ভোটদানে জুড়ে গেল ‘পোশাক-বিধি নিয়ে বিতর্ক!’
বুধবার গাইঘাটা বিধানসভার কুঁচলিয়া এলাকায় লুঙ্গি পরে ভোট দিতে এসেছিলেন বৃদ্ধ দেসের আলি মণ্ডল। লুঙ্গি পরে কেন্দ্রে ঢোকা যাবে না বলে জানিয়ে দেন কর্মরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। বৃদ্ধ বোঝাতে চেয়েছিলেন, লুঙ্গি পরেই তো জীবনের এতগুলো বছর কাটালেন। তা হলে ভোট দিতে বাধা কিসের! ধোপে টেঁকেনি ওজর-আপত্তি, যুক্তি। শেষমেশ নাতির প্যান্ট পরে ভোট দিলেন দেসের।
দিনভর এ নিয়ে চলেছে চর্চা, হাসি-মস্করা। ক্ষোভও জানিয়েছেন ভোটারদের অনেকে।
বেড়গুম ১ পঞ্চায়েতের কুঁচলিয়া এলাকার ১৮৯ নম্বর বুথে ভোট দিতে গিয়েছিলেন দেসের। বাধা দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। অভিযোগ, লুঙ্গি পরে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলা হয় বৃদ্ধকে। দেসেরকে ঠেলে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে জওয়ানদের বিরুদ্ধে। দেসের নিজেও নাকি ধাক্কাধাক্কি করেন বলে সূত্রের খবর।
এক সময়ে বাড়ি ফিরে যান দেসের। পরে নাতির প্যান্ট আর ফতুয়া গায়ে ফের আসেন। এ বার অবশ্য আর কোনও বাধার মুখে পড়তে হয়নি। হাসতে হাসতেই দেসের বললেন, “প্যান্ট-শার্ট পরতাম সেই যুবক বয়সে, আজ আবার সেই দিন ফিরে এল! তবে কারণটা কী, সেটা বোঝা গেল না!”
একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন আরও কয়েকজন গ্রামবাসী, জানা গেল স্থানীয় সূত্রে। আব্দুল হাসেম মণ্ডল বলেন, “আমাদের এখানে বয়স্ক মানুষেরা সাধারণত লুঙ্গিই পরেন। সকালে কয়েকজনকে লুঙ্গি পরে যাওয়ায় বুথে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে কেউ নাতির প্যান্ট, কেউ আবার প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধার করে প্যান্ট পরে ভোট দিয়েছেন।”
বেলা গড়াতে পরে এ নিয়ে ক্ষোভ দানা বাধে। শিথিল হয় ভোটগানের অলিখিত ‘পোশাক-বিধি।’ লুঙ্গি পরেই অনেকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছেন।
প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, ‘‘এমনটা হওয়ার কথা নয়। ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আমরা পরে গিয়ে মিটিয়ে দিই। সকলে শান্তিতেই ভোট দিয়েছেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)