Advertisement
E-Paper

‘ওই দেখ, শিশুচোররা ঢুকছে’

ঘড়ির কাঁটা তখন সাড়ে ৩টে ছুঁই ছুঁই। বসিরহাট আদালত চত্বরে পুলিশের জালে ঘেরা গাড়িটা ঢুকতেই জনতার ধুয়ো তুলল, ‘ওই দেখ, শিশুচোরেরা ঢুকছে। মার মার!’

নির্মল বসু

শেষ আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০১৬ ০১:৪৩
সিআইডি-র সঙ্গে আর এক অভিযুক্ত পলি দত্ত ওরফে উৎপলা। ছবি তুলেছেন সজলকুমার চট্টোপাধ্যায়।

সিআইডি-র সঙ্গে আর এক অভিযুক্ত পলি দত্ত ওরফে উৎপলা। ছবি তুলেছেন সজলকুমার চট্টোপাধ্যায়।

ঘড়ির কাঁটা তখন সাড়ে ৩টে ছুঁই ছুঁই। বসিরহাট আদালত চত্বরে পুলিশের জালে ঘেরা গাড়িটা ঢুকতেই জনতার ধুয়ো তুলল, ‘ওই দেখ, শিশুচোরেরা ঢুকছে। মার মার!’

পুলিশের তৎপরতায় অবশ্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো গিয়েছে। অভিযুক্তদের একে একে গাড়ি থেকে নামিয়ে ঢোকানো হয় আদালত লকআপে। অসুস্থ থাকায় চিকিৎসক সন্তোষকুমার সামন্ত এবং শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকায় পুতুল বন্দ্যোপাধ্যায়কে বসার জন্য চেয়ার দেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্তদের তোলা হয় বসিরহাটের এসিজেএম অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়ের এজলাসে।

আদালতে আনা হয় কলকাতার দুটি নার্সিং হোম থেকে গ্রেফতার হওয়া চিকিৎসক সন্তোষ কুমার সামন্ত,পার্থ চট্টোপাধ্যায়,পুতুল বন্দ্যোপাধ্যায় (বড়দি), প্রভা পরামানিক (মেজদি) এবং পারমিতা চট্টোপাধ্যায়কে। তাদের সঙ্গে এই মামলায় সি আই ডি-র অফিসারও ছিলেন। গাড়ি থেকে নামার সময়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং পারমিতা চট্টোপাধ্যায় হাত দিয়ে মুখ ডাকলে জনতার মধ্যে উত্যাপ ছড়ায়। ‘শিশু চুরি করে বিক্রি করে, ওদের মারো’ বলে একদল জনতা এগিয়ে আসলেও পুলিশের তৎপরতায় তারা সরে যেতে বাধ্য হয়।

বেলা ৩.৪০ নাগাদ অভিযুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং পারমিতা চট্টোপাধ্যায় আদালতকে জানায়, কলকাতা থেকে তাদের আইনজীবী এখনও এসে পৌঁছতে পারেনি। তাই তাদের একটু সময় দেওয়া হোক। বিচারক সময় দেন।

সে সময়ে এজলাস কক্ষে আইনজীবী এবং জনতার ভিড় বাড়ছিল। একে তো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা ছিল। তার উপরে আদালতে কাজকর্ম চালাতেও সমস্যা পড়তে হচ্ছিল বিচারক, আইনজীবীদের। বিচারক নির্দেশ দেন, এই মামলার সঙ্গে যুক্তেরা বাদে সকলে যেন আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

বেলা ৩.৫৫ মিনিট নাগাদ কলকাতা থেকে আইনজীবী পৌঁছলে শুনানি শুরু।

সন্তোষকুমার সামন্ত, প্রভা পরামানিক এবং পারমিতা চট্টোপাধ্যায়কে ১২ দিন সিআইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। বাকিদের ১২ দিলের জেলহাজত হয়েছে।

অভিযুক্তদের পক্ষে ৯ জন আইনজীবী সওয়াল করেন। মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী হরেন্দ্রনাথ মণ্ডল জানান, ধৃতদের বিরুদ্ধে জন্মানোর পরেই মারার চেষ্টা, শিশু অপহরণ, নাবালক বিক্রি-ছাড়াও আরও কিছু ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তার মধ্যে জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট-ও আছে। আগামী ৬ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন। সন্তোষকুমারে আইনজীবী এএফএম মাসুম এবং তাঁর সহকারী ঋতুপর্ণা দাস বলেন, ‘‘আমার মক্কেল সন্তোষবাবুর ষাট বছর বয়স। তিনি অসুস্থ। হাইপার টেনশন থাকায় কথা বলতে গেলে হাঁফ ধরে। তাঁর চিকিৎসা চলছে। তিনি নির্দোষ। তাই বিচারকের কাছে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল।’’ আবেদন অবশ্য মঞ্জুর হয়নি।

Child trafficer Arrest
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy