E-Paper

নাম কাটা গিয়েছে, ভোট দেওয়া হল না বিজলিদের

পঁচাত্তর বছরের আশুতোষ বিশ্বাসের বাড়িতেও একই পরিস্থিতি। জানালেন, বহু বছর ধরে ভোট দিচ্ছেন।

সীমান্ত মৈত্র  

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ০৯:৫৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

দুপুর গড়িয়ে ১টা। বুথের সামনে দীর্ঘ লাইন ভোটারদের। দল বেঁধে মানুষ চলেছেন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের দিকে। রাস্তার ধারে অস্থায়ী খাবারের দোকান বসেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা কড়া নজরে টহল দিচ্ছেন।

সব কিছু মিলিয়ে ভোটের চেনা ছবি। এরই মাঝে কিছু মানুষের চোখেমুখে শূন্যতা।

মণ্ডবঘাটা গ্রামের এক কোণে নিজের উঠোনে বসে ছিলেন সত্তরোর্ধ্ব মতি সাধক। বললেন, “মনটা খারাপ। প্রতিবারই ভোট দিতে যেতাম। এবার চেনাশোনা কত লোকই যাচ্ছে। আমার আর সেই অধিকার নেই।’’ এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁর পরিবারের ছ’জনেরই নাম কাটা গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে।

কাছেই বিজলি মল্লিকের বাড়ি। দরজার চৌকাঠে বসে ছিলেন তিনি। বিজলি বলেন, “সকলে ভোট দিতে যাচ্ছেন। আমি বসে আছি, মনে হচ্ছে আমরা এখানকার আর কেউ নই।” তাঁর এবং ছেলে সুব্রত মল্লিকের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। সকাল থেকে হাঁড়ি চড়েনি বলে জানালেন। ক্ষোভ, অপমানে বিধ্বস্ত।

পঁচাত্তর বছরের আশুতোষ বিশ্বাসের বাড়িতেও একই পরিস্থিতি। জানালেন, বহু বছর ধরে ভোট দিচ্ছেন। এ বার পারেননি। বাড়ির অন্যেরা ভোট দিতে গিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘কেন নাম কাটা গেল জানি না। সকলকে ভোট দিতে দেখছি। কেমন সবটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে।’’

বনগাঁ দক্ষিণের সুপর্ণা চৌধুরী জানলার আড়াল দিয়ে কাছেই বুথের ভিড়ের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। তাঁর স্বামী ভোট দিতে গিয়েছেন, তিনি পারেননি। বললেন, ‘‘সব কাগজ দিয়েছিলাম, তবুও নাম নেই!’’ বলতে বলতে চোখ মুছলেন তিনি। স্বামী চোয়াল শক্ত করে বললেন, “স্ত্রীর এই অপমান ভুলব না।”

বিষয়টি নিয়ে চলছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “মানুষকে অপমান করা হয়েছে, তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।” কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের বক্তব্য, “যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের নাম পরে উঠবে।”

কিন্তু সেই আশ্বাসে দ্রবীভূত হচ্ছে না গণতন্ত্রের সব থেকে বড় উৎসবে যোগ দিতে না পারা মানুষের মন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bangaon

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy