দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচনের বাকি আর পাঁচ দিন। শনিবার সেখানে সভা করলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডাকে এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জেতানোর আবেদনের পাশাপাশি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে তোপ দাগলেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘ভোট শেষ হোক। ওর ব্যবস্থা করব। সেই দায়িত্ব আমার।’’
অভিষেক-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জাহাঙ্গির গত কয়েক বছরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান নাম হয়ে উঠেছেন। বিধানসভা ভোটে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা ‘বনাম’ তৃণমূল প্রার্থীর ঠান্ডা লড়াই প্রত্যক্ষ করেছে রাজ্য। এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট অজয়পাল উত্তরপ্রদেশের আইপিএস। পুলিশকর্তা হিসাবে তাঁর ইমেজের জন্য বড়পর্দার চরিত্র ‘সিংহম’-এর সঙ্গে তাঁকে তুলনা করা হয় আদিত্যনাথের রাজ্যে। সেই অজয়পালের উদ্দেশে জাহাঙ্গির বলেছিলেন, ‘‘উনি সিংহম হলেও আমিও পুষ্পা... ঝুঁকেগা নহি।’’
ভোট মিটে যাওয়ার পর বিরোধীরা অভিযোগ করেন, ফলতা বিধানসভার বেশ কয়েকটি বুথে সুষ্ঠু ভোট হয়নি। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। আগামী ২১ মে আবার ফলতায় ভোট। বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে শনিবার সেই ফলতাতেই সভা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী হিংসায় ১৯ জনকে ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ ঘোষণা করেছিল মানবাধিকার কমিশন। তার মধ্যে জাহাঙ্গির এক জন। তিনি কটাক্ষ করে সভা থেকে বলেন, ‘‘ওই ডাকাতটা কোথায়, পুষ্পা না কী যেন নাম! যত অভিযোগ করেছে সাধারণ নির্বাচনের সময়, সবগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। গুন্ডামি করতে দেব না। নিশ্চিন্ত থাকুন। সাদা থান বাড়িতে ফেলতে দেখব না।’’
বিজেপি যখন বিরোধীর আসনে ছিল, তাদের অভিযোগ ছিল, ফলতা তথা ডায়মন্ড হারবার লোকসভায় জাহাঙ্গিরের নেতৃত্বেই সন্ত্রাস-মারামারি, তোলাবাজি, জোর করে বুথ দখলের বহু ঘটনা ঘটে। বিরোধী রাজনীতি করা লোকজন তো বটেই, বহু সাধারণ মানুষ নাকি জাহাঙ্গিরের দাপটে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
জাহাঙ্গির অবশ্য সমস্ত অভিযোগ নস্যাৎ করেছেন। শুধু ফলতা থেকে ডায়মন্ড হারবার লোকসভার তৃণমূল প্রার্থীকে দেড় লক্ষ লিড দেওয়ার প্রধান চরিত্র শুক্রবার দলীয় কার্যালয় খুলে জানিয়েছেন ভোটের জন্য তিনি প্রস্তুত। জাহাঙ্গিরের দাবি, তৃণমূল আমলে সমগ্র ফলতায় তিনি কী কাজ করেছেন, সেই জবাব সর্বসাধারণ দেবে।
এর মধ্যে শনিবার ফলতার জন্য ‘স্পেশ্যাল ডেভেলপমেন্ট প্যাকেজ’ রয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি জানান, প্রায় ১০ বছর ফলতা তথা ডায়মন্ড হারবারের মানুষ নিজের ইচ্ছায় ভোটদান করতে পারেননি। এ বার ভোট হবে সুষ্ঠু এবং অবাধ। ফলতাবাসীর উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘‘এই পুনর্নির্বাচনে শুধু দেবাংশুকে জেতানো নয়, নিছক একটি বিধানসভার ভোট নয়। এই বিধানসভার মোট ভোটার ২ লক্ষ ২৫ হাজার। এক লক্ষ ভোটে দেবাংশুকে জিতে পাঠাবেন।’’
আরও পড়ুন:
সেই সঙ্গে জেলা পুলিশকে কঠোর হতে বার্তা দিয়েছেন পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু। পূর্বতন তৃণমূল সরকার এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেককে বিঁধে পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘বিগত বছরগুলিতে ডায়মন্ড হারবার এলাকায় প্রচুর অন্যায় ও বেআইনি কাজ হয়েছে। রাজনৈতিক চাপে পড়ে আপনাদেরই সেই সব কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এখানকার সাংসদ নিজে ফোন করে করে পুলিশকে দিয়ে দলদাসের মতো কাজ করাতেন, তার সব প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। কিন্তু সেই দিন এ বার শেষ। এখন থেকে আপনাদের আমি ‘ফ্রি-হ্যান্ড’ দিলাম। কোনও তাঁবেদারি না করে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করুন।’’