Advertisement
E-Paper

ছ’দিন নিখোঁজ, মিলল দেহ

স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন পরের দিন ফিরেই বাজার করবেন। কিন্তু তাঁর আর ফেরা হয়নি। ছ’দিন নিখোঁজ থাকার পরে পচাগলা দেহ উদ্ধার হল ওই ব্যক্তির।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:৩৩
নিহত নিয়ামত শেখ। —নিজস্ব চিত্র।

নিহত নিয়ামত শেখ। —নিজস্ব চিত্র।

স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন পরের দিন ফিরেই বাজার করবেন। কিন্তু তাঁর আর ফেরা হয়নি। ছ’দিন নিখোঁজ থাকার পরে পচাগলা দেহ উদ্ধার হল ওই ব্যক্তির।

মঙ্গলবার সকালে মহম্মদবাজার থানার দেউচার কাছে মোরগ্রাম-রানিগঞ্জ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধারে একটি কালভার্টের তলা থেকে ওই দেহ উদ্ধার হয়। দেহ পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। সেই গন্ধ পেয়ে স্থানীয় লোক জনই পুলিশে খবর দেন। পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া দেহটি নিয়ামত শেখের (৫২)। পেশায় ট্রাক চালক নিয়ামতের বাড়ি স্থানীয় সোতশালে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ওই ট্রাক চালককে খুন করে ওই জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ওই খুনে জড়িত সন্দেহে ট্রাকটির খালাসি শেখ বাপনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ দিনই সিউড়ি আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, মাস তিনেক আগে পুরনো মালিককে ছেড়ে গ্রামেরই বাসিন্দা আকবর আলির ট্রাকের চালক হিসাবে কাজে যোগ দেন নিয়ামত। প্রায় নিয়মিত পাঁচামি এলাকা থেকে পাথর বোঝাই করে বিভিন্ন জায়গায় তা নিয়ে যেতেন। খালাসি হিসেবে ছিলেন তাঁরই পড়শি বছর উনিশের যুবক শেখ বাপন। পরিবারের দাবি, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ বাড়ি থেকে বের হন নিয়ামত। বেরনোর আগে স্ত্রী সাবিনা বিবিকে জানান, পাঁচামিতে পাথর লোড করে আরামবাগে যাবেন। পরের দিন বাড়ি ফিরবেন। ফিরে বাজারও করবেন। তার পর থেকে বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না নিয়ামতবাবুর। সাবিনার দাবি, ‘‘বৃহস্পতিবার রাত ১০টা নাগাদ খাওয়ার পরে স্বামীকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু বাপন সেই ফোন ধরে জানায়, ‘দাদু (নিয়ামত) এখন ঘুমাচ্ছে’। তার পরেও দু’বার ফোন করি। বাপন একই কথা বলে।’’ পরের দিন সকাল থেকে স্বামীকে আর ফোনে পাননি তিনি। সাবিনা আরও জানান, দু’দিন পরে শনিবার সকালে ট্রাক মালিক তাঁকে ফোন করে নিয়ামত ফিরেছেন কিনা জিজ্ঞাসা করেন। তখনই তিনি জানতে পারেন, সত্যি করেই তাঁর স্বামীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

Advertisement

ট্রাক মালিক আবসার আলি এ দিন দাবি করেন, গত শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ আরামবাগ থেকে কিছুটা দূরে পাথর খালি করার পরে তাঁর সঙ্গে নিয়ামতের কথা হয়। সন্ধে পর্যন্ত না ফেরায় রাত ৮টা নাগাদ খালাসি বাপনকে তিনি ফোন করেন। আবসারের কথায়, ‘‘বাপন সিউড়িতে জ্যামে ফেঁসে আছে জানিয়েই ফোন রেখে দেয়। শনিবার সকালে নিয়ামতকে ফোন করলে তাঁর ফোন স্যুইচ অফ বলে। তখন বাপনকে ফের ফোন করি। আমাকে জানায়, মায়ের শরীর খারাপ থাকায় সে খরচের টাকা নিয়ে সিউড়ির কাখুরিয়ায় চলে গিয়েছে। পেমেন্টের সব টাকা দাদুর কাছে আছে।’’ আবসারের দাবি, পাথর বিক্রি বাবাদ ৪০ হাজারেরও বেশি টাকা ছিল নিয়ামতের কাছে।

এ দিকে, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মোটামুঠি এই সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছেছে, ওই টাকার লোভেই গলায় মাফলারের ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে নিয়ামতকে খুন করা হয়েছে। ওই কাণ্ডে বাপনের জড়িত থাকার সন্দেহ করছে পুলিশ। তাই এ দিন সকালেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হেফাজতে নিয়ে বাপনকে জেরা করলেই এ ব্যাপারের তথ্য মিলবে বলে পুলিশের দাবি। নিহতের পরিবারেরও দাবি, ওই টাকার লোভেই ট্রাক চালক নিয়ামতকে খুন করা হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy