E-Paper

সাগরে বিজেপির উত্থান, আশ্বাস সেতু নির্মাণে

তৃণমূলের একাংশের দাবি, গত দেড় দশকে এলাকায় একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, গঙ্গাসাগর সেতু প্রকল্পের সূচনাও তার মধ্যে অন্যতম।

সমরেশ মণ্ডল

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ০৯:১৮
কপিল মুনির আশ্রমে ভক্তদের ভিড়।

কপিল মুনির আশ্রমে ভক্তদের ভিড়। ফাইল চিত্র।

মুড়িগঙ্গা নদীর উপরে সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নই অগ্রাধিকার—জয়ের পরে এমনই বার্তা দিয়েছেন সাগরের বিজেপি প্রার্থী সুমন্ত মণ্ডল। এই বিধানসভায় গত তিনবারের বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরাকে ৭,৮৮১ ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি।

ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, গত বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্কিম হাজরা প্রায় ১ লক্ষ ২৯ হাজার ভোট পেলেও, এ বার কমেছে প্রায় ৯ হাজার ভোট। বামেদের ভোটও কমেছে প্রায় ২ হাজার। অন্য দিকে, বিজেপির ভোট বেড়েছে প্রায় ২৭ হাজার। তাদের প্রাপ্ত ভোট ১,২৭,৮০২।

তৃণমূলের একাংশের দাবি, গত দেড় দশকে এলাকায় একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, গঙ্গাসাগর সেতু প্রকল্পের সূচনাও তার মধ্যে অন্যতম। তবুও ফল খারাপ হওয়ার কারণ হিসেবে স্থানীয় স্তরে জমে থাকা ক্ষোভ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষের কথা উল্লেখ করছেন দলের একাংশ। অভিযোগ, টিকিট না পাওয়া কিছু নেতা বিরোধীদের সঙ্গে
যোগাযোগ রেখে প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন।

নির্বাচনের আগে গঙ্গাসাগর সেতু নির্মাণের বিষয়টি ছিল প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধ, কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ এবং বকখালিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আলোচনায় ছিল। গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও বার বার উঠে এসেছে। ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রেক্ষাপটে এই দাবিগুলির বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ভোটার ও পরিযায়ী শ্রমিকদের একাংশ এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের মতো বিষয়গুলি ভোটের ফল নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে।

জয়ের পরে সুমন্ত মণ্ডল বলেন, প্রতিশ্রুতি পূরণই এখন মূল লক্ষ্য। তাঁর কথায়, ‘‘মুড়িগঙ্গা নদীর উপরে সেতু নির্মাণে কেন্দ্র ও
রাজ্যের যৌথ উদ্যোগ নিশ্চিত করা হবে।’’ পাশাপাশি, কপিলমুনি মন্দিরকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ করার কথা জানান তিনি।

অন্য দিকে, পরাজয়ের পরে বঙ্কিম হাজরা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিত ভাবে তৃণমূলকে হারানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ফল ঘোষণার পরে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর ও হিংসার ঘটনা ঘটেছে, যা এই অঞ্চলের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরল। প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

sagar BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy