সেটা ছিল লকডাউনের প্রথম পর্ব। শুরুর দিকে পুলিশকে দেখা গিয়েছিল অন্য ভূমিকায়। অকারণে রাস্তায় নেমে কেউ খেয়েছিলেন পুলিশের লাঠি, কারও গাড়ির চাকার হাওয়া খুলে পুরো রাস্তা গাড়ি ধাক্কা দিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক লকডাউনের প্রথম দিনে জেলার প্রায় সর্বত্রই অনেকটা সেই ভূমিকাতেই দেখা গেল পুলিশকে। অকারণে রাস্তায় নেমে, মাস্ক না পরে জেলায় গ্রেফতার হলেন ১৪৭ জন। অনেককে ধমকে ঘরে পাঠানো হয়।
এ দিন বনগাঁ মহকুমার প্রায় সর্বত্র দোকানপাট-বাজারহাট, সরকারি, বেসরকারি অফিস বন্ধ ছিল। তবে পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে এ দিন বাংলাদেশের সঙ্গে পণ্য আমদানি রফতানির কাজ হয়েছে। শহরের রাস্তাঘাট সকাল থেকে বন্ধের চেহারা নিয়েছিল। পুলিশের তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছে সকাল থেকে। বনগাঁ শহরে বেশ কিছু মানুষ মাস্ক না পরে অকারণ বাইকে শহরের রাস্তায় বেরিয়েছিলেন। তাঁদের কয়েকজনকে পুলিশ বাড়ি পাঠিয়ে দিলেও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। অনেকেই পুরনো প্রেসক্রিপশন নিয়ে ওষুধ কেনার অছিলায় বের হয়েছিলেন। পুলিশ তাঁদেরও বাড়ি পাঠায়। হাসপাতালগামী যে সব অটোতে চারজন যাত্রী ছিলেন, রোগীর সঙ্গে এক জনকে রেখে বাকিদের নামিয়ে হেঁটে হাসপাতালে যাওয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। তবে হাবড়ার নাংলা বিলে এ দিন অনেককে মাস্ক ছাড়ায় গা ঘেঁষাঘেষি করে মাছ ধরতে দেখা গিয়েছে।
এ দিন সকাল থেকেই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে পুলিশকে টহল দিতে দেখা গিয়েছে। দোকানপাট বিশেষ খোলা ছিল না। কাঁকিনাড়া, নৈহাটি, ভাটপাড়া এলাকায় সকালের দিকে কিছু চায়ের দোকান খুললেও পুলিশ তা বন্ধ করে দেয়। টিটাগড় এলাকায় অকারণ রাস্তায় বেরোনো কয়েকজনকে পুলিশ কান ধরে ওঠবোস করায়। মাস্ক না পরায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়ে। সব মিলিয়ে ব্যারাকপুর কমিশনারেট এলাকায় ৬৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁদের এলাকায় লকডাউন ভাঙায় ৫১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সকালের দিকে হিঙ্গলগঞ্জ থানা এলাকায় কয়েকটা চায়ের দোকান খোলা থাকলেও পুলিশ গিয়ে বন্ধ করে দেয়। হাসনাবাদ, মিনাখাঁ, ন্যাজাট, হিঙ্গলগঞ্জ, হেমনগর, সন্দেশখালি থানা এলাকায় রাস্তাঘাট সুনসান ছিল। লকডাউনের সকালে বসিরহাট শহরেও কিছু দোকান খুললেও পুলিশ তা বন্ধ করে দেয়। পুলিশকে সক্রিয় দেখে যাঁরা দোকান খুলেছিলেন, তাঁরাও বন্ধ করে দেন। লকডাউন ভাঙায় পুলিশ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
এ দিন দুপুরে বসিরহাট চৌমাথায় এক সত্তোরোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে রাস্তার পাশে বসে থাকতে দেখেন বসিরহাট থানার পুলিশ। জানা যায়, লক্ষ্মী চক্রবর্তী নামে ওই মহিলার বাড়ি সন্দেশখালির ন্যাজাট এলাকায়। কয়েক দিন আগে ভুল করে বাসে উঠে বসিরহাট ২ ব্লকে নেমে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করান বলে বৃদ্ধার দাবি। সেখান থেকে ছুটি পেয়ে বেরিয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন। পুলিশ বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছে। বাড়ির খোঁজ চলছে।