইড্রেটের ঘাটতি রয়েছে তাঁর শরীরে। তা ছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে জলও খেতেন না তরুণী। খাওয়াদাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে কঠিন নিয়মে শরীরচর্চা করায় হিতে বিপরীত হয়।
চিকিৎসকের দাবি, ইনসুলিন ক্ষরণের মাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিপাকজনিত সমস্যাও দেখা দিয়েছিল শিয়াওয়ুর। সামান্য অনিয়ম হলে ডায়াবিটিসও বাঁধিয়ে ফেলতে পারেন তিনি। তা-ই অবিলম্বে তরুণীর চিকিৎসা শুরু করেন চিকিৎসকেরা। তিন মাসের চিকিৎসা এবং উপযুক্ত ডায়েটের পর তরুণীর ওজন দাঁড়ায় সাড়ে ৫২ কেজি। রোগা হতে গিয়ে যে রোগের ভোগান্তি হল, তার পর আর ওজন কমানোর চিন্তা মাথায় আনছেন না চিনের তরুণী।