E-Paper

সাহায্যের সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা কমাতে চান অভিষেক

তৃণমূলের তিন বারের সরকার নিয়ে অভাব-অভিযোগ বিস্তর। সেই সূত্রে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলিতে আসনের হিসাব সন্তোষজনক হলেও বিরোধিতার আঁচও পেয়েছে তারা। এই অবস্থায় তারা এসআইআর-এর সঙ্গে দলকে জুড়ে দিয়ে বোঝা কমাতে চেয়েছে।

রবিশঙ্কর দত্ত

শেষ আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ ০৭:২৪
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজ্যে প্রতিষ্ঠান- বিরোধিতা কিছুটা পিছনে চলে গিয়েছে বলেই মনে করছে তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে এই প্রক্রিয়ায় যত বেশি সংখ্যক সম্ভব ভোটারের সঙ্গে দলের যোগসূত্র তৈরিতে কোমর বেঁধেই নেমেছেন দলীয় নেতৃত্ব। গণনাপত্র বিলির প্রথম চার দিনে প্রায় ছ’হাজার শিবিরে প্রত্যাশা মতো সাড়া পাওয়া গিয়েছে বলেও মনে করছেন তাঁরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সবিস্তার কথা হয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

তৃণমূলের তিন বারের সরকার নিয়ে অভাব-অভিযোগ বিস্তর। সেই সূত্রে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলিতে আসনের হিসাব সন্তোষজনক হলেও বিরোধিতার আঁচও পেয়েছে তারা। এই অবস্থায় তারা এসআইআর-এর সঙ্গে দলকে জুড়ে দিয়ে বোঝা কমাতে চেয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব মনে করছেন, প্রাথমিক ভাবে এসআইআর নিয়ে দলের প্রচারে সাড়া মিলেছে। বিভিন্ন জেলায় দল যে সহায়তা শিবির শুরু করেছে, তার রিপোর্টে সন্তুষ্ট দলীয় নেতৃত্ব। দলের এক নেতার কথায়, “ফর্ম পূরণে সহায়তার পরে নথি সংগ্রহ এবং তা পাওয়ার কাজে ভোটারকে সাহায্য করা হবে। তাতে শিবিরের এই পরিকল্পনা আরও কার্যকর করা যাবে।” আসলে এই সুযোগে রাজনৈতিক বক্তব্য ছাড়াই ভোটারের সঙ্গে শাসক দলের স্থানীয় নেতারা যোগাযোগ বাড়াতে চাইছেন বলে মেনে নিয়েছেন তিনি। সে ক্ষেত্রে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির যে অভিযোগ রয়েছে, এসআইআর নিয়ে হয়রানির অভিযোগে সেই তির বিজেপির দিকে ঘুরিয়ে দিতে চাইছেন তাঁরা।

২০২১ ও ২০২৪ সালে দলের প্রচারে তৃণমূল যে দু’টি কর্মসূচি নিয়েছিল, সেই দু’টিকে সঙ্গে নিয়ে ইতিমধ্যেই সক্রিয় পরামর্শদাতা সংস্থা। যে ‘দিদির দূত’ অ্যাপ্লিকেশনে সরকার-বিরোধী জনমত সংগ্রহ করা হয়েছিল, এ বার তাকেই ভোটার সহায়তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজ্যব্যাপী তৃণমূল যে শিবিরের পরিকল্পনা করেছে, পিছন থেকে তার দায়িত্ব সামলাচ্ছে ভোটকুশলী সেই সংস্থাই। সেই লক্ষ্যেই ৮০ হাজার বুথের জন্য নির্বাচিত দুই স্তরের দলীয় এজেন্টদের (বিএলএ) সঙ্গে সমন্বয় রাখছে তারাই। প্রযুক্তিগত সাহায্যের পাশাপাশি এই সংস্থার একটি শাখা নিয়ম করে রিপোর্ট দিচ্ছে অভিষেকের দফতরে। দলের এক নেতার কথায়, “নিয়ম করেই তা নিয়ে মমতা-অভিষেক আলোচনা হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, এ বারের নির্বাচনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা এসআইআর-এর কাজের পূর্ণ দায়িত্ব অভিষেকের হাতেই ছেড়েছেন তৃণমূল নেত্রী। সেই মতোই এনুমারেশন ফর্ম বিলির দিন পনেরো পরেই জেলায় যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। শিবির ঘুরে ভোটার সহায়তার কাজ দেখভালের কথা বলা হলেও এই সূত্রে এসআইআর ও বিজেপিকে এক বন্ধনীতে এনে প্রচারই লক্ষ্য তাঁদের। ভোট নিয়ে এ বার গোড়া থেকেই মমতা-অভিষেকের এই সমন্বয়ও নজরে এসেছে দলীয় নেতৃত্বের। দলের এক নেতার কথায়, “এসআইআর নিয়ে মিছিলের দিনই মমতাদি বুঝিয়ে দিয়েছেন, সংগঠনে শেষ কথা অভিষেকই। তাই জোড়াসাঁকোর সে দিনের গুরুত্বপূর্ণ ওই সভায় তিনি ছাড়া একমাত্র বক্তা হিসেবে অভিষেককে বেছে দিয়ে সেই বার্তা দিয়েছেন মমতাই।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Abhishek Banerjee TMC Inner Conflict TMC Special Intensive Revision

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy