E-Paper

বসার জায়গা নিয়ে বিবাদে অচলাবস্থা চলছে কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে পূর্ত দফতরের তরফে সাময়িক ভাবে চারটি কক্ষেরই জল ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ০৮:১৯
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বসার জায়গা নিয়ে বিতর্কের জেরে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে কাকদ্বীপ মহকুমা আদালত। টানা এক সপ্তাহ ধরে আইনজীবীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে থাকায় আদালতের দৈনন্দিন পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ। নিয়মমাফিক কেবল থানার হেফাজতে থাকা বন্দিদের আদালতে আনা হচ্ছে। তবে বাকিদের জামিন, নথি দাখিল, দেওয়ানি ও ফৌজদারি শুনানি— সবই বন্ধ। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকার বিচারপ্রার্থীরা।

বিবাদের সূত্রপাত নতুন আদালত ভবনে কক্ষ বরাদ্দকে কেন্দ্র করে। আইনজীবীদের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ভবনে আইনজীবী ও ল’ক্লার্কদের জন্য চারটি কক্ষ বরাদ্দ করা হয়। ল’ক্লার্কদের দাবি, উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁদের জন্য দ্বিতীয় তলায় নির্দিষ্ট কক্ষ বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু কিছু আইনজীবী তাঁদের জন্য বরাদ্দ প্রথম তল ও ল’ক্লার্কদের জন্য বরাদ্দ দ্বিতীয় তল— দু’টিই দখল করছেন। আইনজীবীদের বক্তব্য, ল’ক্লার্করা তাঁদের সহকারী, তাই আলাদা কক্ষের প্রয়োজন নেই। বরং আইনজীবীদের সঙ্গেই বসা উচিত। এই মতবিরোধে আদালত চত্বরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে পূর্ত দফতরের তরফে সাময়িক ভাবে চারটি কক্ষেরই জল ও বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারই প্রতিবাদে বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়। আলো-বাতাস ও পানীয় জলের পরিষেবা বন্ধ থাকায় কক্ষে কাজ করা অসম্ভব বলে দাবি করেন আইনজীবীরা।

কাকদ্বীপ কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অসিতবরণ পাহাড়ি বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আইনজীবীদের জন্য ভবন বানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও কারণ না দেখিয়ে কক্ষগুলির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় কাজ করা যায় না। পরিষেবা পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। ল’ক্লার্কদের আদালত কক্ষের প্রয়োজন নেই, তাঁরা আইনজীবীদের সঙ্গে বসবেন।’’

অন্য দিকে, ল’ক্লার্ক সমন্বয় কমিটির সম্পাদক সুনীল বারিক বলেন, ‘‘বহু দিন গ্যারাজে বসে কাজ করছি আমরা। নতুন ভবনে জায়গা পাওয়ার পরেও কয়েক জন আইনজীবী তা দখল করতে চাইছেন। বরাদ্দ কক্ষ আমরা ফেরত চাই।’’

দু’পক্ষের এই অবস্থানই আদালত ও প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা হলেও কোনও পক্ষই নিজের দাবি থেকে সরে আসেননি। ফলে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ দিকে, সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের অসুবিধা তীব্রতর হচ্ছে। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত দ্বীপ অঞ্চল থেকে বহু টাকা খরচ করে আসতে হয় আদালতে। সময়ও লাগে যথেষ্ট। আদালতে এসে শুনতে হচ্ছে, আজও কাজ হবে না। বিচারপ্রার্থীরা হতাশ।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘আদালতের সমস্যাটি খুব দ্রুত সমাধান করা হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

kakdwip

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy