Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৯ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

মিনাখাঁয় সিলিকোসিস

ক্ষতিপূরণ পেল ৫টি পরিবার

২০১২ সালে অনেকে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে অসুস্থ হয়ে গ্রামে ফিরে আসেন। যাঁদের মধ্যে ১৮৯ জন সিলিকোসিসের মতো ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। ইতিমধ

সামসুল হুদা
মিনাখাঁ ০৩ অক্টোবর ২০১৭ ০২:২৮
সিলিকোসিসে আক্রান্তের বাড়িতে মহরম ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে মিষ্টি নিয়ে হাজির বিডিও। নিজস্ব চিত্র

সিলিকোসিসে আক্রান্তের বাড়িতে মহরম ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে মিষ্টি নিয়ে হাজির বিডিও। নিজস্ব চিত্র

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে ক্ষতিপূরণ পেল মিনাখাঁয় সিলিকোসিসে মৃতদের পরিবার। গত ৯ মে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়, উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁর গোয়ালদহ গ্রামে সিলিকোসিসে আক্রান্ত হয়ে যে পাঁচ জন মারা গিয়েছিল তাঁদের পরিবারকে ৪ লক্ষ করে টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। নানা টালবাহানার পরে ২০ সেপ্টেম্বর গোয়ালদহ গ্রামের বাসিন্দা মৃত বাবুসোনা মোল্লা, মুজাফ্‌ফর মোল্লা, বিশ্ব মণ্ডল ওরফে বিশো, আবুল পাইক, বিশ্বজিৎ মণ্ডলের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয় রাজ্য সরকার। যার মধ্যে ২ লক্ষ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দেওয়া হয়।

আয়লা পরবর্তী সময়ে মিনাখাঁর গোয়ালদহ, দেবীতলা, ধুতুরদহ-সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বহু মানুষ আসানসোল, জামুড়িয়া, রানিগঞ্জে পাথর খাদানে কাজে গিয়েছিলেন। ২০১২ সালে অনেকে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে অসুস্থ হয়ে গ্রামে ফিরে আসেন। যাঁদের মধ্যে ১৮৯ জন সিলিকোসিসের মতো ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। ইতিমধ্যে ২২ জন মারা গিয়েছেন। মিনাখাঁর ওই সব গ্রামে মৃত্যু মিছিল বাড়তে থাকায় সরব হয় পরিবেশ কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও নানা গণসংগঠন। এরপর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়, ৫ জন মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য। সেই মতো রাজ্য সরকার ওই ৫টি পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়।

পরিবেশ কর্মী বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, “দেরিতে হলেও সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। যদিও ৪ লক্ষ টাকা এমন কিছু নয়। শুধু মৃত ওই ৫টি পরিবার নয়, বাকি মৃত ও আক্রান্ত পরিবারগুলিও যাতে ক্ষতিপূরণ ও সরকারি সব রকম সুযোগ সুবিধা পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে রাজ্যকে।”

Advertisement

সোমবার গোয়ালদহ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ৪ লক্ষ টাকা করে পাওয়ার পরেও ওই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। আখের আলি মোল্লার তিন ছেলে মোজাফ্‌ফর, মিজানুর ও হাসানুর পাথর খাদানে কাজে গিয়ে সিলিকোসিসে আক্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। এঁদের মধ্যে মোজাফ্‌ফর ও মিজানুর মারা যান। হাসানুর মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। আখের আলি মোজাফ্‌ফরের মৃত্যুর জন্য ৪ লক্ষ টাকা পেলেও মিজানুরের মৃত্যুর জন্য কোনও টাকা পাননি। এদিকে আর এক ছেলে হাসানুর অসুস্থ। আখের আলি বলেন, ‘‘তিন ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে জমি-জায়গা প্রায় সব বিক্রি করে দিয়েছি। সামান্য ভিটে-বাটির সঙ্গে ১০ কাঠা জমি আছে। তাও বন্দক রাখতে হয়েছে। রোজগারের কেউ নেই। ওই সামান্য টাকা দিয়ে কীভাবে দেনা মিটিয়ে জমি ছাড়াব? আর কী ভাবে অসুস্থ ছেলের চিকিৎসা করাব? এ দিকে ছোটছোট নাতি-নাতনিদের মুখে দু’বেলা ভালভাবে খাবার তুলে দিতে পারছি না।”

মর্জিনা বিবির দুই ছেলে আবুল পাইক ও জাকির পাইক সিলিকোসিসে মারা যান। আবুল পাইকের মৃত্যুর জন্য তিনি ৪ লক্ষ টাকা পেলেও জাকিরের মৃত্যুর জন্য কোনও টাকা পাননি। আবুল মারা যাওয়ার পরে তাঁর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে ছেড়ে দিয়ে স্ত্রী আর একটি বিয়ে করেছেন। মর্জিনা বিবি বলেন, ‘‘দুই ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সব কিছু শেষ। এখন ওই টাকা দিয়ে জমি ছাড়াব না নাতনিদের বিয়ের জন্য জমিয়ে রাখব? এ দিকে সংসারে আয় করার মতো কেউ নেই। কীভাবে হবে জানি না।”

অন্য দিকে, সিলিকোসিসে মৃত ও আক্রান্ত পরিবারগুলি সরকারি কোনও অনুদান না পাওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ওই গ্রামের বাসিন্দা সইদুল পাইক বলেন, “রাজ্যের উচিত অবিলম্বে মৃত বাকি পরিবারগুলিকেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া। অসুস্থদের জন্য ২ টাকা কেজি দরে চাল, সরকারি নানা সুযোগ সুবিধা দেওয়া এবং কলকাতার যে কোনেও একটি সরকারি হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।’’

মিনাখাঁর বিডিও সৈয়দ আহম্মেদ বলেন, ‘‘সিলিকোসিসে মৃত বাকি পরিবারগুলিও যাতে ক্ষতিপূরণ পায় সে জন্য আমি তাঁদের নামের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। তা ছাড় মৃত পরিবারের বাচ্চারা যাতে পড়াশোনা করতে পারে, তাদেরও নামের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তারা যাতে পড়াশোনার জন্য বিনামূল্যে সরকারি সব রকম সাহায্য পায় তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”



Tags:
Compensation Minakhan Silicosisমিনাখাঁ

আরও পড়ুন

Advertisement