নানা সময়ে সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে তাঁরা সকলে ‘আক্রান্ত’ হয়েছিলেন। শনিবার ডায়মন্ড হারবারে ফের ঘটল একই ঘটনা। সভামঞ্চে তৃণমূল বিধায়কের নেতৃত্বে বেআইনি ভাবে একটি দলীয় কার্যালয় তৈরির কথা তুলতেই আক্রান্ত হলেন শিলাদিত্য চৌধুরী, অম্বিকেশ মহাপাত্র, প্রদীপ মুখোপাধ্যায়দের নিয়ে গঠিত সংগঠন, ‘আমরা আক্রান্ত’-এর সদস্যেরা। শাসক দলের লোকজন মঞ্চে উঠে মাইকের তার ছিড়ে ফেলে, ধাক্কাধাক্কি শুরু করে দেয়। বানচাল হয়ে যায় সভা। পুলিশবাহিনী গিয়ে বক্তাদের উদ্ধার করে।
তাতেও হেনস্থার শেষ নয়। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর পরে হোটেলে ফেরার সময়ে তৃণমূলের মোটরবাইক বাহিনী তাঁদের ধাওয়া করে বলেও অভিযোগ তুলেছে ওই সংগঠন। তাঁরা একটি হোটেলে ঢোকার পর হোটেলের প্রধান গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ব্যঙ্গচিত্র-কাণ্ডে অভিযুক্ত অম্বিকেশবাবু বলেন, “এ দিন যা হল তা আর ভাবতে পারছি না। সভা চলাকালীন তৃণমূলের কিছু লোক এসে সভা বন্ধ করতে বলে। হাত থেকে মাইক কেড়ে নেয়। মাইক ভেঙে দেয়।” সারের দামবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ‘মাওবাদী’ তকমা পাওয়া শিলাদিত্যবাবু বলেন, “আমরা কেউই মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কোনও কটূক্তি করিনি। শেষ মুহূর্তে তৃণমূলের গুণ্ডাবাহিনী এসে আমাদের উপর হামলা করল।” পাড়ুইয়ে নিহত সাগর ঘোষের ছেলে হৃদয়বাবু বলেন, “পুরোপুরি অরাজনৈতিক সভা ছিল। সেখানে তৃণমূল-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা করল। থানায় অভিযোগ জানানোর পর ওদের মোটরবাইক বাহিনী আমাদের তাড়া করেছে।”
ডায়মন্ড হারবারের উপ-পুরপ্রধান পান্নালাল হালদারের দাবি, “ওখানে কোনও পার্টি অফিস আছে কিনা জানা নেই। তবে যে নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে, তা নিয়ম মেনেই হয়েছে।” অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল বিধায়ক দীপক হালদারও। তাঁর দাবি, “নির্মাণ নিয়ে যে অভিযোগ করছেন ওঁরা, তা ঠিক নয়। নেত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতাদের নামে কটূক্তি করছিলেন। গ্রামবাসীরাই মঞ্চে উঠে এর প্রতিবাদ জানান।”
মুখ্যমন্ত্রী বা তৃণমূল নেতাদের নামে কটূক্তির অভিযোগ মানতে চাননি অম্বিকেশবাবুরা। এ দিন দুই তরফে অভিযোগ করা হয়েছে থানায়। তৃণমূল বিধায়ক টিএমসিপি নেতা দীপক হালদারের ঘনিষ্ঠ মিন্টু তিওয়ারি এবং অমিত সাহার নেতৃত্বে তাঁদের উপর হামলা হয়েছে, এই অভিযোগ করেছে থানা। পুলিশ জানিয়েছে, সব দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে।
এ দিন বিকেলে ডায়মন্ড হারবার বাসস্ট্যান্ডের পাশে ওই সংগঠনের সভায় অম্বিকেশ, শিলাদিত্য, হৃদয়বাবু ছাড়াও ছিলেন চিত্র পরিচালক অরুণাভ গঙ্গোপাধ্যায়, সুটিয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের অন্যতম সাক্ষী নিহত বরুণ বিশ্বাসের বাবা জগদীশ বিশ্বাস, প্রমুখ। প্রত্যেকে নানা সময়ে শাসক দলের সমালোচনা করায় কী রকম বিড়ম্বনার মধ্যে তাঁরা পড়েছিলেন, সে কথা বক্তারা বলেন। টেট কেলেঙ্কারির কথাও তোলেন বক্তারা। সভার আয়োজক, ‘আমরা আক্রান্ত’ মঞ্চের সদস্য মইদুল ইসলাম বক্তৃতার সময়ে একটি বাড়ির দিকে আঙুল দেখিয়ে বলেন, “ওই বেআইনি নির্মাণে মদত দিয়েছে বিধায়ক এবং পুরসভা। বেআইনি ভাবে পার্টি অফিস তৈরি হয়েছে।” এই কথা বলামাত্রই শুরু হয়ে যায় গোলমাল। সামান্য কয়েকজন পুলিশ প্রথমে তা সামলাতে পারেনি। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে ওই সংগঠনের সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
অভিযোগ, হামলা চালানো হয় বিধায়ক ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা মিন্টু তিওয়ারির নেতৃত্বে। ঘটনাস্থলে তাঁর উপস্থিতির কথা উড়িয়ে বিধায়কের সুরেই মিন্টুবাবু দাবি করেন, “মিথ্যা অভিযোগ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে কটূক্তির প্রতিবাদ করেন স্থানীয়রাই। আমরা থামাতে যাই।”