E-Paper

ভোট-পর্ব পিছনে ফেলে এভারেস্টের পথে শুভম-লক্ষ্মী

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্যে। ভোটের আগে জোরকদমে চলছে প্রার্থীদের প্রচার। তবে সেই দিকে আপাতত নজর নেই বছর তিরিশের শুভম ওরফে রনির।

স্বাতী মল্লিক

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৫৭
(বাঁ দিকে) শুভম চট্টোপাধ্যায় এবং লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) শুভম চট্টোপাধ্যায় এবং লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

এক জনের নজরে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে সপ্তশৃঙ্গ ও সপ্ত আগ্নেয়গিরিতে সফল আরোহণ করে রেকর্ড গড়া। অপর জন বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের পথে দ্বিতীয় বার এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে পড়শি শৃঙ্গেও পা ফেলতে চান। তবে দু’জনেরই লক্ষ্য ভিন্ন হলেও গন্তব্য একটাই— এভারেস্ট (৮৮৪৯ মিটার)। এ বছরের পাহাড়ি মরশুমে সর্বোচ্চ শৃঙ্গে অভিযান চালাতে চলতি মাসেই ভোটের শহর থেকে নেপালের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিতে চলেছেন হিন্দমোটরের শুভম চট্টোপাধ্যায় এবং বেঙ্গল পুলিশের লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল।

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্যে। ভোটের আগে জোরকদমে চলছে প্রার্থীদের প্রচার। তবে সেই দিকে আপাতত নজর নেই বছর তিরিশের শুভম ওরফে রনির। বরং আট হাজারি অভিযানের আগে জিমেই নিজেকে নিংড়ে নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছেন। বলছেন, ‘‘গত সেপ্টেম্বরে মানাসলু দিয়ে আমার আট হাজারি শৃঙ্গে হাতেখড়ি হয়েছে। তবে এভারেস্ট সহজ হবে না। বেশি উচ্চতায় বেশি সময় ধরে থাকব, ততই শারীরিক সমস্যার আশঙ্কা বাড়বে। তবে আমি আশাবাদী, সব ঠিকঠাক হবে।’’

মাত্র ২৫ দিনে আন্টার্কটিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার তিনটি শৃঙ্গে সফল আরোহণ করেছেন শুভম। আন্টর্কটিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ভিনসন ম্যাসিফ (৪৮৯২ মিটার), সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি সিডলি (৪২৮৫ মিটার) এবং দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ অ্যাকঙ্কাগুয়ার (৬৯৬১ মিটার) শীর্ষ ছুঁয়ে গত ফেব্রুয়ারিতেই ঘরে ফিরেছেন। কিন্তু তার পরে বিশ্রাম নয়, বরং এভারেস্টের জন্য প্রতিদিন নিজেকে তৈরি করছেন। সেই সঙ্গে রয়েছে তাঁর ভ্রাতৃপ্রতিম, বিশিষ্ট পর্বতারোহী নির্মল পূরজার পরামর্শ।

শুভম বলছেন, ‘‘নির্মল দাইয়ের কথা বলার ভঙ্গিটাই খুব অনুপ্রেরণাদায়ক। আমার কাছে উনি বড় দাদার মতো। নিজেকে নিয়ে সন্দেহ হলেই ওঁর শরণাপন্ন হই। অ্যাকঙ্কাগুয়া অভিযান যে মাত্র দু’দিনে করতে পারব, সেই বিশ্বাসটা উনিই আমার উপরে রেখেছিলেন। এভারেস্টের পথে ওঁর মতো পথপ্রদর্শককে পাশে পাব, এটাই আমার কাছে অনেক।’’ যদিও বাড়িতে মা-বাবার উদ্বেগ তাতে কাটছে না। মজা করে শুভম বলছেন, ‘‘ইউটিউবে এভারেস্ট নিয়ে ভিডিয়ো খুললেই সবাই ভয়ে কাঁটা হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাড়িতে টেনশন-পর্ব চলছে। রোজ আমায় ভাল-মন্দ রান্না খাওয়ানো হচ্ছে।’’

রেকর্ডের পথে এখনও শুভমের বাকি তিনটি শৃঙ্গ— এভারেস্ট, উত্তর আমেরিকার দেনালি এবং ইরানের সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি দামাভান্দ। এভারেস্টের লক্ষ্যপূরণ হয়ে গেলেই দেনালির দিকে মন দেবেন শুভম। তবে ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে দামাভান্দের পথে কবে এগোতে পারবেন, তা নিয়ে সন্দিহান তিনি।

চলতি সপ্তাহে কাঠমাণ্ডু যাচ্ছেন এভারেস্টজয়ী লক্ষ্মীকান্তও। আদতে পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা, বেঙ্গল পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত, বছরের ছত্রিশের লক্ষ্মীর প্রথম আট হাজারি শৃঙ্গে হাতেখড়ি গত বছর, এভারেস্টেই। প্রথম বারই সাফল্যের মুখ দেখেন। কলকাতার প্রাক্তন নগরপাল মনোজ বর্মার স্নেহধন্য লক্ষ্মী তাই এ বারও সেই চেনা পথেই ফিরতে চলেছেন। ভোটের সময় হলেও কর্মক্ষেত্রে ছুটি পেতেও তেমন সমস্যা হয়নি তাঁর।

কেন আবার এভারেস্ট? অনেকেই করছেন এই প্রশ্নটা। লক্ষ্মীর জবাব, ‘‘কারণ, আমার ইচ্ছে।’’ সেই সঙ্গে এ বার পড়শি লোৎসেকেও (৮৫১৬ মিটার) ছুঁয়ে আসতে চান। জোড়া অভিযানের জন্য খরচ হবে প্রায় ৫০ লক্ষ, যা জোগাড় হয়েছে পুলিশকর্তার সাহায্যেই। লক্ষ্মীর কথায়, ‘‘একই জায়গায় বার বার গেলে সেখানকার খুঁটিনাটি জানা সম্ভব। এ বার আমি আগে থেকেই জানি, কোথায় কোথায় বাজে খরচ আমি বাদ দিতে পারি। এ ভাবেই এভারেস্ট অভিযানের বাজেট কমানোর চেষ্টা করব।’’

গত বছর এভারেস্টে গগল্‌স-বিভ্রাটের জেরে অল্পের জন্য ফসকে গিয়েছিল লোৎসের স্বপ্ন। ‘সামিট পুশ’-এর সময়ে হিলারি স্টেপের আগে তুষারঝড়ে পড়ে চোখের গগল্‌স খুলে ব্যাগে রেখেছিলেন লক্ষ্মী। পরে তা পরতে ভুলে যান। ক্যাম্প ৪-এ ফিরে পরদিন সকালে দেখেন, চোখ খুলতে পারছেন না। ফলে নীচে নেমে আসতে হয় তাঁকে। এ বার যাতে সেই ভুল না হয়, সে জন্য সতর্ক লক্ষ্মী।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mountain Expeditions Mount Everest Mountaineers

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy