E-Paper

ভাঙড়-কাণ্ডে ঘন ঘন জ্ঞান হারাচ্ছেন মা, শাস্তির দাবি বাবার

এ দিন সকালে গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, মোড়ে মোড়ে জটলা। আলোচনায় উঠে আসছে বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ। মধ্য খড়গাছির বাসিন্দা জিয়ারুল মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী নাজিমা বিবির দুই মেয়ে, দুই ছেলে।

সামসুল হুদা

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:৫৫
সাদিকুল মোল্লা।

সাদিকুল মোল্লা। —ফাইল চিত্র।

ভাঙড়ে রাস্তা তৈরির রাসায়নিক ভরা ড্রামে বিস্ফোরণের ঘটনায় মারা গিয়েছে ছোট্ট সাদিকুল মোল্লা। জখম অন্য দুই শিশু, সামিউল মোল্লা ও রেহান মোল্লা এখনও হাসপাতালে। জখম অন্য এক শিশু রিয়াজ হাসান মোল্লাকে অবশ্য প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালে বিস্ফোরণের খবর ভাঙড় থানার মধ্য খড়গাছি গ্রামে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এ দিন সকালে গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, মোড়ে মোড়ে জটলা। আলোচনায় উঠে আসছে বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ। মধ্য খড়গাছির বাসিন্দা জিয়ারুল মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী নাজিমা বিবির দুই মেয়ে, দুই ছেলে। দুই দিদির পরে সাদিকুল, স্থানীয় স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত সে। জিয়ারুল চাষবাস করেন। ছেলের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে মা নাজিমা বার বার জ্ঞান হারাতে থাকেন। শোকে জিয়ারুলের চোখে জলটুকুও নেই, মুখে কথা সরছে না।

১৭ ফেব্রুয়ারি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পরে সাইকেল নিয়ে স্কুলের মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে বেরিয়েছিল সাদিকুল। বাবার কাছ থেকে কুড়ি টাকা নেয় খাবে বলে। ওই দিন সে মাঠের ধারে বন্ধুদের সঙ্গে খেলছিল। রাস্তা তৈরির জন্য মাঠের পাশে ডাঁই করে রাখা রাসায়নিকের (লাইট ডিজ়েল অয়েল) ড্রাম ফেটে কেঁপে ওঠে এলাকা। ওই ঘটনায় জখম হয় সাদিকুল মোল্লা, সামিউল মোল্লা, রেহান মোল্লা, রিয়াজ হাসান মোল্লা। দ্রুত তাদের নলমুড়ি ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সাদিকুল, সামিউল ও রেহানকে কলকাতার এম আর বাঙুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সাদিকুলের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ ঝলসে গিয়েছিল।

এই ঘটনার পরে ভাঙড়ের ঘটকপুকুর থেকে চুটকির মোড় পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার রাস্তা তৈরির কাজ থমকে গিয়েছে। বিস্ফোরণের পরে সামিউলের বাবা মইনুদ্দিন মোল্লা ভাঙড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে ঘূর্ণিঝড় ডানার দাপটে সুন্দরবন লাগোয়া ক্যানিং-পূর্ব বিধানসভা এলাকার বেশ কিছু রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর সেই সব রাস্তা সংস্কারে হাত দেয়। সেই মতো ঘটকপুকুর থেকে চুটকির মোড় পর্যন্ত কাজ শুরু হয়। বরাত পান কলকাতার নিউ আলিপুরের বাসিন্দা তথা ঠিকাদার শম্ভু রায়। রাসায়নিকের ড্রাম বিস্ফোরণের পর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কলকাতা পুলিশের ভাঙড় ডিভিশনের এক কর্তা বলেন, ‘‘মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রকৃত দোষীদের ছাড়া হবে না।’’ ক্যানিং-পূর্বের বিধায়ক সওকাত মোল্লা যোগাযোগ রাখছেন পরিবারগুলির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘‘মর্মান্তিক ঘটনা। শিশুটির মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত। আহত শিশুদের পরিবারগুলিকে সব রকম ভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। পুলিশ তদন্ত করছে।’’

সাদিকুলের বাবা জিয়ারুল বলেন, ‘‘বিধায়ক থেকে শুরু করে সকলে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু ঠিকাদার সংস্থার তরফে কেউ যোগাযোগ করেনি। ছেলের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের শাস্তি চাই।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bomb Explosion Bhangar

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy