২০০৯ সালে আয়লার পরে কেটে গিয়েছে প্রায় দেড় দশক। কিন্তু সন্দেশখালির একাংশে সময় যেন থমকে রয়েছে সেখানেই!
সন্দেশখালি ১ ব্লকের সেহেরা রাধানগর পঞ্চায়েতের ১৩২ নম্বর বুথে এখনও ভাঙাচোরা ইটের রাস্তাই ভরসা ২০-৩০টি পরিবারের। রাস্তার একাংশ পাশের পুকুরে ধসে পড়েছে। সুস্থ মানুষের চলাচলই মুশকিল, অসুস্থ বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পক্ষে হাসপাতালে পৌঁছনো কার্যত অসম্ভব।
দিন কয়েক আগে সেই ছবিই সামনে এল। অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধ প্রতিবন্ধী সুনীলকৃষ্ণ মণ্ডল। এলাকায় কোনও গাড়ি ঢুকতে না পারায় চটের বস্তায় শুইয়ে চার জন কাঁধে করে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সুনীলের আক্ষেপ, ‘‘আয়লার পর থেকে রাস্তা এমনই পড়ে আছে। মৃত্যুর আগে ভাল রাস্তা দেখে যেতে পারব কিনা, জানি না!’’
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বহুবার ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা সন্ধ্যা মণ্ডলের দাবি, ‘‘এই রাস্তায় বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে। এক প্রসূতি চিকিৎসকের কাছে যেতে গিয়ে পড়ে গিয়ে শারীরিক সমস্যায় পড়েছিলেন। ভ্যান, টোটো, অটো—কিছুই ঢোকে না গ্রামের ভিতরে। কেউ মারা গেলেও দেহ বার করা কঠিন।’’
সমস্যার কথা মানছেন সন্দেশখালি ১ বিডিও সায়ন্তন সেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘খবরটি আমার কানে এসেছে। দ্রুত কী ভাবে রাস্তার উন্নয়ন করা যায়, তা দেখব। আমি এখানে দু’বছর আছি, বিষয়টি এখন আমার নজরে এসেছে।’’
এ নিয়ে বিজেপি বিধায়ক সনৎ সর্দার বলেন, ‘‘যে সব রাস্তার কাজ আগে হয়নি, সেগুলির প্রস্তাব ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই রাস্তার বিষয়েও প্রস্তাব পাঠাব।’’
প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতোর বক্তব্য, ‘‘অনেক রাস্তার কাজ করেছি। কিছু বাকি থেকেছে। বর্তমান সরকার নিশ্চয়ই বিষয়টি বিবেচনা করবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)