ঠিক কত ভোটারের নাম বাদ রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পাবে, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। কারণ, কমবেশি ৬০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য এখন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের উপর রয়েছে। তবে কমিশন সূত্রের খবর, খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে এবং পরে যত সংখ্যক মানুষ নতুন করে ভোটার তালিকাভুক্ত হতে চেয়েছেন, সেই সংখ্যাটাও কম নয়, প্রায় ৯ লক্ষ। আন-ম্যাপড এবং তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির আওতায় থাকা ভোটারদের ঝাড়াই-বাছাই চলাকালীনই নতুন ভোটারদের আবেদনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার একটা প্রতিফলন থাকতে পারে ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়। তবে ভোটের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত যাচাইয়ের আওতায় থাকা বাকি নতুন যোগ্য ভোটারদেরও তালিকাভুক্ত (সাপ্লিমেন্টারি) হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে। তা বোঝা যাবে শেষ লগ্নেই।
নতুন ভোটারের নাম তোলা বা বাদ যাওয়া নিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করে কমিশন। তাতে খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে এবং পরে সব মিলিয়ে প্রায় ৯.১৭ লক্ষ ভোটার নতুন নাম তোলার আবেদন জানিয়েছেন ফর্ম-৬ দাখিল করে। তাঁদের মধ্যে তালিকা প্রকাশের আগে প্রায় ৩.৩১ লক্ষ এবং খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে প্রায় ৫.৮৬ লক্ষ মানুষ এই আবেদন জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ রেখেই প্রকাশ পেয়েছিল খসড়া ভোটার তালিকা। সেই গোত্রের মধ্যে ছিলেন অনুপস্থিত, ঠিকানা বদল, মৃত এবং ডুপ্লিকেট (এএসডিডি)। ফলে সেই তালিকা প্রকাশের পরে যাঁরা নতুন নাম তুলতে আবেদন করেছেন, মনে করা হচ্ছে— অনুপস্থিত এবং ঠিকানা বদল গোত্রের ভোটারদের একাংশ তাঁদের মধ্যে রয়েছেন। ডুপ্লিকেট বা জীবিত সত্ত্বেও তালিকায় মৃত হয়ে গিয়েছেন, তাঁদেরও কেউ আবেদন করতেই পারেন। কমিশন সূত্র জানাচ্ছে, সব গোত্রের ভোটারদেরই ফর্ম-৬ দাখিল করার স্বাধীনতা রয়েছে। তবে নিজের আবেদনের যোগ্যতা প্রমাণে দিতে হবে উপযুক্ত নথি।
জেলা প্রশাসনগুলি জানাচ্ছে, নতুন নাম তোলার আবেদন খতিয়ে দেখার কাজ চলছে সমান্তরালেই। কিন্তু আন-ম্যাপড এবং তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির বিপুল নথি খতিয়ে দেখতে গিয়ে সে কাজের গতি তুলনায় কিছুটা কমেছে। কমিশনের বিধি অনুযায়ী, সেই কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আবেদনকারীদের শুনানিতে ডাকা হবে কি না, তা নির্ভর করছে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও) উপর।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)