নকলে বাধা পেয়ে ফকিরচাঁদ কলেজে ভাঙচুর চালালো মগরাহাট কলেজের একদল ছাত্র। সোমবার ওই ঘটনায় কলেজে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।
পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন ছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাস কোর্সের পরীক্ষার শেষ দিন ছিল। ফকিরচাঁদ কলেজে সিট পড়েছিল মগরাহাট কলেজের পরীক্ষার্থীদের। ওই কলেজে আরও কয়েকটি কলেজেরও সিট পড়েছিল। অভিযোগ, এ দিন কড়া গার্ড দেওয়ার ফলে প্রথম থেকেই অসভ্য আচরণ করছিল বিএ তৃতীয় বর্ষের কিছু ছেলে। বেলা ১টা নাগাদ পরীক্ষা শেষ হওয়ার মুখে দুই ছাত্র উত্তরপত্র জমা না দিয়েই নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইলে হলের পরীক্ষক এবং অন্যান্য শিক্ষকরা বাধা দেন। কারণ উত্তরপত্র মূল্যায়নের আগে কলেজের বাইরে চলে গেলে তাতে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে কলেজ কর্তৃপক্ষের। শিক্ষকদের বারণ না শুনে ওই দুই ছাত্র দৌড়ে কলেজের গেটের দিকে ছুটে পালাতে যায়। সে সময়ে পিকেটে থাকা দুই পুলিশকর্মী ওই দুই ছাত্রকে ধরে ফেলে কলেজের একটি ঘরে নিয়ে যায়। এতে মগরাহাট কলেজ থেকে আসা অন্যান্য পরীক্ষার্থীরা ভাঙচুর শুরু করে দেয় বলে অভিযোগ। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন ছাত্র এই ভাঙচুরে সামিল ছিল বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়। কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ধাক্কাধাক্কি করা হয় বলেও অভিযোগ। তবে এ বিষয়ে থানায় কোনও অভিযোগ হয়নি। যদিও ঝামেলার খবর পেয়ে পুলিশ কলেজে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ওই দুই ছাত্রকে মুচলেকা লিখিয়ে ছেড়ে দেন। কলেজ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এর আগের বছরও মগরাহাট কলেজের ছাত্ররা নকলে বাধা পেয়ে কলেজের বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ তুলে ট্রেন অবরোধ করে এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ট্রেন থেকে নামিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করেছিল। তবে পরিস্থিত এ বার সেদিকে গড়ায়নি।