E-Paper

দক্ষিণে বাদ দুই প্রাক্তন মন্ত্রী, জেলা সভাপতিও

কুলপি বিধানসভায় টিকিট পাননি তিন বারের বিধায়ক তথা দলের সুন্দরবন সাংগঠিনক জেলার সভাপতির দায়িত্ব সামলানো প্রবীণ নেতা যোগরঞ্জন হালদার।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলে প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী থেকে দলের একাধিক বর্ষীয়ান বিধায়ক। ডায়মন্ড হারবার মহকুমার রায়দিঘি, কুলপি, মগরাগাট পশ্চিম, মগরাহাট পূর্ব, ফলতা বিধাগোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতেই দলের এই পদক্ষেপ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

কুলপি বিধানসভায় টিকিট পাননি তিন বারের বিধায়ক তথা দলের সুন্দরবন সাংগঠিনক জেলার সভাপতির দায়িত্ব সামলানো প্রবীণ নেতা যোগরঞ্জন হালদার। তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত বর্ণালী ধারাকে। দলের কর্মীদের একাংশের দাবি, কুলপি বিধানসভায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ব্যাপক আকার নিয়েছিল৷ বিশেষ করে বিধায়কের অনুগামীদের সঙ্গে ব্লক সভাপতি সুপ্রিয় হালদারের অনুগামীদের বিবাদ কার্যত চরমে ওঠে। এমনকি, উচ্চ নেতৃত্বের মধ্যস্থতাতেও সেই বিবাদ মেটেনি বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে ভোটে জিততে নতুন মুখ বর্ণালীকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তাঁর সঙ্গে সে ভাবে রাজনীতির কোনও যোগ ছিল না। যোগরঞ্জন বলেন, “কুলপিতে নিজে সংগঠন তৈরি করেছি। ১৯৯৮ সাল থেকে দল করছি। তারপরেও দল আমাকে চায়নি, তাই প্রার্থী করেনি। যিনি প্রার্থী হয়েছেন, তাঁর জয় হোক।”

টিকিট পাননি মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার তিন বারের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লা। তাঁর পরিবর্তে অভিষেক ঘনিষ্ঠ সামিম আহমেদকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। গত লোকসভা ভোটের আগে থেকেই মগরাহাট পশ্চিমে দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। বিধায়ক অনুগামী ও বিরোধী গোষ্ঠীদের সংঘর্ষ ও প্রকাশ্য বিরোধিতায় দল কার্যত নাজেহাল হয়ে উঠেছিল। দু’পক্ষের বচসা মেটাতে কিছু দিনের জন্য অস্থায়ী পর্যবেক্ষক হিসেবে এক নেতাকে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দু’পক্ষের দ্বন্দ্ব আরও বাড়তে থাকায় পর্যবেক্ষককে সরিয়ে দেওয়া হয়। অন্য দিকে, সামাজিক মাধ্যমে দলের বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ান গিয়াসউদ্দিন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে বেশ কয়েক বার সরব হতে দেখা যায় দলেরই নেতা-কর্মীদেরও। অন্য দিকে, সামিম এত দিন ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন। কয়েক মাস আগে তাঁকে ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাট পশ্চিম ও মহেশতলা বিধানসভার কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব দেয় দল। সেই সুবাদে মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভায় কার্যত চষে বেরিয়েছেন। দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মিটিয়ে ভোট করানোই তাঁর কাছে এখন সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। গিয়াসউদ্দিনের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তিনি ফোন ধরেননি, মেসেজেরও উত্তর দেননি।

রায়দিঘি থেকে বাদ পড়েছেন অলোক জলদাতা। তাঁর জায়গায় প্রার্থী হচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও নাট্যব্যক্তিত্ব তাপস মণ্ডল। এই বিধানসভায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে না এলেও বিধায়ক অনুগামী ও অন্য পক্ষের ঠান্ডাযুদ্ধ সর্বজনবিদিত। দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগেই এলাকায় বেশ কয়েকটি নাম ঘোরাঘুরি করছিল। বিদায়ী বিধায়কের পাশাপাশি তৃণমূলের মথুরাপুর ১ ব্লকের সভাপতি মানবেন্দ্র মণ্ডল ও মথুরাপুর ২ ব্লক যুব সভাপতি উদয় হালদারের নামও উঠে আসছিল। কিন্তু শেষমেশ একেবারে নতুন মুখকে প্রার্থী করে চমকে দেয় দল। রায়দিঘির তৃণমূল প্রার্থীও সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। অলোক বলেন, “যাঁকে ভাল মনে করেছে, তাঁকেই প্রার্থী করেছে দল। সাধারণ কর্মী হিসেবে নিজের কাজ করে যাব।”

ফলতায় শঙ্কর নস্করের পরিবর্তে প্রার্থী করা হয়েছে হেভিওয়েট নেতা জাহাঙ্গির খানকে। অন্য দিকে, মগরাহাট পূর্ব বিধানসভায় তিন বারের বিধায়ক নমিতা সাহার জায়গায় টিকিট পেয়েছেন শর্মিষ্ঠা পুরকাইত। এই দুই বিধানসভায় সেভাবে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সমস্যা না থাকলেও নতুন প্রার্থী বদল হয়েছে। তবে প্রার্থীরা কেউই রাজনীতিতে নতুন নন। শর্মিষ্ঠা মগরাহাট পশ্চিম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। জাহাঙ্গির ফলতা ও বজবজে সংগঠন দেখার পাশাপাশি পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কিছু দিন আগে কার্যত জেলা পর্যবেক্ষক হিসেবেও চারদিকে ঘুরে বেরিয়েছেন। এবার ফলতা থেকে দলের বৈতরণী পার করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার বলেন, “দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কোনও ব্যাপার নেই। সকলেই দায়িত্বের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। কিন্তু অনেকের বয়স হয়ে গিয়েছে, তাই নতুন প্রার্থী করা হয়েছে। তা ছাড়া, নতুনদেরও তো সুযোগ দিতে হবে।”

বাসন্তীতে তিন বারের বিধায়ক, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামল মণ্ডলকে এ বার প্রার্থী করেনি তৃণমূল। ২০১১ থেকে পর পর দু’বার ক্যানিং পশ্চিম কেন্দ্র থেকে টিকিট পেয়েছিলেন সোনারপুরের বাসিন্দা শ্যামল। অভিযোগ, দশ বছর ক্যানিং পশ্চিমে বিধায়ক হিসেবে থাকলেও নিজের কোনও সংগঠন তৈরি করতে পারেননি তিনি। ২০২১ সালে তপ্ত বাসন্তীতে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল সামলাতে বাইরে থেকে শ্যামলকে এনে টিকিট দেওয়া হয়েছিল। বাসন্তীতেও জয়ী হন শ্যামল। কিন্তু বর্তমানে বাসন্তী শান্ত, দলের রাস রাজা গাজি ওরফে নুর ইলাহি গাজির হাতে। অভিযোগ, এই এলাকাতেও নিজের কোনও সংগঠন তৈরি করতে পারেননি শ্যামল। এই পরিস্থিতিতে রাজার মতো স্থানীয় কাউকে টিকিট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দল।

গোসাবার প্রাক্তন বিধায়ক জয়ন্ত নস্করের ছেলে বাপ্পাদিত্য নস্কর টিকিটের জোরাল দাবিদার থাকলেও, শেষ পর্যন্ত জেলা পরিষদের সভাধিপতি নীলিমা মিস্ত্রি বিশালকেই প্রার্থী করা হয়। নীলিমা গোসাবা বিধানসভার ভোটার হলেও, বাসন্তী ব্লকের বাসিন্দা। এ বিষয়ে শ্যামল মণ্ডলের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তিনি ফোন ধরেননি, এসএমএসের উত্তরও দেননি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Diamond Harbour Magrahat TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy