Advertisement
E-Paper

ঘরে ফিরতে চান পানিগোবরার মানুষ

ঘরে ফিরতে চেয়ে পুলিশ-প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানালেন বসিরহাটের পানিগোবরা গ্রামের ১৪৬ জন মানুষ। শুক্রবার মহকুমাশাসক নীতেশ ঢালি, বসিরহাট ২ বিডিও বৈদ্যনাথ হেমব্রম, এসডিপিও শ্যামল সামন্ত এবং বসিরহাট থানার আইসি দেবাশিস চক্রবর্তীর কাছে এই আবেদনপত্র পাঠানো হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০১৬ ০৬:৫৯
নতুন করে তৈরি হচ্ছে ঘর। ছবি: নির্মল বসু।

নতুন করে তৈরি হচ্ছে ঘর। ছবি: নির্মল বসু।

ঘরে ফিরতে চেয়ে পুলিশ-প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন জানালেন বসিরহাটের পানিগোবরা গ্রামের ১৪৬ জন মানুষ।

শুক্রবার মহকুমাশাসক নীতেশ ঢালি, বসিরহাট ২ বিডিও বৈদ্যনাথ হেমব্রম, এসডিপিও শ্যামল সামন্ত এবং বসিরহাট থানার আইসি দেবাশিস চক্রবর্তীর কাছে এই আবেদনপত্র পাঠানো হয়েছে। নীতেশবাবু বলেন, ‘‘পানিগোবরা গ্রামের স্কুলে ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। দুর্গতদের রান্নার সরঞ্জামও দেওয়া হয়েছে। বাঁশের খুঁটির উপরে দরমার বেড়া এবং পলিথিনের ছাউনি দেওয়া ঘর তৈরির কাজ চলছে। মানুষ ঘরে ফিরতে চান, এটা ভাল কথা, তাঁদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তা দেখা হবে।’’

দিন কয়েক আগে সিপিএম-তৃণমূলের গোলমালের জেরে তাণ্ডব চলে পানিগোবরা গ্রামে। বহিরাগত দুষ্কৃতীদের হামলায় ৩০-৩৫ ঘর দোকান, কারখানা পোড়ে। ভয়ে এলাকা ছেড়ে কাছেই বাদুড়িয়ার রাজবেড়িয়া গ্রামে একটি শিশুদের স্কুলে আশ্রয় নেন। সিপিএমের উদ্যোগে ওই গ্রামের মানুষ ত্রাণশিবিরের ব্যবস্থা করেন।

Advertisement

দেখাদেখি ওই এলাকায় আরও একটি ত্রাণ শিবির করা হয় তৃণমূলের উদ্যোগে। সেটি অবশ্য একদিনের মধ্যে বন্ধও হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ-প্রশাসনের তরফে পানিগোবরায় একটি ত্রাণশিবির করে দুর্গতদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পানিগোবরা গ্রামের কাছে স্বরূপনগর বাজারে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল সভা করেছে।

রাজবেড়িয়া গ্রামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং কংগ্রেসের পক্ষে দুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়। বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের নেতা আব্দুল মান্নান এবং সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তীর নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল রাজবেড়িয়া গ্রামের ত্রাণশিবিরে আসে। তবে ১৪৪ ধারা থাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের পানিগোবরা গ্রামে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার দুপুরে ডিওয়াইএফ নেতা শেখ সাহানুর রহমান কয়েকজনকে নিয়ে বসিরহাট থানায় গিয়ে দুর্গত মানুষের ঘরে ফিরতে চাওয়ার আবেদন জমা দেন। তিনি বলেন, ‘‘রমজান মাস শুরু হওয়ায় সকলেই ঘরে ফিরতে চান। প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা না নিলে সোমবার রাজ্যপালের কাছে যাওয়া হবে।’’ আবেদনকারীদের মধ্যে আব্দুল জলিল, আলি আহমেদ, সাহানারা বিবি, সাবিনা বিবি বলেন, ‘‘সরকারি ত্রাণ পাইনি। গাছতলায় রাত কাটছে। নিজের ভিটেতে ফিরতে চাই।’’

যদিও জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দাবি, ‘‘ঘরছাড়াদের অধিকাংশই গ্রামে ফিরেছেন। কিন্তু সিপিএম ইচ্ছাকৃত ভাবে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। অনেককে ভুল বুঝিয়ে ত্রাণ শিবিরে নিয়ে এসে ভুল তথ্য দিচ্ছে। কিন্তু আমরা ওই গ্রামে নতুন করে অশান্তি হতে দেবো না।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy