Advertisement
E-Paper

কাণ্ডজ্ঞানহীন মেলা বন্ধ করল পুলিশ

মেলা চলার কথা ছিল বুধ এবং বৃহস্পতিবারও। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কী ভাবে ওই মেলা চলছিল?

অরুণাক্ষ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২০ ০২:৪১
মেলা বন্ধ হওয়ার পর। ছবি: সজল চট্টোপাধ্যায়

মেলা বন্ধ হওয়ার পর। ছবি: সজল চট্টোপাধ্যায়

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে যে কোনও জমায়েত, মেলার উপরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। সেই নিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর, খাস বারাসতে শীতলা পুজো উপলক্ষে একটি মেলায় ভিড় করলেন কয়েকশো মানুষ। মঙ্গলবার ভিড় ঠেলে পুজো দিলেন ভক্তেরা। মেলায় চলল কেনাকাটা, খাওয়াদাওয়া। যা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এলাকার মানুষই। পরে অবশ্য খবর পেয়ে মেলাটি বন্ধ করে দেয় পুলিশ-প্রশাসন।

মেলা চলার কথা ছিল বুধ এবং বৃহস্পতিবারও। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কী ভাবে ওই মেলা চলছিল? এত লোক সমাগম হচ্ছে দেখে আরও আগে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হল না কেন? জেলাশাসক চৈতালি চক্রবর্তী বলেন, ‘‘অনুমতি ছিল কি না, কী ভাবে মেলা চলল তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ পুর এলাকায় মেলা করতে অনুমতি নিতে হয় পুরসভারও। এ নিয়ে প্রশ্ন করলে বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অনুমতি ছাড়াই মেলাটি চলছিল। আমাদের কাছে খবর আসার পরে পুলিশকে মেলা বন্ধ করে দিতে বলেছি।’’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসতের নতুনপুকুর এলাকার ‘অধিবাসী’দের আয়োজনে মঙ্গলবার শীতলা পুজো উপলক্ষে ওই মেলাটি বসে। সোমবার থেকে সেখানে দোকানপাট বসলেও ভিড় শুরু হয় মঙ্গলবার বিকেল থেকে। রাস্তার দু’পাশে চালা বেঁধে বসেছিল দোকান। রাস্তার উপরেও পসরা সাজিয়ে বাদাম, জিলিপি বিক্রি শুরু হয়। সব মিলিয়ে ৫০টির মতো ছোট-বড় দোকানে মহিলা-পুরুষের পাশাপাশি ভিড় করে কচিকাঁচারাও। খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতেই সেখানে গিয়ে মেলা বন্ধ করার নির্দেশ দেয় বারাসত থানার পুলিশ।

বুধবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মেলার দোকানপাট বন্ধ। প্রবীর মোদক চৌধুরী নামে এক দোকানি বলেন, ‘‘তিন দিন ধরে মেলা চলার কথা ছিল। মেলায় দোকান দিয়েই রোজগার। প্রশাসন থেকে এসে মেলা বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষতি হয়ে গেল।’’ ওই পুজো কমিটির সম্পাদক পঙ্কজ দাস বুধবার বলেন, ‘‘মঙ্গলবার পুলিশ এসে নির্দেশ দিতেই মেলা বন্ধ করে দিয়েছি।’’

সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কী করে এত বড় ঝুঁকি নেওয়া হল, সেই প্রশ্ন করলে পুজো কমিটির সভাপতি পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘‘৬৪ বছরের পরম্পরা মেনে পুজো, মেলা হয়ে আসছে। কোনও বারই অনুমতি নেওয়া হয় না। তবে প্রশাসন বলা মাত্রই সব বন্ধ করে দেওয়া হয়। এক লক্ষ ভক্তের জন্য প্রসাদ রান্না হলেও সে সব নষ্ট হয়েছে।’’

কী বলছে পুলিশ? এ দিন পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘খবর পেয়ে মেলা বন্ধ করা হয়েছে। প্রশাসন থেকে এ ব্যাপারে নির্দেশ এলে সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy