E-Paper

গোষ্ঠীকোন্দলই পতনের কারণ তৃণমূলের, গোসাবায় জয়ী বিজেপি

২০১১ সালে রাজ্যে পালা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গোসাবার রাজনৈতিক রংও বদলেছিল।

প্রসেনজিৎ সাহা

শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ০৯:৪৩
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

গত পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর কোন্দলে মাঝে মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোসাবা বিধানসভা এলাকায়। দিনের পর দিন স্থানীয় বিধায়ক সুব্রত মণ্ডল ও জেলা পরিষদ সদস্য অনিমেষ মণ্ডলের মধ্যে বিবাদ গোসাবা ব্লক তৃণমূলের উপরে প্রভাব ফেলে। দিনের পর দিন এই কোন্দল বেড়ে চললেও দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব সমস্যা মেটাতে উদ্যোগ করেননি বলে অভিযোগ।

বরং সুব্রতকে এবার টিকিট দিয়ে কার্যত অনিমেষ ও তাঁর অনুগামীদের কড়া বার্তা দেওয়া হয় দলের তরফে। এমনকি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গোসাবায় নির্বাচনী প্রচারে এসেও বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীদের কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বিধানসভা ফল ঘোষণার পরে ‘ব্যবস্থা নেওয়ার’ কথা বলে যান তিনি।

সেই হুমকির পরেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন অনিমেষ মণ্ডল, তাপস মণ্ডল, রঞ্জন মণ্ডল, বরুণ প্রামাণিক-সহ বহু ব্লকস্তরের নেতা ও তাঁদের হাজার হাজার অনুগামী।

এই পরিস্থিতিতে এবার গোসাবা আসন তৃণমূলের হাত ছাড়া হল।

২০১১ সালে রাজ্যে পালা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গোসাবার রাজনৈতিক রংও বদলেছিল। ১৯৭৭ সাল থেকে বামেদের দখলে থাকা গোসাবা আসন ছিনিয়ে নেন তৃণমূল প্রার্থী জয়ন্ত নস্কর। জয়ন্তের হাত ধরে এই দ্বীপাঞ্চলে তৃণমূলের সংগঠন যথেষ্ট শক্তিশালী হয়। পর পর এই কেন্দ্র থেকে জয়লাভও করেন জয়ন্ত। প্রতিবারই সেই জয়ের ব্যবধান বাড়তে থাকে।

কিন্তু তাঁর অকাল মৃত্যুর পরেই তৃণমূলের কোন্দল শুরু হয় গোসাবা ব্লক জুড়ে। উপনির্বাচনে সুব্রত প্রায় দেড় লক্ষ ভোটে জয়লাভ করলেও জয়ের পর থেকে দলের অন্যান্য নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। এদিকে, দলে যথাযথ সম্মান মিলছে না, এই অভিযোগ তুলে বিধানসভা নির্বাচনের দিন পনেরো আগে অনিমেষ, তাপস, রঞ্জনেরা যোগ দেন বিজেপিতে। বিজেপি প্রার্থী বিকর্ণ নস্করের সমর্থনে প্রচার, মিটিং, মিছিল করতে থাকেন সকলে। সেই সব সভায় মানুষের ভিড় উপচে পড়েছে।

অনিমেষ, তাপস, বরুণদের সাংগঠনিক দক্ষতা বিজেপি প্রার্থীকে অনেকটাই এগিয়ে দেয় বলে মনে করছেন পদ্ম শিবিরের অনেকে। ১৬,১০০ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী।

হারের পরে সুব্রত বলেন, ‘‘মানুষের রায় মাথা পেতে নিলাম। সারা রাজ্য জুড়েই তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। গোসাবাও ব্যতিক্রম নয়।” অনিমেষ বলেন, “লাগাম ছাড়া ঔদ্ধত্যই এর জন্য দায়ী। তবে মানুষ বুঝেছে, তৃণমূলের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত দল বাংলায় থাকলে এখানে উন্নয়ন হবে না, তাই এই রায় দিয়েছেন।”

বিজেপি বিধায়ক বিকর্ণ নস্করের কথায়, ‘‘মারধর, অত্যাচারের পরেও বিজেপি কর্মারা যে ভাবে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইয়ের ময়দান আঁকড়ে পড়েছিলেন, আত্মত্যাগ করেছেন, তা এই জয়ের মূল ভিত্তি। তবে নবাগতেরাও পুরনো কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

gosaba TMC BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy