ডিলার বলেছিলেন, লকডাউন মিটলে তবেই দোকান খুলে রেশনদ্রব্য দেবেন। খাদ্য দফতরের আধিকারিকেরা জানিয়ে দেন, নিজের খেয়ালখুশি মতো রেশন দোকান বন্ধ রাখা যায় না। অন্তত এই দুঃসময়ে তো নয়ই। অবিলম্বে দোকান খুলে পণ্য দিতে হবে গ্রামের বাসিন্দাদের। তার পরেও দোকান খুললেন না হিঙ্গলগঞ্জের রূপমারি পঞ্চায়েতের বাইনাড়া গ্রামের রেশন ডিলারের নিতাই বাউলি।
শুক্রবার রেশনদ্রব্য না পেয়ে বিক্ষোভ হয়েছিল গ্রামে। এ দিনও ফের রেশন দোকান বন্ধ পেয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযুক্ত রেশন ডিলার এ দিনও জানিয়ে দেন, সাত দিন পরে তিনি দোকান খুলবেন। এমনিতেই রেশনের দোকানগুলির সামনে ভিড় হচ্ছে। গ্রাহকদের বিক্ষোভের সময়েও গ্রাহকদের গা ঘেঁষাঘেষি করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। হিঙ্গলগঞ্জের ফুড ইনস্পেক্টর রজত মজুমদার বলেন, “শনিবার থেকেই দোকান খোলার নির্দেশ দিয়েছি। তারপরেও কেন তিনি দোকান খোলেননি, তা খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সকাল ৭টা থেকে তাঁরা দোকানের সামনে জড়ো হন। কিন্তু দোকান খোলেনি। অভিযোগ, ওই ডিলার সব সময়েই তিনি নিজের খেয়ালখুশি মতো দোকান খোলেন। নিতাই হাউলি বলেন, “আমি অসুস্থ। দোকান খুলতে দেরি হয়েছিল।” এলাকার বাসিন্দারা অবশ্য মনে করছেন, সত্যি বলছেন না নিতাই।
দুই ২৪ পরগনায় অন্যান্য এলাকায় শনিবার রেশন দোকানগুলিতে গত কয়েক দিনের থেকে ভিড় কিছুটা কম হলেও অনেক লোক অপ্রয়োজনে ভিড় বাড়িয়েছেন। কোনও সুরক্ষা ছাড়াই এক জায়গায় জড়ো হয়ে গল্প করতে দেখা গিয়েছে বেশ কিছু দোকানে।
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রেশন দোকানগুলিতেও এ দিন ভালই ভিড় ছিল। দোকানের সামনে গ্রাহকদের দাঁড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট দূরত্বে দাগ কাটা থাকলেও বেশিরভাগ জায়গায় গ্রাহকেরা তা মানছেন না। হালিশহর, নৈহাটির মাদ্রাল এলাকায় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ঝামেলা বাধে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। রেশন দোকানের সামনে সিভিক ভলান্টিয়ার রাখা হচ্ছে। কিন্তু, যেখানে নজরদারি নেই, সেখানেই গোলমাল বাধছে বলে অভিযোগ।
মহকুমার অন্যান্য জায়গায় আগেই শুরু হলেও বনগাঁয় শুক্রবার থেকে রেশনদ্রব্য বিলি শুরু হয়েছে। ফলে দোকানগুলিতে ভালই ভিড় হচ্ছে। নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়ানোর কথা বলা হলেও, বেশ কিছু জায়গায় তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের একাংশের। যাঁরা দূরত্ব মেনে দাঁড়াতে চাইছেন, তাঁদের আতঙ্ক বাড়ছে এই পরিস্থিতিতে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায় রেশন দোকানগুলিতে একটু একটু করে ভিড় কমতে শুরু করেছে। বিনামূল্যে রেশন সামগ্রী দেওয়ার কথা ঘোষণার পরে ভোর থেকে মানুষের লাইন পড়ছিল দোকানগুলির সামনে। ফলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় অনেক জায়গায়। তবে যত দিন গিয়েছে, বিশৃঙ্খলা কমেছে। শনিবারও সব রেশন দোকান থেকে মালপত্র দেওয়া হয়। তবে মানুষের হুড়োহুড়ি বিশেষ ছিল না। প্রথম দু’একদিনের মতো রাত থাকতে লাইন দিতেও দেখা যায়নি। তবে বেশ কিছু জায়গায় দুরত্ব মেনে গ্রাহকেরা দাঁড়াচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।
অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।