দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে শেষ রবিবারে নিজের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারের একাধিক জায়গায় প্রচার সারলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন দুপুরে মগরাহাট পূর্ব বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী শর্মিষ্ঠা পুরকাইত এবং মগরাহাট পশ্চিমের প্রার্থী সামিম আহমেদের সমর্থনে উস্তি হাই স্কুল মাঠে জনসভা করেন তিনি। পরে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের সমর্থনে ৪ নম্বর হল্ট থেকে জগন্নাথপুর পর্যন্ত রোড-শোতে যোগ দেন। দিন উস্তির সভামঞ্চ থেকে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে এক যোগে নিশানা করেন অভিষেক।
সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবারের একটি আবাসিক হোটেলে পুলিশ পর্যবেক্ষকের সঙ্গে বিজেপি প্রার্থীদের গোপন বৈঠকের অভিযোগ ওঠে। সেই প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেন, “এখানকার আকাশে, বাতাসে, মাটিতে, লতায়-পাতায় আমি রয়েছি। পালাবে কোথায়!’’ ওই ঘটনায় পাঁচ জন পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন। এই প্রসঙ্গে অভিষেকের সংযোজন, “গোপন বৈঠক নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছিল। চোর চুরি করেছে, পুলিশ ধরেছে, সে জন্যই ব্যবস্থা! ভেবেছিল পাঁচ অফিসারকে পাল্টে অভিষেককে জব্দ করবে। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, অমিত শাহ আর জ্ঞানেশ কুমার, ৪ তারিখ দেখা হবে।” পূর্ব বর্ধমানের সভা থেকেও এ দিন একই কথা বলেন অভিষেক। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এই মাটি কারও বাপের সম্পত্তি নয়৷ দিল্লি, গুজরাত থেকে এসে স্বাধীনতার ৭৯ বছর পরে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইবে!” পাশাপাশি অভিযোগ করেন, “যাঁরা বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন, মানুষের প্রয়োজনে কখনও দেখা যায়নি। কোভিডের সময়ে, এসআইআর-এর সময়ে কোনও সাহায্যই করেননি। আর এখন ৫০০ টাকা ৭০০ টাকা বিলি করছেন ঝান্ডা ধরার জন্য। মানুষকে বলব, পদ্মফুলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জোড়া ফুলে ভোট দেবেন।”
মাছ-মাংস প্রসঙ্গেও আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “চার তারিখের পরে বিজেপি প্রার্থীদের ঘাড় ধরে মাছের দোকানে বসিয়ে মাছ কাটাবো, মাছ বিক্রিও করাবো!” মঞ্চ থেকে আইএসএফ এবং নওসাদ সিদ্দিকীকে বিজেপির ‘বি-টিম’ বলে কটাক্ষ করেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, ‘‘সিপিএম এবং আইএসএফ জোট বেঁধেছে। আসন সমঝোতা করেছে। আবার নন্দীগ্রামে সিপিএম এবং আইএসএফ দু’জনেই প্রার্থী দিয়েছে। নওসাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে বিজেপির ডিলটা কী? স্পষ্ট করুক আইএসএফ।”
বিজেপির মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার নেতা অশোক পুরকাইতের প্রতিক্রিয়া, “অনেক বড় বড় কথা বলে গিয়েছেন অভিষেক। এবারে তাঁরা হারবেন, বাংলায় বিজেপির সরকার হবে। তখন সব লাফালাফি বন্ধ করে দেব।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)