বিশ্বের দরবারে সম্মাননীয় অনুষ্ঠান। সঞ্চালিকা হিসাবে সেই অনুষ্ঠানের মঞ্চ আলো করলেন অভিনেত্রী প্রিয়ঙ্কা চোপড়া। অথচ সেই অনুষ্ঠানের লাল গালিচায় হাঁটাই হল না পপ তারকা স্বামী নিক জোনাসের?
সম্প্রতি এক অনুরাগীর ভাগ করে নেওয়া ভিডিয়োয় (সে ভিডিয়োর সত্যতা অবশ্য আনন্দবাজার ডট কম যাচাই করেনি) দেখা গিয়েছে, নিক অনুষ্ঠান মঞ্চের অদূরে তাঁবুর বাইরে জল খাচ্ছেন। অসুস্থ বোধ করছেন তিনি। কিন্তু কী এমন হয়েছিল, যাতে এমন অবস্থা হয় তারকার? ভিডিয়োর ভাগ করে লেখা হয়েছিল ‘সামাজিকতা থেকে জাত উদ্বেগের’ কথা। আর তাতেই সম্মতিসূচক ভাবে নিক প্রত্যুত্তর দিয়েছিলেন, ‘‘আমার মনে হচ্ছিল, কেউ যেন পেটের ভিতরে ঘুসি মারছে।’’
পপ তারকা নিক জোনাস বহু দিন ধরেই মঞ্চ অনুষ্ঠান করেন। অসংখ্য অনুরাগীর সমানে সাবলীল ভাবেই শো করেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এবং হলিউডে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড বা অস্কারের পরেই গোল্ডেন গ্লোবের স্থান। কিন্তু সে দিন কী এমন হয়েছিল, যে ‘গোল্ডেন গ্লোব’-এর মতো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারলেন না তিনি। কী এই ‘সামাজিকতা সঞ্জাত উদ্বেগ’, কেনই বা হয়।
গুরুগ্রাম নিবাসী মনোরোগ চিকিৎসক রাহুল ছন্দক জানাচ্ছেন, এটি হল এমন এক মানসিক পরিস্থিতি, যা থেকে কোনও ব্যক্তি সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভয় পান, কখনও বা দুর্বল বোধ করেন। সমস্যা আচরণগত, মানসিক এমনকি শারীরিকও হতে পারে। এমন সমস্যা হলে আচমকা হৃৎস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে, প্রচণ্ড ঘাম, আচমকা বমি পেতে পারে। শুরু হতে পারে অস্বস্তি, এমনকি শ্বাস নিতেও অসুবিধা হতে পারে।
এই ধরনের উদ্বেগ যাঁদের থাকে, তাঁরা যে কোনও সামাজিক অনুষ্ঠানে নিজেকে নিয়ে বড্ড বেশিমাত্রায় সচেতন হয়ে পড়েন, মনে হয় যেন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে তাঁকে কিংবা এমন কিছু হতে পারে, যা তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
নমিতা রূপারেল নামে হরিয়ানা নিবাসী এক মনোরোগ চিকিৎসকের কথায়, সামাজিকতা থেকে জন্মানো উদ্বেগ হল অজানা পরিস্থিতি সম্পর্কে মনের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হওয়া। সেই ভয়ই প্রভাব ফেলে শরীরে। তার ফলে মনে হতে পারে, বুক ধড়ফড় করছে কিংবা শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। এমনটা হলে এক ধাক্কায় রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, বেড়ে যেতে পারে রক্তে শর্করার মাত্রাও। এ এক এমন ভয়, যা সেই মানুষটির পক্ষে বলে বোঝানো কঠিন।
এমনই উপসর্গ হয় ‘প্যানিক অ্যাটাক’-এর ক্ষেত্রেও। তবে সামাজিকতার উদ্বেগ আর প্যানিক অ্যাটাক কিন্তু এক নয়, বলছেন চিকিৎসকেরা। প্যানিক অ্যাটাক হয় আচমকা, তবে সামাজিকতার উদ্বেগ বা সোশ্যাল অ্যংজ়াইটি ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। প্যানিক অ্যাটাক আর সামাজিকতার উদ্বেগের লক্ষণগুলি প্রায় একই। এ ক্ষেত্রে আচমকা একটা প্রচণ্ড ভয় চেপে বসে। অনেক সময় প্যানিক অ্যাটাক হয় অজানা ভয় কল্পনা করে। সেটি এতটাই তীব্র যে, তা আর নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
চিকিৎসকের পরামর্শ, দুই ক্ষেত্রেই বিষয়টি চিকিৎসাধীন। কাউন্সেলিং এবং সঠিক ওষুধে তা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।