E-Paper

নেতার হোটেল ভাঙার নির্দেশ

সিটি গেস্ট হাউজ় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ শাহানুর মণ্ডলের মালিকানাধীন। গত বুধবার ভোরে বসিরহাট থানার পুলিশ তাঁকে শাঁকচুড়া বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ০৬:৪৭

— প্রতীকী চিত্র।

ইছামতীর তীরে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে প্রশাসন। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে টাকি পুর এলাকায় নদীর ধার ঘেঁষে নিয়মবহির্ভূত ভাবে গড়ে ওঠা ‘দিশা’ ও ‘সিটি’ নামে দু’টি বহুতল অতিথিনিবাস ভেঙে ফেলার নোটিস জারি করেছে পুরসভা। আদালতের নির্দেশ মেনে পয়লা জুলাইয়ের মধ্যে নির্মাণ ভাঙার সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপে দীর্ঘ দিনের ক্ষোভের অবসান ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশপ্রেমীদের।

টাকির পুরপ্রধান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা অনেক আগেই ৫৬টি এমন গেস্ট হাউজ়কে চিঠি পাঠিয়েছিলাম পুরসভার উদ্যোগে। তার মধ্যে এই দু’টি গেস্ট হাউজ়ও ছিল। প্রশাসন যা পদক্ষেপ করবে, তা-ই আমরা মেনে নেব।’’

সিটি গেস্ট হাউজ় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ শাহানুর মণ্ডলের মালিকানাধীন। গত বুধবার ভোরে বসিরহাট থানার পুলিশ তাঁকে শাঁকচুড়া বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, সীমান্ত এলাকায় পাচারচক্রে মদত, জমি দখল, নদীর চর ভরাট করে বেআইনি নির্মাণ এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক হিংসা-সহ একাধিক অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে।

পুলিশ সূত্রের খবর, দিশা হোটেলটি বিতর্কিত ব্যবসায়ী বারিক বিশ্বাসের। এর আগে নানা বেআইনি কারবারে ঘটনায় নাম জড়িয়েছে এক সময়ে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ এই নেতার। গ্রেফতারও হয়েছিলেন। তাঁর খোঁজ মিলছে না বলে জানাচ্ছে পুলিশের ওই সূত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইছামতীর চর এবং উপকূলীয় নিয়ন্ত্রণ এলাকার বিধি উপেক্ষা করে দীর্ঘ দিন ধরেই নদীর ধারে একাধিক বেআইনি নির্মাণ গড়ে উঠছিল। পরিবেশকর্মী ও বাসিন্দারা বার বার অভিযোগ জানালেও পূর্বতন সরকারের প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। সরকার বদলের পরে পরিবেশ রক্ষা ও সরকারি জমি দখলমুক্ত করার দাবিতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন জনৈক চিন্ময় ঢালি। তাঁর পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী ওমর ফারুক গাজি ও তাঁর সহযোগীরা।

ওমরের বক্তব্য, ‘‘টাকি এক সময়ে সাংস্কৃতিক ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। নদীর ধারে একটি ক্লাবকে ঘিরেও নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চলত। কিন্তু ২০১১ সালের পর থেকে অবৈধ নির্মাণে সেই পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। সেচ ও জলপথ দফতরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলার শুনানিতে ২২ জুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ কড়া অবস্থান নেয়। পুরসভার আইনজীবী জানান, বৈধ নথি দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তিন সপ্তাহের মধ্যে নির্মাণ ভাঙা হবে। ১৬ জুলাই অগ্রগতির প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

টাকির বাসিন্দা অধীরকুমার পালের দাবি, গত ১৫ বছরে নদীর পাড়, পুকুর, জলাশয় ও বাগান ভরাট করে একের পর এক বহুতল গড়ে ওঠায় শহরের নিকাশি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে। তাঁর মতে, আদালতের নির্দেশ কার্যকর হলে ইছামতীর তীরে ভবিষ্যতে বেআইনি নির্মাণ রুখতে সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা নেবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Illegal Constructions taki

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy