E-Paper

‘সম্ভাবনা’র বর্ধমানে প্রথম সফরে সভাপতি নিতিন

সভাপতি হয়ে নবীনের প্রথম রাজ্য সফরেই বর্ধমানকে কেন বেছে নেওয়া হল? বিজেপি সূত্রের দাবি, এর পিছনে রয়েছে নির্বাচনী গণিত।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৭
নিতিন নবীন।

নিতিন নবীন। ফাইল চিত্র।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধ (এসআইআর) ঘিরে প্রবল বিতর্কের মধ্যে রাজ্যে আসছেন বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তাঁর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফরে গন্তব্য থাকছে দুর্গাপুর ও আসানসোল। বিধানসভা ভোটে রাঢ়বঙ্গে বিজেপির ‘সম্ভাবনা’ দেখতে পাওয়ার সঙ্গে এই সফর-সূচির যোগ আছে বলেই দলীয় একটি সূত্রের মত।

সব ঠিক থাকলে আজ, মঙ্গলবার অন্ডাল বিমানবন্দরে নেমে দুর্গাপুরে যেতে পারেন নবীন। সেখানে একটি মেলার উদ্বোধন করার পরে রাজ্য কোর কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা তাঁর। পর দিন, বুধবার সকালে কালী মন্দিরে পুজো দিয়ে একটি জনসভায় যোগ দিতে পারেন। পরে আসানসোলে দলের রাঢ়বঙ্গ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা তাঁর।

সভাপতি হয়ে নবীনের প্রথম রাজ্য সফরেই বর্ধমানকে কেন বেছে নেওয়া হল? বিজেপি সূত্রের দাবি, এর পিছনে রয়েছে নির্বাচনী গণিত। দলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষক সংস্থার দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, মধ্য ও রাঢ়বঙ্গে এ বার ধাক্কা খেতে পারে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস। সেই জায়গাতেই জমি শক্ত করতে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে পদ্ম-শিবির। তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘‘ভারী শিল্প ছাড়া পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচানো সম্ভব নয়। দুর্গাপুর, রানীগঞ্জ, আসানসোল পশ্চিমবঙ্গের পুরনো ভারী শিল্পাঞ্চল। শিল্প সম্ভবনা পুনরুজ্জীবনের বার্তা দিতেই সর্বভারতীয় সভাপতির সফরের এই জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছে।’’

রাজ্যে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসানসোল, বর্ধমান-দুর্গাপুর, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, পুরুলিয়া জিতে সাড়া ফেলে দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ওই এলাকায় শক্তিক্ষয় হয়েছিল বিজেপির। তার পরে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসানসোল, বর্ধমান-দুর্গাপুর, বর্ধমান-পূর্ব, বাঁকুড়া হাতছাড়া হয়েছে তাদের। কোনও মতে টিকে ছিল বিষ্ণুপুর এবং পুরুলিয়া। কিন্তু এর মধ্যেও বিজেপি রুপোলি রেখা দেখছে। পাটিগণিতের হিসেবে বর্ধমানের আসানসোল উত্তর, রানীগঞ্জ, দুর্গাপুর পূর্ব, বর্ধমান দক্ষিণ, পূর্বস্থলী উত্তরে তৃণমূলের এগিয়ে থাকার ব্যবধান ১০ হাজারের নীচে। এ ছাড়া, রামপুরহাট, বলরামপুর, জয়পুর, কাশীপুর, রঘুনাথপুর, ছাতনা, রানিবাঁধ, তালড্যাংরা, ইন্দাসেও একই চিত্র। জামুড়িয়া, কালনা, কাটোয়া, সিউড়ি শালতোড়ায় তৃণমূলের ব্যবধান ১৫ হাজারের কম। ফলে, এই আসনগুলির দিকে বাড়তি নজর দিচ্ছে বিজেপি।

এর বাইরেও বারাবনী, কুলটি, আসানসোল দক্ষিণ, দুর্গাপুর পশ্চিম, পাণ্ডবেশ্বর, গলসি, সোনামুখী, কোতুলপুর, বিষ্ণুপুর, ওন্দা, বড়জোড়া, বাঁকুড়া, রাইপুর, পুরুলিয়া, পাড়া, ময়ূরেশ্বর, সাঁইথিয়া, দুবরাজপুরে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিধানসভা বা লোকসভা, কোনও না কোনও নির্বাচনে বিজেপি এগিয়ে ছিল। সব মিলিয়ে পরিসংখ্যানগত তথ্যই বিজেপিকে এই অঞ্চলকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে উৎসাহ দিচ্ছে। রাজ্য বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘‘নিতিন’জি সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার পরে প্রথম বড় নির্বাচন আসছে। তাই সম্ভাবনাময় জায়গা থেকেই তিনি শুরু করবেন। পশ্চিমবঙ্গকে তিনি আলাদা করে গুরুত্ব দিচ্ছেন।’’

প্রসঙ্গত, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক এবং দলের রাজ্য নেতাদের সঙ্গে এক প্রস্ত বৈঠক সেরেছেন নবীন। রাজ্যের শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ভেঙে পড়া, তোষণের রাজনীতি, দুর্নীতি, সার্বিক আইনশৃঙ্খলার অবনতির বিষয়ে কথা হয়েছিল বৈঠকে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP Nitin Nabin

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy