ভুটভুটিতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে দিনের পর দিন চলছে নদী পারাপার। সুন্দরবনে যাঁরা বেড়াতে আসেন, তাঁদের ভুটভুটি, নৌকো, লঞ্চে ঘোরানোর সময়েও অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। অতীতে যে কারণে নৌকো উল্টে বহু দুর্ঘটনাও ঘটেছে। তখন কিছু দিনের জন্য প্রশাসনের কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। কিন্তু কিছু দিন পর থেকে তা আর দেখা যায় না।
ক্যানিং মহকুমার গোসাবা, বাসন্তী, ক্যানিঙের বিভিন্ন দ্বীপ তো আছেই, সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপ এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে নদীপথই যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু নিয়মিত বিপদের আশঙ্কা মাথায় নিয়েই তাঁদের যাতায়াত করতে হয় বলে জানালেন মলয় সর্দার, গোবিন্দ মণ্ডলরা। এই সব স্থানীয় মানুষজনের কথায়, ‘‘অতিরিক্ত যাত্রী তোলা নিয়ে যদি প্রতিবাদ করি, তা হলে মাঝি, লঞ্চ চালক, নৌকো কর্মীরা কটূক্তি করেন। প্রশাসন সব জেনেও চুপ করে থাকে।’’ মানুষের আরও অভিযোগ, সুন্দরবনে যে সমস্ত নৌকো, ভুটভুটি, লঞ্চ চলে তার রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকমতো হয় না। তা ছাড়া, ওই সমস্ত জলযানগুলির ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ ঠিক আছে কিনা, তা-ও দেখা হয় না। ফলে অনেক সময়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়।
মহকুমাশাসক প্রদীপ আচার্য বলেন, ‘‘সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নদী পারাপার একটা বড় সমস্যা। আমরা বারবার লঞ্চ, ভুটভুটি, নৌকোর মালিকদের সাবধান করেছি। কিন্তু তারপরেও লুকিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হয়। আমাদের তেমন লোকবল নেই, যে প্রতিনিয়ত নজরদারি চালানো হবে। তাই সমস্যা হচ্ছে।”
২০১২ সালের ১৫ নভেম্বর গোসাবা-গদখালির মধ্যে খেয়া পারাপারের সময় ভুটভুটিতে জল ঢুকে উল্টে গিয়ে বহু মানুষ জখম হন। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণ করতে গিয়ে ২০১০ সালের ৩১ নভেম্বর মুড়িগঙ্গাতে ট্রলার উল্টে মারা যান অন্তত ৮৩ জন। ২০১১ সালে ঝড়খালির মাতলা নদীতে ভুটভুটি উল্টে মারা যান ৪ জন। এরপরেও প্রশাসনের হুঁশ নেই বলে অভিযোগ। নদী পারাপারের ক্ষেত্রে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত যাত্রী বহনে প্রশাসনের নজরদারি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে এলাকাবাসীর দাবি। সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপে জলপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সংখ্যায় নৌকো বা ভুটভুটি নেই। বিপজ্জনক জেনেও নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছনো বা বাড়ি ফেরার তাড়ায় এ ভাবেই মানুষ যাতায়াত করতে বাধ্য হন। প্রশাসনের তরফে যদি বিভিন্ন ঘাটগুলিতে অতিরিক্ত জলযানের ব্যবস্থা করে তা হলে ভাল হয়। এতে বেশি ভাড়া দিয়ে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমবে বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্যুরিস্ট লঞ্চ বা ভুটভুটির ক্ষেত্রে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট দফতর ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়। আর সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপে যে সমস্ত নৌকা বা ভুটভুটি খেয়া পারাপার করে বা যাত্রী পরিবহণ করে তাদের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয় জেলা পরিষদ।
জেলা পরিষদের নিযুক্ত গোসাবার অতিরিক্ত কালেক্টর বসির মিদ্দে বলেন, ‘‘নৌকো বা ভুটভুটির লম্বা-চওড়া এবং তার গভীরতা দেখে কত যাত্রী পরিবহণ করা যেতে পারে তার সার্টিফিকেট দিই। কিন্তু ট্যুরিস্ট লঞ্চ বা ভুটভুটিগুলি নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী পরিবহণ করলেও সাধারণ নৌকো বা ভুটভুটিগুলি সেই নিয়ম মানে না। তখনই সমস্যা হয়।”