Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৭ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

পুলিশের কাছে ছাত্র মৃত্যুর তদন্ত চাইলেন অধ্যক্ষ

দত্তপুকুরের ছাত্র মৃত্যুর আঁচ লাগল বিরাটি কলেজে! শনিবার ভোর ৪টে নাগাদ ওই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের কলা বিভাগের ছাত্র সৌরভ চৌধুরীর ছিন্নবিছিন্ন দ

নিজস্ব সংবাদদাতা
দত্তপুকুর ০৬ জুলাই ২০১৪ ০৩:২৬
Save
Something isn't right! Please refresh.
বিরাটি কলেজ।—নিজস্ব চিত্র

বিরাটি কলেজ।—নিজস্ব চিত্র

Popup Close

দত্তপুকুরের ছাত্র মৃত্যুর আঁচ লাগল বিরাটি কলেজে!

শনিবার ভোর ৪টে নাগাদ ওই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের কলা বিভাগের ছাত্র সৌরভ চৌধুরীর ছিন্নবিছিন্ন দেহ পুলিশ উদ্ধার করে রেলস্টেশনের ধারে। এর প্রায় পনেরো ঘণ্টা পর কলেজের অধ্যক্ষ অপূর্ব বন্দ্যোপাধ্যায় ওই মৃত্যুর ঘটনার যথাযথ তদন্তের লিখিত দাবি জানালেন পুলিশের কাছে। তার আগে অবশ্য অধ্যক্ষকে আড়াই ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখেন তৃণমূল ছাত্রপরিষদের কর্মী-সমর্থকেরা। প্রশ্ন উঠেছে, বাইরের একটি ঘটনার জন্য কেন কলেজের অধ্যক্ষকে ঘেরাও করল শাসক দলের ছাত্র সংগঠন? কেনই বা তদন্তের দাবি জানাতে অপূর্ববাবু সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন? অধ্যক্ষ অবশ্য এর মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকতা দেখছেন না। তাঁর কথায়, “ছাত্ররা এসে আমায় বলল, তারা কলেজে আসা-যাওয়ার পথে নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে। সে কথাই আমি পুলিশকে জানিয়েছি।” নিমতা থানায় লিখিত আবেদনপত্রে অধ্যক্ষ লিখেছেন, ‘এক জন ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে ছেলেরা আমার কাছে এসে ক্ষোভ, দুঃখ জানিয়েছে। বলেছে, নিরাপত্তার অভাব বোধ করছে। আমার অনুরোধ, ঘটনার তদন্ত হোক।’

অধ্যক্ষ এমন দাবি করলেও এ দিন ঘেরাও-পর্বে প্রায় আগাগোড়া হাজির ছিলেন তৃণমূল ছাত্রপরিষদের (টিএমসিপি) রাজ্য সভাপতি শঙ্কুদেব পণ্ডা। কলেজের ছাত্র না হলেও তাঁর নেতৃত্বেই টিএমসি পরিচালিত ছাত্র সংসদের পদাধিকারীরা এই নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। পরে শঙ্কু বলেন, “সৌরভ আমাদের সংগঠনের ক্লাস প্রতিনিধি ছিলেন। কিন্ত গত পঞ্চায়েত ভোটের আগে তার পরিবার বিজেপি-তে যোগ দেয়। বিজেপি ওকেও দলে টানতে চাপ দিচ্ছিল। সে কথা ও আমাদের জানিয়েছিল। আমাদের বিশ্বাস, ওর মৃত্যুর পিছনে ওই চাপই রয়েছে।”

Advertisement



সৌরভ-হত্যার প্রতিবাদে বামনগাছিতে দত্তপুকুর থানার আইসিকে ঘেরাও করলেন স্থানীয় মহিলারা।

তাঁর সংযোজন, কলেজের অন্য ক্লাস রিপ্রেজেনটেটিভদেরও এলাকায় হুমকি দিচ্ছে বিজেপি। তাই অধ্যক্ষের কাছে ছাত্রদের নিরাপত্তার দাবি জানাতে যান তাঁরা। শঙ্কুর দাবি, “অধ্যক্ষ, ছাত্র সংসদ এবং ছাত্রেরা স্বত:প্রণোদিত হয়েই পুলিশের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে।

কলেজের একটি সূত্র দাবি করেছে, টিএমসিপি সমর্থকদের চাপেই পুলিশের কাছে যেতে বাধ্য হন অধ্যক্ষ। তিনি নিজে অবশ্য বলেছেন, “ছেলেরা বলল, আপনি অভিভাবক। মিানবিকতার খাতিরে আমিও পুলিশের কাছে আবেদন জানাই। কেউ আমাকে জোর করেনি।”

কলেজ সূত্রে খবর, এ দিন ৪টে নাগাদ ঘেরাও-পর্ব শুরু হয়। অধ্যক্ষ অবশ্য বলেন, “ঠিক ঘেরাও নয়, তবে বাইরের ছেলেরাও ছিল। ওই সময়ে কোনও ঘটনা না ঘটলেও আমরা থানায় ফোন করে বিষয়টি জানাই। সেই মতো পুলিশও আসে। এই ভাবে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলে। ওই সময়ের মধ্যে কলেজের ভিতরে ও বাইরে অনেক ছেলে জড়ো হয়েছিলেন। শঙ্কু-সহ কয়েক জন অধ্যক্ষের সঙ্গে তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে কথা বলেন।” এর পরেই নিমতা থানায় যান অধ্যক্ষ।

শঙ্কু জানান, নিহত ছাত্রের মৃত্যুর প্রতিবাদে আজ, রবিবার টিএমসিপি রাজ্য জুড়ে কালো ব্যাজ পড়বে। সোমবার বিরাটি কলেজে শোকসভা করবে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে সপ্তাহব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি হবে।



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement