গত ১৫ জানুয়ারি থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে স্বাস্থ্য পরিষেবা শিবির সেবাশ্রয় শুরু করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তা শেষ হল শনিবার। তৃণমূলের তরফে পরিসংখ্যান দিয়ে জানানো হল, ১৬ দিনে (মাঝে ২৩ জানুয়ারি শিবির বন্ধ ছিল) সেবাশ্রয় শিবিরে পরিষেবা পেয়েছেন ৪৪,৫৪৩ জন। বিধানসভা ভোটের আগে যে সংখ্যাকে ‘ইতিবাচক’ হিসাবেই দেখছে তৃণমূল।
নন্দীগ্রামের দু’টি ব্লকে দু’টি মডেল ক্যাম্প হয়েছিল। তার সমাপ্তির পরে তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন, পরিষেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বিনামূল্যে ওষুধ পেয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা হয়েছে ২৮ হাজার মানুষের। রোগের জটিলতা বিবেচনা করে প্রায় এক হাজার জনকে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এমনই কিছু অতি জটিল রোগে আক্রান্তের অস্ত্রোপচার হবে বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। আগামী বুধবার তা হবে বলে জানিয়েছে তৃণমূল।
সেবাশ্রয়ে বহু মানুষই এসেছিলেন চোখের সমস্যা নিয়ে। তেমন ১,৩৫১ জনের ছানি অস্ত্রোপচারের জন্য নাম নথিভুক্ত হয়েছে। ইতিমধ্যেই ২২ জনের অস্ত্রোপচার হয়ে গিয়েছে। বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হয়েছে প্রায় ৫,০০০ জনকে। নন্দীগ্রামের দু’টি ব্লকের সেবাশ্রয় শিবিরেই প্রতিদিন মানুষের ভিড় হয়েছে চোখে পড়ার মতো। প্রসঙ্গত, শিবির শুরুর দিন নন্দীগ্রামে গিয়েছিলেন অভিষেকও।
শুভেন্দুর বিধানসভায় এই শিবির ১৬ দিন ধরে চালানো সাংগঠনিক ভাবে তৃণমূলের জন্য ছিল চ্যালেঞ্জের। কারণ, নন্দীগ্রামের তৃণমূলের সংগঠনে সেই বাঁধন যে নেই, তা প্রথম সারির নেতারা সকলেই জানেন। সে কারণেই কলকাতা থেকে দুই ‘দূত’ সুশান্ত ঘোষ এবং ঋজু দত্তকে পাঠিয়েছিলেন অভিষেক। ক্যামাক স্ট্রিটের অভিষেকের অফিস থেকেও পৃথক বাহিনী সেখানে মাটি কামড়ে পড়ে ছিল। নন্দীগ্রাম ছেড়ে নড়েননি তমলুকের জেলা সভাপতি সুজিত রায়ও। গত রবিবারেও সেবাশ্রয় শিবিরে শাসকদলের নেতারা তাঁদের দুশ্চিন্তার কথা বলছিলেন একান্ত আলোচনায়। তাঁদের বক্তব্য ছিল, অসুস্থ কারও যদি এই শিবিরে এসে ভালমন্দ কিছু হয়ে যায়, তা হলে শুভেন্দু সব কিছু লন্ডভন্ড করে দেবেন। তাই সদা সতর্ক থাকতে হচ্ছে। শিবিরের অদূরে রেয়াপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একটি শিশুর মৃত্য ঘিরে সম্প্রতি উত্তেজনা তৈরি হলেও, সেই আঁচ সেবাশ্রয়ে পড়েনি। যদিও নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা প্রলয় পালের বক্তব্য, ‘‘এই শিবির করেতৃণমূল নন্দীগ্রামে কোনও দাগ কাটতে পারবে না। নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের অদূরে অভিষেকের সেবাশ্রয় আরও বেশি করে প্রমাণ করে দিল যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।’’