পুলিশ ও রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের মদতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানার অন্তর্গত সারদা গার্ডেনের জমি অবৈধ ভাবে দখল করা হচ্ছে— এই অভিযোগে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আবেদনকারী অনিন্দ্য শীল। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ নির্দেশ দিলেন, রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলকে (ডিজি) বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করে আগামী ছ’সপ্তাহের মধ্যে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে।
এই ঘটনায় খোদ পুলিশের বিরুদ্ধেই অসহযোগিতা ও আবেদনকারী অনিন্দ্যকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন আবেদনকারীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। তাঁর অভিযোগ, সারদা চিট ফান্ড মামলায় অন্তর্ভুক্ত সারদা গার্ডেনের জমি দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে এক দল দুষ্কৃতী। বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মদতে চলছে এই অবৈধ দখলদারির কাজ। আইনজীবী শামিমের অভিযোগ, বিষ্ণুপুর থানার এক সাব-ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। এমনকি, পুলিশের স্টিকার লাগানো গাড়ি দাঁড় করিয়ে এই অবৈধ কাজ করা হচ্ছে। মামলাকারী বাধা দেওয়ায় ও পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে যাওয়ায় উল্টে মিলেছে হুমকি।
সরকার পক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, এই ঘটনা কোনও জমি দখলের নয়, আবেদনকারীর জমির রক্ষণাবেক্ষণের খরচ নিয়ে মতবিরোধের। রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। উল্লেখ্য, সারদা চিট ফান্ড মামলায় অন্তর্ভুক্ত সারদা গার্ডেন কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তের আওতায় রয়েছে।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ও নথিপত্র যাচাই করে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে অভিযোগের তদন্ত ও অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। বিচারপতির নির্দেশ, ডিজি-কে বিশেষ তদন্তকারী আধিকারিক নিয়োগ করে, দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে এই
অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। আগামী ছ’সপ্তাহের মধ্যে অনুসন্ধান সম্পূর্ণ করতে হবে এবং তার তিন সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের পরিণতি জানাতে হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)