E-Paper

১৪ মাসের শিশুকন্যাকে বিক্রির অভিযোগে ধৃত বাবা ও মা-সহ তিন

বারাসত পুলিশ জেলা সূত্রের খবর, ধৃত বাবার নাম রবীন পাসোয়ান ওরফে বুড়ো (২৩), মায়ের নাম টোটন সরকার (২৩)।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

নিজেদের ১৪ মাসের কন্যাসন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক দম্পতির বিরুদ্ধে। বারাসত-২ ব্লকের বহিরা কালীবাড়ি এলাকায় শিশু বিক্রির এই ঘটনা ঘটেছে তিন-চার মাস আগে। ব্লকের চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার ঘটনার কথা জানতে পেরে গত সোমবার স্থানীয় শাসন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যার ভিত্তিতে মঙ্গলবার ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করে শাসন থানার পুলিশ। তাদের সঙ্গে শিশু বিক্রি চক্রের দালাল সন্দেহে এক মহিলাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেছে পুলিশ। তাদের ধারণা, শিশুটিকে দক্ষিণ ভারতে পাচার করে দেওয়া হয়েছে।

বারাসত পুলিশ জেলা সূত্রের খবর, ধৃত বাবার নাম রবীন পাসোয়ান ওরফে বুড়ো (২৩), মায়ের নাম টোটন সরকার (২৩)। দালাল সন্দেহে ধৃত মহিলার নাম সোনালি সাহা ওরফে জসমিন বিবি। মঙ্গলবার ধৃতদের বারাসত আদালতে তোলা হলে তাদের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। পুলিশ এবং ব্লক প্রশাসনের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে আন্তঃরাজ্য শিশু বিক্রি চক্রের যোগ রয়েছে। শিশুটির হদিস পেতে ধৃতদের জেরা করছে পুলিশ।

তদন্তকারীরা জানান, বারাসত-২ ব্লকের দাদপুর পঞ্চায়েতের বহিরা কালীবাড়ি এলাকায় বাড়ি পেশায় দিনমজুর রবীনের। তার স্ত্রী টোটন। তাদের পাঁচ বছরের একটি ছেলেও রয়েছে। বারাসতের পুলিশ জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝারখরিয়া বলেন, ‘‘শিশুটির পরিবার বিক্রির ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ধৃত দম্পতির আর্থিক অবস্থা ভাল নয়। শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের একটি দলকে বাইরে পাঠানো হচ্ছে।’’

পুলিশ সূত্রের খবর, শিশুটিকে বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হয় তিন-চার দিন আগে। ওই দম্পতির সঙ্গে বহু দিন ধরে তাকে দেখতে না পেয়ে গ্রামের লোকজনের সন্দেহ হয়। তাঁরা চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার রাজশঙ্কর পাণ্ডেকে বিষয়টি জানান। এর পরেই ওই আধিকারিক পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, স্থানীয় সূত্রে শিশু বিক্রির খবর আসে তাঁর কাছে। শিশু পাচারের কোনও চক্র এর পিছনে রয়েছে বলেই তিনি জানিয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সোনালি ওরফে জসমিন দত্তপুকুর থানার বামনগাছি এলাকার বাসিন্দা। ৫০ হাজার টাকায় শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছে। শিশুটিকে দক্ষিণ ভারতের কোথাও পাচার করা হয়েছে বলেই পুলিশের অনুমান। পুলিশ সুপারের নির্দেশে শাসন থানার পুলিশের একটি দল তাকে উদ্ধার করতে যাচ্ছে বলে খবর।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Barasat

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy